বগুড়া সংবাদ ডট কম : বগুড়া কলেজের সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রভাষক আব্দুল হান্নান অপপ্রচার করে কলেজের সুনাম ক্ষুন্ন করাসহ নানা চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজের অধ্যক্ষ। কলেজের সভাপতি, অধ্যক্ষসহ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে হেয় প্রতিপন্ন করতেই আব্দুল হান্নান গত ২৪ সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে মিথ্যা ও বানোয়াট তথ্য উপস্থাপন করেছেন। ওই সংবাদ সম্মেলনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবার বগুড়া প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বেলা সাড়ে ১১ টায় বগুড়া কলেজের অধ্যক্ষ কে.বি.এম মুসা লিখিত বক্তব্য পাঠকালে বলেন, সাময়িক বরখাস্তকৃত প্রভাষক হান্নান তার দোষ আড়াল করতেই মিথ্যাচার চালাচ্ছে। ২৩-০৯-১৭ ইং তারিখে একটি আবেদন পত্র নিয়ে সে অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে ২০০৬ সাল থেকে বকেয়া বেতন দাবী করেন। তখন তাকে কলেজে যোগদান করতে বললে অধ্যক্ষের কথা কর্ণপাত না করে তুই তুই করে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করে। তাকে শান্ত হওয়ার আহবান জানালে সে অধ্যক্ষকে ঘুষি মারার জন্য এগিয়ে আসে। এ সময় উপাধ্যক্ষ এ কে এম মঈনউদ্দিন তাকে বাঁধা দেন, কিন্তু তা সত্তেও আব্দুল হান্নান অধ্যক্ষকে মারতে যায়। উপস্থিত শিক্ষক ও কর্মচারিদের কারনে সে ব্যর্থ হয়ে অধ্যক্ষের টেবিলে সজোরে ঘুষি মেরে টেবিলের কাঁচ ভেঙ্গে ফেলে। তিনি বলেন, আব্দুল হান্নান কলেজে চাকুরী পাওয়ার পর থেকে কর্মস্থলে বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকতো। সে কলেজ প্রশাসন কে তোয়াক্কা করে না, কোনো নিয়মনীতি মানতো না। বিনা অনুমতিতে অনুপস্থিত থাকার কারনে বহুবার কারন দর্শানোর চিঠি পেয়েছে সে। আব্দুর ছাত্তার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্বে থাকাকালীন হান্নান বিনা অনুমতিতে কলেজে অনুুপস্থিত ছিলেন। হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত করায় হান্নান বেআইনীভাবে জোর করে ঘোষাঘুষি করে মুছিয়ে ফেলে। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস ছাত্তার প্রতিবাদ করায় হান্নান ও তার ছোট ভাই ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ’র বাসায় গিয়ে হুমকি প্রদান করেছিল। এঘটনায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার থানায় জিডি করেন যার নং- ১০৩৫ তারিখ: ১৮/১২/২০০৪ ইং। পরবর্তীতে সভাপতির নিকট অভিযোগ করলে গভর্নিং বডির সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক আব্দুল হান্নান (প্রভাষক পরিসংখ্যান) কে বিধিমত সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। ইতিপূর্বে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও শিক্ষা উন্নয়ন মহোদয় গভর্নিং বডির সভাপতি থাকাকালীন গত ১২-০৫-২০০৮ ইং তারিখে আব্দুল হান্নানকে অসদাচরণ না করার জন্য অঙ্গীকারনামা দিয়ে মামলা মোকর্দ্দমা উঠিয়ে নিয়ে কলেজে যোগদানের সিদ্ধান্ত দেন, কিন্তু আব্দুল হান্নান তা অমান্য করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক সম্মেলন করে আমার বিরুদ্ধে ও কলেজের মাননীয় সভাপতির বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করেছে হান্নান। সভাপতি মহোদয় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও মন্ত্রণালয়ের বিধিমত নির্বাচিত সভাপতি। তিনি সংসদ সদস্য হিসাবে পদাধিকার বলে সভাপতি নহেন।
অধ্যক্ষ কেবিএম মুসা বলেন, হান্নানের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও সহানুভুতির সঙ্গে বিবেচনা করে তার আবেদনের প্রেক্ষিতে কলেজ গভর্নিং বডির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে যোগদান করার পত্র দেয়া হয়। কলেজের পক্ষ থেকে আব্দুল হান্নানকে মামলা প্রত্যাহার করে কলেজে যোগদানের প্রস্তাব দিয়েছি। কিন্তু সে মামলা প্রত্যাহার না করেই যোগদান করবে, মামলা থাকলে কলেজ ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে সে জন্য মামলা উঠিয়ে যোগদান করতে বলা হয়েছে। মামলা উঠিয়ে নেওয়ার জন্য সে প্রতিশ্রুতি দিয়েও প্রকৃত তথ্য গোপন করে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেছে। আব্দুল হান্নান একের পর এক মামলা দিয়ে কলেজের ক্ষতি করছে। সে কখনই কলেজের শিক্ষকতায় আগ্রহী নয় শুধু পদবী ধরে রাখতে চায়। সে কমার্স কোচিং সেন্টার নামক একটি প্রতিষ্ঠানে প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে কোচিং বানিজ্যে ব্যস্ত থেকে লক্ষ লক্ষ টাকা রোজগার করছে। তিনি বলেন, বগুড়া কলেজের সকল উন্নয়ন কার্যক্রম গর্ভনিং বর্ডির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজেক্ট কমিটির মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। এখানে কোন দূর্নীতির সুযোগ নেই। নিয়ম মাফিকভাবে কলেজ পরিচালিত হয়ে আসছে। কলেজের সার্বিক উন্নয়নে কাজ করছে বর্তমান গভর্নিং বডি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন উপাধ্যক্ষ এ কে এম মঈনউদ্দিন, প্রভাষক সুলতান মাহমুদ, এসএম নুরুল আমিন, নাছের আলী, এএনএম বদিউজ্জামান, প্রভাষক বায়েজিদ বোস্তামিসহ শিক্ষক কর্মচারীবৃন্দ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন