বগুড়া সংবাদ ডট কম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। ওই শিক্ষা কর্মকর্তার অভিযোগের প্রেক্ষিতে ইতিমধ্যে বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগও নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ জানুয়ারি অন্য শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে বই বিতরণ করছিলেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম। চালান কপির মাধ্যমে বইগুলো বিতরণ করা হচ্ছিল। এ সময় আমজানী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম সেখানে নিজে না গিয়ে বই নেওয়ার জন্য তার পিয়নকে পাঠিয়ে দেন। চালান কপি না থাকায় তার পিয়নকে বই না দিয়ে অপেক্ষা করতে বলেন ওই কর্মকর্তা।

পিয়ন অপেক্ষা না করে স্কুলে চলে যান এবং এ খবর প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামকে দেন। তাজুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। সঙ্গে সঙ্গে তিনি সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিমের কাছে যান এবং বই বিতরণের কাজে বাধা দেন। এ সময় লাঞ্ছিত করেন সহকারি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা রেজাউল করিমকে। উপস্থিত অন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণ ক্ষিপ্ত তাজুল ইসলামকে থামাতে চেষ্টা করে। তাজুল ইসলাম তখন ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

জানা গেছে, শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করাসহ সরকারি কাজে বাধা প্রদান ও সরকারি চাকরিবিধি লংঘনের অপরাধে প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন মো. রেজাউল করিম।

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আলমগীর হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তদন্তে দোষী সাব্যস্ত হলে ওই প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

এদিকে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমার মাথা ঠিক ছিল না। আমি তাকে মারধর করিনি। তবে তার হাত টেনে ধরে ছিলাম। তিনি একজন সৎ মানুষ। তার সঙ্গে অশোভন আচরণের জন্য আমি অনুতপ্ত।’

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন