বগুড়া সংবাদ ডট কম (শেরপুর প্রতিনিধি রায়হানুল ইসলাম) : এক সাগর রক্ত, ৭ লাখ তাজা প্রাণ ও আড়াই লাখ মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীনতা যুদ্ধের রয়েছে হাজারও ইতিহাস। স্বাধীনতার ৪৮ বছরে বাংলাদেশের ললাটে লেগেছে অনেক অভূতপূর্ব সফলতার পালক। যা বর্তমান প্রজন্মের অনেকে জানলেও মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস অজানা রয়েছে অনেকের। আর এ ইতিহাস জানার অনেক সহজ মাধ্যম হলো ইতিহাস সম্বলিত বই পড়া। তবে স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মাঝে স্বাধীনতার ইতিহাস নিয়ে সম্যক জ্ঞানের আলো ছড়ানোর গুরু দায়িত্ব একজন শিক্ষকের কাঁধে, তাইতো বাংলাদেশ সরকার “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল পত্র ” নামক বইয়ের ১৬ খন্ডই প্রদান করে দেশে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। সেই ইতিহাস সম্বিলিত বই গত ৩ বছর যাবৎ প্রধান শিক্ষক তার আলমারিতে তালাবদ্ধ করে রেখেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়নের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ২০০৫ সালে স্থাপিত হয় দোয়ালসাড়া মডেল উচ্চ বিদ্যালয়। যেখানে বর্তমানে ৩২০জন ছাত্র/ছাত্রী অধ্যায়নরত। সেই কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদের খেয়ালীপনার কারনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানা থেকে বঞ্চিত রয়েছে প্রায় ৩ বছর যাবৎ।
সরেজমিনে ওই বিদ্যালয়ের সপ্তম, অষ্টম, নবম ও দশম শ্রেণীতে অধ্যায়নরত বেশকিছু শিক্ষার্থীদের সাথে কথা বললে তারা জানায়, আমরা মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি তাই আমরা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে তেমন কিছু জানিনা, লোকমুখে শুনে যেটুকুই জানতে পেরেছি তার অনেকটাই সঠিক না। তাই সঠিক ইতিহাস জানার জন্য আমাদের ইতিহাস সম্বলিত বই পড়া প্রয়োজন। কিন্তু আমরা সে বই পাবো কোথায়? শুনেছি স্কুলে মুক্তিযুদ্ধ সংক্রান্ত কিছু বই আছে। কিন্তু তা তাদের লাইব্রেরীতে সংরক্ষন নাই। রয়েছে প্রধান শিক্ষকের ব্যক্তিগত আলমারীতে তালাবদ্ধ অবস্থায়। শিক্ষার্থীদের সাথে সুর মিলিয়ে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষকও বলেন “বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল পত্র”বইয়ের খন্ডগুলো প্রধান শিক্ষক কেন যে আটকে রেখেছে বুঝতে পারছিনা। তাছাড়া ওই খন্ড আকারের বইগুলো পর্যায়ক্রমে ক্লাশ শেষে বিরতিপর্বে পড়ে নিজেদের জ্ঞান অর্জন করা দরকার বলেও তারা স্বীকার করেন।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয়ের সহকারি গ্রন্থাগারিক নাগর চন্দ্র সরকার বলেন, বিদ্যালয়ের লাইব্রেরীতে বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২ হাজার বইপুস্তক থাকলেও ‘‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল পত্র” নামক বইগুলো তার রেজিস্ট্রারে নাই।
এ প্রসঙ্গে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুর মোহাম্মদ বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্বলিত বইগুলো মূল্যবান হওয়ায় আলমারীতে তালাবদ্ধ রেখেছি, তবে ৩ বছর যাবৎ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কেন দেখানো হয়নি এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি নিশ্চুপ থাকেন।
এ ব্যাপারে ওই বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি রাশেদুল ইসলাম রাজু বলেন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিষয়ক মূল্যবান বইগুলোর ব্যাপারে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ পূর্বেও শুনেছিলাম এবং তাকে সতর্কও করে দিয়েছি।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ দলিল স্কুলে দেয়া হয়েছে পড়ার জন্য জানার জন্য আলমারীতে তালাবদ্ধ রাখার জন্য নয়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন