বগুড়া সংবাদ ডট কম ( জিয়াউর রহমান, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৭ আসনে মূল দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী না থাকায় ‘পানসে’ ভোটে ক্রমেই আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন ভোটাররা। গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলা নিয়ে এই আসনটি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি হওয়ায় বিএনপির ঘাটি বলে পরিচিত। ইতিপূর্বে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এই আসন থেকে তিন বার সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন।

এবার ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী বেগম খালেদা জিয়ার মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় বিকল্প প্রার্থী হিসেবে গাবতলী উপজেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক মোরশেদ মিল্টনকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয়। কিন্তু যাচাই-বাছাইয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ না করার অজুহাতে মোরশেদ মিল্টনের মনোনয়ন বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরে আপিল করে নির্বাচন কমিশন থেকে প্রার্থীতা ফিরে পেয়ে প্রতীক বরাদ্দ নিয়ে মাঠে নেমে পড়েন মোরশেদ মিল্টন। দলীয় নেতা-কর্মীদের সাথে নিয়ে গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার প্রতিটি ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে পথসভা ও গণসংযোগে নেমে পড়ায় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে প্রাণচঞ্চলতা ফিরে আসে।

প্রচার- প্রচারনার মাঝ পথে উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে পদত্যাগ সঠিক হয়নি দাবী করে উচ্চ আদালতে রীট করেন স্বতন্ত্র প্রার্থী ফেরদৌস আরা খান। রীটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মোরশেদ মিল্টনের প্রার্থীতা স্থগিতের আদেশ দেন। উচ্চ আদালতের দেয়া আদেশের বিপরিতে মোরশেদ মিল্টন ইতিমধ্যে আপিল করেছেন বলে স্থানীয় বিএনপির বিশ্বস্থ সূত্রে জানা গেছে। প্রার্থীতা নিয়ে প্রথমে রিটার্নিং কর্মকর্তার বাতিল ঘোষনা করা। পরে নির্বাচন কমিশনের তা বহাল রাখা। আবার উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ এবং পুনরায় আপিলে প্রার্থীতা ফিরে পাওয়া নিয়ে শংকায় রয়েছে গাবতলী ও শাজাহানপুরের বিএনপির তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা। এমতাবস্থায় ভোটের প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছেন বিএনপি সমর্থিত ভোটাররা।

অপরদিকে মহাজোটের প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়া হয় বর্তমান সাংসদ জাতীয়পার্টির এড. আলতাফ আলীকে। আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী না থাকায় নেতা-কর্মী ও সমর্থকরা একদিকে যেমন গা ছেড়ে দিয়েছেন অপরদিকে বিভিন্ন ধরনের কর্মকান্ডে এমপি আলতাফ আলীর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও জাতীয়পার্টির বেশির ভাগ নেতা-কর্মীরা। সেদিক থেকে জোট ও দলীয় নেতা-কর্মী ছাড়াই হাতে গণা দু’চারজনকে সাথে নিয়ে স্বস্ত্রীক গণ সংযোগ করছেন এমপি আলতাফ আলী। এছাড়াও এই আসনে যারা প্রতিদ্বন্দিতা করছেন তারা হলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শফিকুল ইসলাম (হাতপাখা), ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ) মন্তেজার রহমান (কুড়েঘর), বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) শহিদুল ইসলাম (মই) এবং স্বতন্ত্রপ্রার্থী ফেরদৌস আরা খান (ডাব)।

এমতাবস্থায় মোশারফ হোসেন, আব্দুল হাকিম, সাইফুল ইসলাম, জহুরুল ইসলাম, মাহফুজার রহমান, আবিদুর রহমান সহ এই আসনের অধিকাংশ সাধারন ভোটাররা জানান, মূল দুই দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থী না থাকায় এই আসনের ভোট ‘পানসে’ হয়ে গেছে। কোন ইমেজই নাই। ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রেই যাবেন না বলে জানান তারা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন