বগুড়া সংবাদ ডট কম (গাবতলী প্রতিনিধি জাহাঙ্গীর আলম লাকী) : বগুড়ার গাবতলীতে হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতবাড়ী, কবরস্থান ও কয়েকটি হিন্দু পরিবার উচ্ছেদ করে সরকারী প্রকল্পের আওতায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে। এতে ফুঁসে উঠেছে ভুক্তভোগী হিন্দু সম্প্রদায় ও ভূমির মালিকেরা।
জানা গেছে, বর্তমান সরকার সারাদেশের জেলা ও উপজেলা সদরে মোট ৫’শ ৬০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্র নির্মাণের ঘোষনা দেয়। এরই ধারাবাহিকতায় বগুড়ার গাবতলী উপজেলার পুরান বাজারের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকায় খাস জমিতে স্থান নির্ধারণ করে এরআগে পরিকল্পনাপত্র উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু খাস জমিটি মসজিদ নির্মাণের জন্য পর্যাপ্ত পরিমান জায়গা না হওয়ায় তা ফেরত পাঠানো হয়। এরই প্রেক্ষিতে গাবতলী সদরে মডেল মসজিদ নির্মাণের দায়িত্বশীলরা তড়িঘড়ি করে ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতবাড়ী, কবরস্থান ও কয়েকটি হিন্দু পরিবারের বসতবাড়ীর জায়গা নির্ধারণ করে আবারো উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে পরিকল্পনাপত্র পাঠানো হচ্ছে বলে ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন। এ প্রসঙ্গে ব্যক্তি মালিকানাধীন বসতবাড়ীর মালিক হেলেনা বেগম বলেন, “আমার বাবা-মা অনেক আগে মারা গেছেন। তাঁদেরকে আমি বসতবাড়ীর একধারে কবরস্ত করে স্বামী-সন্তান নিয়ে বসবাস করে আসছি। কিন্তু এখন ওই জায়গা জোরপূর্বক মালিকানা ভূমি দখল করে সরকারী মডেল মসজিদ ও ইসলামিক ফাউন্ডেশন কেন্দ্র নির্মাণ করে আমাদেরকে রোহিঙ্গার মতো উচ্ছেদ করা হবে বলে শুনতে পাচ্ছি।” এছাড়াও ওইস্থানে বসবাসকারী হিন্দু সম্প্রদায়ের মৃত রামধনি রাজভরের ছেলে রামনাথ (৭০), দুদু নাথ (৫২), গণেশ এর স্ত্রী স্থানীয় সাংবাদিকদের বলেন, তারা প্রায় দেড়’শ বছরের (১৮৩০সাল হতে) অধিক সময় হতে বংশ পরম্পরায় পুরান বাজার এলাকায় বসবাস করে আসছেন। এখন এই বুড়ো বয়সে এসে বাড়ীঘর হারিয়ে ফেললে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে কোথায় গিয়ে দাড়াবেন বলে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন? স্থানীয় সচেতনমহল জানান, যেদেশে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকার মানবিক বিষয় বিবেচনা করে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদের পুনর্বাসন করছে সেখানে এদেশেরই বগুড়া গাবতলীর পুরান বাজারে কয়েকটি হিন্দু পরিবারকে তাদের বসতবাড়ীর জায়গা হতে উচ্ছেদ করা আদৌ কী ঠিক হবে? তাছাড়া ওই পুরান বাজারে আহলে হাদিস এর নবনির্মিত মসজিদসহ পাশাপাশি দুটি মসজিদও রয়েছে। একারণে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণে অবস্থিত ফিসারীর দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জায়গায় কিংবা অন্য কোন জনবহুল জায়গায় মসজিদটি নির্মাণ করা হলে সরকারের মহৎ উদ্দেশ্য সফল হবে। এ ব্যাপারে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) দপ্তরের সার্ভেয়ার আব্দুল মান্নান বলেন, সরকারের প্রয়োজনে যেকোন সময়ে যেকোন ব্যক্তি মালিকানা জায়গা একোয়ার করে নিতে পারেন। এতে কারো কিছু করার নেই।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন