বগুড়া সংবাদ ডট কম (নামুজা প্রতিনিধি আনোয়ার হোসেন) : বগুড়ার নামুজা-বুড়িগঞ্জসহ আশ পাশের বন্দরগুলোতে জীবন্ত গাছে লোহার পেরেক টুকে লাগানো গাছে গাছে ডাক্তারী সাইনবোর্ড, ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড। দেখা যায়, এসব সাইনবোর্ডের বেশির ভাগই হচ্ছে চিকিৎসা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, কোচিং বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের সাইনবোর্ড চোখে পড়ছে। রাস্তার পাশে গাছ থাকলেই তাতে রোহার পেরেক টুকে লাগানো হচ্ছে সাইনবোর্ড, ব্যানার কিংবা প্ল্যাকার্ড। গাছে লোহার পেরেক টুকে এসব লাগানো আইনসম্মত না হলেও তা কেউ মানছে না। এর পরও নিজের কিংবা ব্যাবসায়িক প্রচারণার জন্য আইনকে তোয়াক্কা না করে অনেকেই গাছে লোহার পেরেক মেরে সাইনবোর্ড লাগিয়ে দিচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও দৃষ্টিকটু। নামুজা বুড়িগঞ্জের ঘুরে দেখা গেছে, সব গ্রামেই রাস্তার পাশে থাকা গাছে লোহার পেরেক দিয়ে লাগানো হয়েছে সাইনবোর্ড। নামুজা ডিগ্রি কলেজ রোডস্থ বাসস্ট্যান্ডে, বুড়িগঞ্জ বন্দরের তিন মাথা মোড়ে ও বুড়িগঞ্জ বিলহামলা হাটের গেট সংলগ্ন কড়িতলা নামকস্থানে একটি করে গাছে লোহার পেরেকবিদ্ধ অগণিত ডাক্তারী সাইনবোর্ড দেখা গেছে। দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছে বগুড়ার নামুজা, বুড়িগঞ্জ, পিরবসহ বিভিন্ন বন্দরের গুরুত্বর্পূণ সড়কের মোড়ে অবস্থিত গাছের শরীরে বড় লোহার পেরেক টুকে অনেক নামী দামী ব্যক্তি অথবা কোন প্রতিষ্ঠানের ছোট বড় সাইনবোর্ড এবং বিলবোর্ড ঝুলিয়ে দেয়া হয়েছে। যুগের পর যুগ লোহার এই পেরেকের অসহয্য যন্ত্রণা নিয়ে গাছগুলো বেঁেচ আছে। গাছের প্রতি এ নিষ্ঠুর আচরন দেশের বনবিভাগ আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এ ব্যাপারে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠছে সাইনবোর্ড মালিকরা। দুঃখজনক এই চিত্র শুধু নামুজা-বুড়িগঞ্জে নয় সারা দেশের শহর বন্দরের একই চিত্র বিরাজমান রয়েছে। আমরা তা কি একবারো ভেবে দেখেছি লোহার পেরেক টুকা শত শত সাইনবোর্ড বনহকারী ওইসব গাছের কথা। লোহার পেরেক টুকে লাগানো পুপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার লিঃ এর কর্মরত রানার সঙ্গে ২৫ডিসেম্বর কথা বললে তিনি জানান, আমরা কর্মচারী এ ব্যাপারে কিছু বলতে পারবো না। গাছে লোহার পেরেক টুকিয়ে সাইনবোর্ড লাগানো গাছটি নানা রোগে আক্রান্ত হয়ে মরে যেতে পারে অথবা গাছটি বিকৃত হয়ে উৎপাদন ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। এছাড়া লোহার পেরেক টুকিয়ে থাকা গাছ ‘ছ’ মিলে কাটতে গিয়ে শ্রমিকদের প্রাণ হানিসহ অঙ্গ হানি ও দূর্ঘটনা অহরহ ঘটছে। যেমন বগুড়া সদরের নামুজা পাল্লাপাড়া গ্রামের জবেদ আলীর পুত্র ‘ছ’ মিল শ্রমিক মুনছুর আলী দূর্ঘটনায় একটি হাত হাড়িয়েছে। জীবন্ত গাছে লাগানো সাইনবোর্ড মালিকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। গাছের সাথে এ নিষ্ঠুর আচরন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবী জানান সচেতন মহল।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন