বগুড়া সংবাদ ডট কম ( ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় দুইটি মেলার সরকারী রাজস্বের টাকা ক্ষমতাসীন নেতাদের পকেটে উঠেছে। সিন্ডিকেট তৈরী করে স্বল্পমূল্যে দরপত্রের মাধ্যমে সরকারী রাজস্বের টাকা হাতিয়ে নেন তারা। এতে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
জানাগেছে, ধুনট উপজেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছরের ন্যায় গত ৯ জানুয়ারী কালেরপাড়া ইউনিয়নের কাদাই ও বক্সার মেলার দরপত্র আহবান করা হয়। আগামী ৩০ জানুয়ারী কাদাই ও ৬ ফেব্রুয়ারী বক্সার মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তন্মধ্যে কাদাই মেলার দরপত্র ক্রয় করেন ৭জন এবং বক্সার মেলার দরপত্র ক্রয় করেন ১৬জন। কিন্তু ২২ জানুয়ারী দরপত্র জমাদানের নির্ধারিত দিনে কাদাই ও বক্সার মেলার দরপত্র জমা দেন মাত্র ৩ জন করে। তন্মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ৫০০ টাকায় আব্দুল গফফর কাদাই মেলা এবং ১ লাখ ৩২ হাজার টাকায় কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তি বক্সার মেলার সর্বোচ্চ দর দাতা হিসেবে চুড়ান্ত হয়। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতাকর্মী সিন্ডিকেট তৈরী করে স্বল্পমূল্যে দরপত্র দাখিল করেছেন। এতে সরকার বিপুল পরিমান রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দরপত্র ক্রয়কারী কয়েক ব্যক্তি জানান, প্রতিবছর বক্সার মেলা ৩/৪ লাখ টাকা এবং কাদাই মেলা ১ লাখ টাকার ওপরে দরপত্র জমা পড়ে। কিন্তু এবছর ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা উপজেলা পরিষদে অবস্থান নিয়ে দরপত্র জমা দিতে বাধা দিয়েছেন। তারা সিন্ডিকেট তৈরী করে দুই মেলায় মাত্র ৩ জন করে দরপত্র জমা দিয়েছে। এ কারনে স্বল্প মূল্যে দুটি মেলার দরপত্র জমা পড়ে। এতে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।
তবে ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মহসীন আলম বলেন, মেলার টেন্ডার বিষয়ে দলের কোন নেতাকর্মী জড়িত নয়।
এবিষয়ে ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, দুইটি মেলার ২৩টি দরপত্র বিক্রি হলেও মাত্র ৬ জন ব্যক্তি দরপত্র জমা দিয়েছেন। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ দর দাতা মেলার অনুমোদন পেয়েছে। তবে সিন্ডিকেটের বিষয়টি জানা নেই।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন