বগুড়া সংবাদ ডট কম (শাজাহানপুর প্রতিনিধি জিয়াউর রহমান) : বগুড়া শাজাহানপুরের আমরুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটলের বিরুদ্ধে সরকারী অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ১%, এলজিএসপি, এডিপি, টিআর, কাবিখা, কাবিটা, ৪০ দিন কর্মসূচি, ভিজিডিসহ সরকারী কোন প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউপি সদস্যদের সাথে মিটিং না করে বিএনপি ও জামায়াত পন্থি কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে যোগসাজসে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে অর্থ আত্মসাতের ২১টি চিত্র তুলে ধরে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ ১৩ আগস্ট বগুড়া জেলা প্রশাসক বরাবর দাখিল করা হয়। যার অনুলিপি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের বরাবর প্রেরণ করা হয়েছে।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল ২০১৫-১৬ অর্থ বছরেরর ১% বরাদ্দের প্রথম কিস্তি ইউনিয়ন পরিষদের কম্পিউটার ও পানির পাম্প ক্রয় বাবদ ১ লক্ষ ৮ হাজার এবং ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের দ্বিতীয় কিস্তি পরিষদের বিদ্যুত বিল বাবদ ১ লক্ষ ৫ হাজার টাকা খরচ দেখিয়েছেন। যার মধ্যে ব্যাপক দূর্নীতি রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান পরিষদে সদস্যের সাথে মিটিং না করে অজ্ঞাতনামা একটি এনজিও কে নিয়ে এসে চৌকিদারি ট্যাক্র আদায় করে মাত্র ৯ হাজার টাকা ব্যাংক একাউন্টে জমা করে ইউনিয়নের চৌকিদারী ট্যাক্রের লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করেছে।
২০১৫-১৬ অর্থ বছরের এলজিএসপি বরাদ্দ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্রীড়া সামগ্রী বিতরন প্রকল্পে ক্রীড়া সমগ্রী বিতরন না করেই প্রকল্পের ১ লক্ষ ১৮ হাজার ১’শ ৫৬ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে। যে প্রকল্পটি এলজিএসপি বরাদ্দ থেকে দেয়ার কোন ইখতিয়ার নেই।
একই অর্থ বছরের এলজিএসপি বরাদ্দ ফুলকোট মোজাম্মেল সরকারের বাড়ি হতে ইউনুসের বাড়ি পর্যন্ত ইট বিছানো প্রকল্পে ইউপি সদস্য উজ্জলকে সভাপতি করে প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছে। অথচ ওই স্থানে ২০১৪-১৫ অর্থ বছরের এডিপি বরাদ্দে পূর্ব থেকেই ইট বিছানো ছিল।
এছাড়াও একই অর্থ বছরে এলজিএসপি বরাদ্দ রাধানগর আমিন বাজার হতে মান্নান মাষ্টারের বাড়ি পর্যন্ত ইট বিছানো প্রকল্পের সভাপতির মাধ্যমে প্রকল্পের ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছে। অথচ ওই স্থানে সাবেক ইউপি সদস্যা আনজুমান আরা ২০১২-১৩ অর্থ বছরে এলজিএসপি বরাদ্দে ইট সোলিং করেছিলেন।
২০১৬-১৭ অর্থ বছরের এডিপি বরাদ্দে ফুলকোট বারী দেওয়ানের বাড়ি হতে পাকা রাস্তার মাথা পর্যন্ত সোলিং প্রকল্পের ১ লক্ষ টাকা কোন কাজ না করেই আত্মসাত করা হয়েছে।
এছাড়া ২০১৭-১৮ অর্থ বছরের ভিজিডি কর্মসূচিতে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে গরিব পবিারকে বঞ্চিত করে ধনাঢ্য পরিবারে কার্ড দেয়া হয়েছে। উদাহরন সরূপ শৈলধুকড়ি গ্রামের আনিছুর রহমানের স্ত্রী জাহানারা বেগমের স্বচ্ছল পরিবারকে দেখানো হয়েছে। যার কার্ড নং-১৭৯। পপি আক্তার নামে মাতৃত্বকালিন ভাতাভোগীকে পুনরায় ভিজিডি কার্ড দেয়া হয়েছে। যা সরকারী নিয়ম-নীতির বাহিরে।
এ সমস্ত কারনেই ভিজিডি কমিটির প্রতিনিধিদের নিয়ে কোন মিটিং না করে প্রতিনিধির স্বাক্ষর জাল করে মিটিং দেখিয়ে অনিয়মতান্ত্রিক ও দূর্নীতির মাধ্যমে ভিজিডি উপকারভোগীদের তালিকা তৈরী করার অভিযোগে ইউএনও বরাবর অভিযোগ করেন সালমা বেগম নামে ভিজিডি কমিটির এক প্রতিনিধি।
এছাড়াও গ্রামীণ অবকাঠাামো উন্নয়ন (টিআর), কাবিটা, কাবিখা, এডিপি, ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি, ট্রেড লাইসেন্স ও জন্ম নিবন্ধনে ব্যাপক অনিয়ম ও দূর্নীতির মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাত করা হয়েছে।
আমানউল্যাহ নামে তথ্য ও সেবা কেন্দ্রের এক চাকরীচ্যুত উদ্যোক্তা বলেন, চেয়ারম্যান সাহেব ইউপি সচিবকে দিয়ে প্রতিদিন তার কাছে জন্ম নিবন্ধনের টাকা দাবী করতো। কথা না শোনায় তাকে চাকরীচ্যুত করা হয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান অটল সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, নিয়মতান্ত্রিক ভাবে সমস্ত প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করা হয়েছে। সুবিধা না পেয়ে একটি চক্র ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ কামরুজ্জামান বলেন, জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর অভিযোগের অনুলিপি পেয়েছি। জেলা প্রশাসক মহোদয় উপজেলার যেকোন দপ্তরের কর্মকর্তার উপর অভিযোগের তদন্তভার অর্পণ করতে পারেন। লোকাল অথোরিটি হিসেবে আমি জানলাম। আমিও বিষয়টি দেখবো।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন