বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : এক সময় অভাব অনটন যাদের নিত্য দিনের সঙ্গি ছিল তারা এখন সুদিনের স্বপ্ন দেখছে। স্বল্প সুদে সরকারী ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বি হচ্ছে ভূমিহীনরা। তেমনি একজন সফল নারী বগুড়ার ধুনট উপজেলার আরকাটিয়া গুচ্ছ গ্রামের দিনমজুর মাসুদ রানার স্ত্রী পাপিয়া খাতুন (২৫)। তাদের কোন জমিজমা থাকায় প্রায় ৫ বছর আগে সরকারী খরচে মাথা গোজার ঠাই মিলেছে গুচ্ছ গ্রামে। পাপিয়া খাতুন ২০১৭ সালে ধুনট উপজেলা বি,আর,ডি,বি অফিস থেকে স্বল্প সুদে ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ছাগল পালন শুরু করেন। এখন আর তার পরিবারে তেমন কোন অভাব নেই। স্বামীর পাশাপাশি ছাগল পালন করে তিনিও সংসারে সহযোগিতা করছেন।
পাপিয়া খাতুন জানায়, ধুনট বি,আর,ডি,বি অফিস থেকে ঋণ নিয়ে ছাগল পালন শুরু করেছিলেন। গত বছরের ঋণ পরিশোধ করার পরও তার খামারে ৪টি ছাগল রয়েছে। তিনি বলেন, এবছর যদি বেশি টাকা ঋণ পাওয়া যায় তাহলে একটি গরু কিনবেন।
আরকাটিয়া গুচ্ছ গ্রামের আরেক ভূমিহীন মানবধিকার কর্মী শাহজামাল চিশতি জানায়, তার মাথা গোজার ঠাই ছিল না। কিন্তু ৬ বছর আগে সরকারী খরচে গুচ্ছ গ্রামে একটি ঘর নির্মান করে দেওয়া হয়েছে। কর্মসংস্থানের জন্য গুচ্ছ গ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পের আওতায় বি,আর,ডি,বি অফিস থেকে প্রথমে ১০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে টুপির ব্যবসা শুরু করেন। প্রথমদফা ঋণ পরিশোধ করার পর গত বছর ২০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে হোমিও ঔষধের ব্যবসা শুরু করেছেন। চলতি বছর ওই ঋণ পরিশোধ করে আবারও নতুন করে ঋণের জন্য আবেদন করেছেন। শাহজামাল বলেন, আরো স্বল্প সুদে বেশি টাকা ঋণ পেলে হতদরিদ্র পরিবারগুলো আয়বর্ধক নানা কর্মকান্ডের মাধ্যমে নিজেরা স্বাবলম্বী হবে।
ধুনট উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা (বি,আর,ডি,বি) সুনীল চন্দ্র সূত্রধর বলেন, এই উপজেলায় তিনটি গুচ্ছ গ্রামের মাধ্যমে গৃহহীন পরিবারদের পুনবাসন করে তাদেরকে স্বাবলম্বী করতে গুচ্ছ গ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পের মাধ্যমে ৮.৫% সুদে ঋণ দেওয়া হচ্ছে। প্রথম দফায় ১৫ হাজার টাকা ঋণ দেওয়ায় হয়েছিল। পরবর্তীতে ১০০জন ভূমিহীনদের ২৫/৩০ হাজার টাকা করে ঋণ দেওয়া হবে।
গুচ্ছ গ্রাম সিভিআরপি প্রকল্পের সভাপতি ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, আশ্রয়ন প্রকল্পে পুনর্বাসিত সুবিধাভোগিদেরকে আত্ম-কর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী করতে প্রশিক্ষন সহ ঋণ প্রদান করা হচ্ছে। এতে স্বল্প সুদে ঋণ নিয়ে স্বাবলম্বী হচ্ছে অনেক ভূমিহীন পরিবার।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন