বগুড়া সংবাদ ডট কম (রশিদুর রহমান রানা, শিবগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জে কিচক সালদহ গ্রামে গভীর নলকুপে বিদ্যুৎ সংযোগকে কেন্দ্র করে দু‘পক্ষে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ বাধেঁ। এতে নারীসহ উভয় পক্ষের অনন্তঃ ১০জন আহত হয়ে শিবগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও গ্রামবাসি সুত্রে জানা যায়, উপজেলার কিচক ইউনিয়নের সালদহ গ্রামের আলহাজ্ব মজিবর রহমানের ছেলে সাবেক মেম্বার মোঃ খয়বর আলী বিগত ২০১৪ সালে উপজেলা সেচকমিটির অনুমোদন নিয়ে কিচক-পানিতলা সড়কের পাশে গভীর নলকুপ স্থাপন ও বগুড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি থেকে সংযোগ গ্রহন করেন। একই গ্রামের ইউসুফ আলীর ছেলে ফয়জার রহমান নিজ নামে গত ২০১৮ সালে উপজেলা সেচ কমিটির নিকট গভীর নলুকুপ স্থাপনের আবেদন ও অনুমোদন নিয়ে কিচক-পানিতলা সড়কের পাশে খয়বর মেম্বারের গভীর নলকুপ থেকে মাত্র ৫০০ফিট দুরত্বে গভীর নলকুপ স্থাপন ও বগুড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতি থেকে সংযোগ গ্রহনের সিএমও গ্রহন করেন। এদিকে খয়বর আলী ফয়েজের গভীর নলকুপে বিদ্যুৎ সংযোগ না দিতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে সম্প্রতি আদালতে মামলা করেন। উক্ত মামলার প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ আদালত গভীর নলকুপ কার্যক্রমে নিষেধজ্ঞা দিয়েছে।
এদিকে সোমবার দুুপরে ফয়জার ও তার লোকজন জোরপূর্বক পল্লীবিদ্যুতের লাইমনেদের দিয়ে গভীর নলকুপে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্ঠা করে এতে দু‘পক্ষের মধ্যে তুমুল রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ বাধেঁ। দেশি অস্ত্র ও লাঠির আঘাতে নারীসহ অনন্তঃ ১০জন আহত হয়েছে। আহতরা হলেন, খয়বরের ছেলে হিরু(২৮), বড় ভাই আয়বর(৫৫), আয়বরের স্ত্রী সেলিনা(৩৩) ও সুফিয়া। প্রতিপক্ষের ইউসুফের ছেলে ফয়জার(২৯), ও আমিরুল, আব্দুল জলিলের ছেলে শাহ জালাল(১৬), ইউসুফের স্ত্রী ফয়জান বিবি(৫৫), আব্দুল জলিলের স্ত্রী জাহেরা(৩৫) ও রাজা মিয়ার স্ত্রী দুলুফা বেগম(৩৩)। স্থানীয়রা অহতদের উদ্ধার করে শিবগঞ্জ থানা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অহতদের মধ্যে হিরু ও ফয়জার রহমানের অবস্থা অশংক্ষা জনক বলে চিকিৎসক জানিয়েছে।
এ ব্যাপারে সাবেক মেম্বার স্থানীয় আ‘লীগ নেতা মোঃ খয়বর আলী সাংবাদিককে জানান, তার ডিপটিউবল আগে অনুমোদন নেওয়া তাই তার সীমানার মধ্যে নিয়ম বৈহিভূত কোনো আইনেই তারা ডিপটিউবল স্থাপন করতে পারে না। এরপরও তিনি আদালতে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে মামলা করেছে।
এব্যাপারে ইউসুফ আলী জানান, উপজেলা সেচ কমিটির অনুমোদন পেয়ে তারা গভীর নলকুপ স্থাপন ও বিদ্যুৎ সংযোগের সিএমও পেয়েছেন। তাই তারা গভীর নলকুপে বিদ্যুৎ সংযোগ দিবেন। এ ব্যাপারে মোকামতলা পল্লীবিদ্যুতের ডিজিএম মোঃ আব্দুর রাজ্জাকের সাথে মোবাইলে কথা হলে তিনি জানান, বিদ্যুৎ সংযোগ না দেওয়ার কোন নিষেধাজ্ঞার চিঠিপত্র তারা পাননি।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন