bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার নিন্মাঞ্চলে বন্যার পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে নতুন করে চারা লাগানোর চেষ্টা করছেন অনেক কৃষক। তবে বন্যা কবলিত এলাকার মানুষদের আপদকালীন সময়ের বীজ নতুন করে ফেলার সময় নাই ও নতুন করে চারা লাগানোর উপযুক্ত সময় পেরিয়ে গেছে বলে কৃষি বিভাগের পক্ষ জানানো হয়। তবুও কিছু কিছু কৃষক নানা কায়দায় চারা সংগ্রহ করে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে উপজেলার একটি পৌরসভা ও ৬টি ইউনিয়নের প্রায় ৩ হাজার ৫শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান আংশিক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে এবং ১ হাজার ৬শ হেক্টর জমির রোপা আমন ধান একেবারেই পচে নষ্ট হয়ে গেছে।
সরেজমিনে উপজেলার কয়েকটি মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, স্থানীয় কৃষকরা চাহিদা মত আমন ধানের চারা না পেয়ে বাধ্য হয়ে অনেক কৃষক ধানের জমি থেকে ধান তুলে নতুন করে জমিতে রোপন করছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থ প্রান্তিক ও বর্গা চাষিরা বুক ভরা আশা নিয়ে তাকিয়ে আছে কৃষি বিভাগের দিকে। বন্যা কবলিত এলাকার উত্তর জেলা গুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে ত্রান সামগ্রীর পাশাপাশি কৃষকদের কমড় খাড়া করে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে ধানের চারা বিতরণ করা হলেও অবহেলিত এ উপজেলায় কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের মাঝে কোন প্রকার চারা প্রদান করা হয়নি। তবে উপজেলা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের নানা ধরনের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে বলে কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে।
ধান উৎপাদনের দিক দিয়ে এই উপজেলার ব্যাপক কদর থাকলেও এবারের বন্যার কারণে প্রধান এই ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সরেজমিন উপজেলার সদর ইউনিয়নের কদমা, করজবাড়ী, কুসুম্বী, কেশরতা ও চাঁপাপুর ইউনিয়নের কিছু মাঠ ঘুরে দেখা যায়, বন্যার পানিতে শত শত বিঘার রোপণকৃত রোপা-আমন ধান নষ্ট হয়ে গেছে। পানি কমে যাওয়ায় জমি গুলো খালি পড়ে আছে।
উপজেলার করজবাড়ী গ্রামের ইউপি সদস্য শহিদুল ইসলাম,কুসুম্বী গ্রামের কৃষক আব্দুস সাত্তার ও কেশরতা গ্রামের মোকলেছার রহমান জানান, বন্যার পানি সড়ে যাওয়ার পর আমার কিছু জমির আংশিক ক্ষতি হয়েছে সেগুলো জমিতে ধানের চারা কেটে লাগিয়ে দিয়েছি। আর যেসব জমির ধান একেবারে পচে নষ্ট হয়ে গেছে সেসব জমিতে অন্য জমির ধানের চারা তুলে এনে কিছু কিছু জমিতে পুরোপুরি রোপন করেছি। সমুদয় জমিতে নতুন করে ধান রোপন করা সম্ভব না।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ কামরুজ্জামান জানান, বন্যার কারণে উপজেলার চলতি মৌসুমে রোপা-আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার সাথে সাথে ধানী জমি থেকে চারা সংগ্রহ করে ক্ষতিগ্রস্থ জমিতে নতুন করে রোপনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে কিছু কিছু এলাকায়। আর যেসব জমির ধান একেবাইে পচে নষ্ট হয়ে গেছে। সেগুলো জমিতে আগাম রবি শস্য চাষাবাদের পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে। তবে সরকারি ভাবে এখনোও পর্যন্ত কোন বরাদ্দ আসে নাই। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য সরকারি ভাবে বরাদ্দ আসলে আমরা তা ইউনিয়ন ভিত্তিক ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করে প্রদান করা হবে বলে আশ্বাস দেন উপজেলা কৃষি অফিসার।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন