বগুড়া সংবাদ ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে) : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে আওয়ামীলীগের দলীয় কোন্দলের অবসান ঘটিয়ে ঐক্যবদ্ধ নেতাকর্মীদের প্রচারনায় এগিয়ে আছে নৌকা। অপরদিকে বিএনপির দলীয় কোন্দল এবং হামলা ও মামলার কারনে প্রচারনায় পিছিয়ে পড়েছে ধানের শীষ। নির্বাচনী প্রচারনার শুরু পর থেকে এপর্যন্ত আওয়ামীলীগ ও বিএনপির দু’দফা সংর্ঘষে ধুনট ও শেরপুর থানায় পাল্টাপাল্টি চারটি মামলা দায়ের হয়েছে।
নির্বাচন অফিস সূত্রে জানাগেছে, বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং ধুনট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে বগুড়া-৫ আসনটি গঠিত। এই আসনের মোট ভোটার রয়েছেন ৪ লাখ ৭৫ হাজার ২৭ জন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামীলীগের প্রার্থী বর্তমান এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান (নৌকা), বিএনপির প্রার্থী সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (ধানের শীষ), জাতীয়পার্টির প্রার্থী সাবেক জজ তাজ মোহাম্মদ শেখ (লাঙ্গল), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ পার্টির মীর মাহমুদুর রহমান (হাতপাখা), ন্যাশনাল পিপলস্ পার্টির আব্দুন নূর (আম), ইসলামী ঐক্যজোটের নজরুল ইসলাম (মিনার), বাংলাদেশ বিল্পবী ওয়ার্কার্স পার্টির রঞ্জন কুমার দে (কোদাল) ও বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির সন্তোষ কুমার পাল (কাস্তে), স্বতন্ত্র প্রার্থী শেরপুর উপজেলা মহিলা আওওয়ামীলীগের সভাপতি তাহমিনা জামান হিমিকা (হিংস) ও আব্দুর রউফ মন্ডল জোন (মাথাল)।
স্থানীয়সূত্রে জানাযায়, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি খ্যাত বগুড়া-৫ আসনটি এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী জানে আলম খোকাকে পরাজিত করে ধুনটের সন্তান সাবেক পুলিশ সুপার বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব হাবিবর রহমান এই আসনের এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করায় হাবিবর রহমান বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় আবারও এমপি নির্বাচিত হন। পরপর দুইবার এই আসনটি দখলে থাকায় এলাকার অনেক উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড করে বিএনপির ঘাঁটিতে শক্ত অবস্থান তৈরী করে আওয়ামীলীগ। কিন্তু আওয়ামীলীগের মনোনয়ন নিয়ে অভ্যন্তরীন কোন্দল থাকলেও চুড়ান্ত মনোনয়ন ঘোষনার পর থেকে নৌকার বিজয়ের লক্ষে সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে নেতাকর্মীরা। ধুনট ও শেরপুর উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে নৌকার পক্ষে মিছিল, সমাবেশ, মাইকিং ও গণসংযোগ করে প্রচারনা চালিয়ে আসছেন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা।
অপরদিকে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে জেলা বিএনপির উপদেষ্টা জানে আলম খোকা ও বিএনপির প্রার্থী তিনি বারের সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের অভ্যন্তরীন কোন্দল এখনও চরমে রয়েছে। এ কারনে বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজের পক্ষে দেখা মেলেনি জানে আলম খোকাকে। দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ার ক্ষোভে জানে আলম খোকার সমর্থিত বিএনপির বৃহৎ অংশের নেতাকর্মীদেরকেও বিএনপির প্রার্থী জিএম সিরাজের পক্ষে নির্বাচনী মাঠে নেই। এদিকে বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের সুযোগে গত ১১ ডিসেম্বর ধুনট বাজারে প্রবেশের প্রথম দিনই ধানের শীষের প্রার্থী জিএম সিরাজের গাড়ী বহরে হামলা চালায় নৌকার সমর্থিতরা। এঘটনায় জিএম সিরাজ বাদী হয়ে আওয়ামীলীগের অজ্ঞাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর ১৩ ডিসেম্বর জিএম সিরাজ ধুনটের মথুরাপুর ও গোপালনগর ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রচারনা চালান। পরবর্তীতে ১৮ ডিসেম্বর ধুনটের নিমগাছী ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রচারনা চালিয়ে ধুনটে ফেরার পথে হুকুমআলী বাসষ্ট্যান্ড এলাকায় নৌকার সমর্থিতরা অবস্থান নিলে জিএম সিরাজ পশ্চিমভরনশাহী এলাকায় অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন। পরে পুলিশ প্রটোকল নিয়ে জিএম সিরাজ ধুনট ত্যাগ করেন। এঘটনায় ক্ষুদ্ধ হয়ে জিএম সিরাজের সমর্থিতরা ১৮ ডিসেম্বর রাতে নৌকার সমর্থিত যুবলীগ ও সেচ্ছাসেবকলীগের দুই নেতাকে মারধর করে মোটরসাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। এঘটনায় ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল হাই খোকন বাদী হয়ে ধুনট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক উপজেলা চেয়ারম্যান তৌহিদুল আলম মামুন সহ এজাহারভুক্ত ৩১জন এবং অজ্ঞাত আরো ৩০/৪০ জনের বিরুদ্ধে ধুনট থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর থেকেই জিএম সিরাজ ধুনট উপজেলায় নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে পারেননি। এছাড়া ধুনট উপজেলার বিএনপির নেতাকর্মীরাও গ্রেফতার আতঙ্কে প্রকাশ্যে নির্বাচনী প্রচারনা চালাতে পারছেন না। গত ২৪ ডিসেম্বর শেরপুর উপজেলার কুসুম্বি ইউনিয়নের গোসাইবাড়ী বটতলা এলাকায় নৌকা ও ধানের শীষের নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিতীয় দফা সংর্ঘষের ঘটনা ঘটে। এঘটনায় শেরপুর থানায় জিএম সিরাজ বাদী হয়ে আওয়ামীলীগের অজ্ঞাত নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে এবং শেরপুর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক আহসান হাবিব আম্বিয়া বাদী হয়ে বিএনপির এজাহারভুক্ত ৩২ জনের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করেছেন।
ধানের শীষের প্রার্থী জিএম সিরাজ অভিযোগ করে বলেন, আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কোন দিনই সুষ্ঠ নির্বাচন সম্ভব নয়। তাই দফায় দফায় তার গাড়ী বহরে হামলা, প্রচারনার মাইক ভাংচুর সহ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হচ্ছে। একারনে দলীয় নেতাকর্মীরা নিরাপদে প্রচারনা চালাতে পারছেন না।
নৌকার প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান বলেন, এলাকাবাসী উন্নয়ন চান। তাই ধুনট-শেরপুর উপজেলায় নৌকার গণজোয়ার শুরু হয়েছে। আর জিএম সিরাজ এমপি হয়ে এই জনপদে তেমন কোন উন্নয়ন করতে পারেননি। তাই এলাকাবাসী তাকে মেনে নিতে পারছে না। এছাড়া বিএনপির নেতাকর্মীদের সাথেও তার কোন্দল রয়েছে। একারনের নিজ দলের হামলার শিকার হয়ে আ’লীগের বিরুদ্ধে তিনি মিথ্যাচার করছেন।
সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। যে কোন ধরনের নাশকতা এড়াতে র‌্যাব, বিজিবি, সেনাবাহিনী ও পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা প্রতিটি এলাকায় টহল দিচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন