বগুড়া সংবাদ ডট কম : বগুড়া শহর যুবলীগের বহিষ্কৃত যুগ্ম সম্পাদক ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার আদালতে আত্মসমর্পন করলে তাকে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়। বুধবার সকালে হত্যা মামলার পলাতক আসামী মতিন বুধবার বগুড়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ -১ এর বিচারক মুহা: ইমদাদুল হকের আদালতে হাজির হয়। তার আইনজীবীরা বিজ্ঞ বিচারকের কাছে জামিন প্রার্থরা করলে বিচারক তা’ না মঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠাবার নির্দেশ দেন। অন্যদিকে দুদক বগুড়া মতিন ও তুফানের অবৈধ অর্থ উপার্জনের তথ্যের খোঁজ খবর নেওয়া শুরু করেছে।
গত ২৭ জুলাই মতিনের ভাই শহর শ্রমিকলীগের আহবায়ক (পরবর্তীতে বহিস্কৃত) তুফান সরকারকে ছাত্রী ধর্ষন ও মা মেয়েকে নির্যাতন করে চুল কেটে দেয়ার ঘটনায় পুলিশ গ্রেফতার করে। ওই ঘটনার প্রেক্ষিতে তুফানের গডফাদার হিসেবে তার বড় ভাই মতিনের নাম আলোচিত হয়। একটি হত্যা মামলায় মতিন পলাতক আসামী হিসেবে থাকলেও ওই সময় প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করতো। তুফানের বিষয়টি আলোচিত হওয়ার পরই মতিন গা ঢাকা দেয়।
জানা যায়, উজ্জল হত্যা মামলায় মতিন সরকারের বিরুদ্ধে ৮ বছর আগে গ্রেফতারী পরোয়ানা জারী হয়েছিল। আদালত থেকে সেই গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় পাঠানো হয়নি। কিন্ত মতিনের ছোট ভাই তুফান সরকার গ্রেফতারের পর গডফাদার হিসেবে আলোচনায় উঠে আসে মতিন সরকার। তখনই জানাজানি হয় তার গ্রেফতারী পরোয়ানার কথা। পরে জুলাই মাসে আদালত থেকে মতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানা থানায় পাঠানো হয়। এরই মধ্যে মতিন গা ঢাকা দেয়।
এপিপি এড. রেজাউল হক জানান, ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর বগুড়া সদর থানায় দায়েরকৃত মুন্সি আবু নাসের উজ্জল হত্যা মামলার প্রধান আসামী মতিন সরকার। মামলার বাদী ছিলেন নিহতের বাবা আলহাজ্ব হাফেজ আব্দুস সালাম। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ৬ ডিসেম্বর আদালতে চার্জশিট দাখিল করে সদর থানা পুলিশের এসআই আব্দুর রাজ্জাক। মামলা দায়েরের পর মতিন সরকার গ্রেফতার হয়েছিল। পরে তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন। ২০০৮ সালের জুলাই মাসের ২৯ তারিখে তার জামিন বাতিল হয়। বেশ কিছুদিন পলাতক থাকার পর বুধবার সকালে তিনি আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন।
বগুড়া সদর থানার ওসি এমদাদ হোসেন জানান, হত্যা মামলায় চলতি বছরের জুলাই মাসে মতিনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরওয়ানা জারি হয়। বুধবার সে আদালতে হাজির হয়ে জামিন প্রার্থনা করলে বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে প্রেরনের নির্দেশ দিয়েছে।
দুদক বগুড়ার সহকারী পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, ইতিমধ্যে মতিনের ভাই তুফান সরকার ও মতিনের অবৈধ অর্থ উপার্জনের তদন্ত করার অনুমতি ঢাকা থেকে পাওয়া গেছে। বিভিন্ ব্যাংক বীমায় খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। শুধু মতিন না ওই সিন্ডিকেটের অনেকের অবৈধ অর্থ উপার্জনের তদন্ত করার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন