বগুড়া সংবাদ ডট কম (শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি) : বগুড়ার শেরপুর সাব-রেজিষ্ট্রি অফিসের তথাকথিত দলিল লেখক সমিতি জমি ক্রেতাদের জিম্মি করে সরকারি ফি’র সাথে সমিতির নামে অতিরিক্ত শতকরা ৩টাকা হারে অবৈধভাবে চাঁদা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। আর সেই সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন পত্র বিতরন করলেন খোদ সাব-রেজিষ্টার মোঃ নুরুল হাকিম।
জানা গেছে, তথাকথিত সমিতির নেতারা ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে জমি ক্রেতাদের কাছ থেকে সরকারের ফি’র সাথে সমিতির নামে অতিরিক্ত আরো শতকরা ৩টাকা হারে অবৈধ চাঁদা আদায় করছে। এ নিয়ে সাধারন সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়ায় দীর্ঘদিন থেকে চলে আসা এই অবৈধ সমিতির কমিটি নিয়ে চলছে নানা গুঞ্জন। আর এ কারনে গত ১০ই সেপ্টেম্ববর ২০১৭ সালে সাধারন সভার মাধ্যমে দলিল লেখক সমিতির সকল কার্যক্রম স্থগিত করে সাধারন দলিল লেখকরা। সকল কার্যক্রম চলে যায় সমিতির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টাদের হাতে। এতেও জমি ক্রেতারা রেহাই পাননি উপদেষ্টা কমিটির হাত থেকে। উপদেষ্টা কমিটিও সারা বছরের মতো দলিলের মুল্যের প্রতি শতকরা ৩টাকা হারে চাদাঁ আদায়ের কার্যক্রম অব্যহত রেখেছে।
ভুক্তভোগিরা জানায়, জায়গা জমি হস্তান্তর করতে দলিল লেখকদের কাছে দলিল করতে গেলে দলিল লেখকরা লেখালেখি সম্পন্ন করে প্রথমে সমিতির অফিসে নিয়ে যায় এবং মোট মুল্যের ওপর শতকরা ৩ টাকা হিসাবে চাঁদা আদায় করেন। চাঁদা বুঝিয়ে নিয়ে সমিতির নেতারা দলিলের সঙ্গে থাকা নোটিশের প্রথম পাতার পিছনে সিল ও স্বাক্ষর করে দেন। তাদের স্বাক্ষর ছাড়া কোন দলিল সাব-রেজিস্টার অনুমোদন করেন না।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সরকারের নিবন্ধন না থাকা এই অবৈধ সমিতির নির্বাচন আগামী ৮অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে। দলির লেখকরা এখন নির্বাচনী আমেজে ব্যস্ত সময় পার করছে। ২১০ জন ভোটারের মধ্যে লাখ লাখ টাকা খরচ করে চলছে ব্যপক নির্বাচনী প্রচারনা। নির্বাচন জমে উঠার ঘটনায় অনেকেই কানাঘুষা করছে খরচের পরিমান নিয়ে। কেউ কেউ আবার বলছে এটা ব্যপারই না। একমাসেই এ টাকা উঠে আসবে। কিভাবে ৭দিনের মধ্যে এতো টাকা তুলবে জানতে চাইলে নিজের নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দলিল লেখক জানান ৩% হারে আদায়ে প্রতিটি নেতার দৈনিক সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকা থেকে শুরু করে ওপরে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করে থাকে।
এব্যাপারে শেরপুর থানা পুলিশের এস আই পুতুল মোহন্ত ও সাহেব গনি বলেন-দলির লেখক সমিতির নির্বাচনী ফরম বিতরনে যেন বিশৃঙ্খলা না হয় এজন্যই আমাদের এখানে দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে।
অপরদিকে দলিল লেখক সমিতি না থাকলেও চাঁদা আদায় করছে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির উপদেষ্টারা। তারা কোন ক্ষমতার বলে প্রকাশ্যে প্রশাসনের নাকের ডগার ওপর চাঁদা আদায় করছে তা সচেতন মানুষের বোধগম্য নয়। এ ব্যাপারে শেরপুর সাব-রেজিষ্টার মোঃ নুরুল হাকিমের সাথে কথা বললে তিনি বলেন- আমি আমার দপ্তর থেকে সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরন করি নাই। তবে সমিতিতে মনোনয়ন বিতরনের সময় উপস্থিত ছিলাম। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- সমিতি মুলত দলিলের সাথে কোন জাল কাগজপত্র ও ফিস ঠিকঠাকমত আছে কিনা তা চেক করে। যদিও এটা তাদের কাজ না।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন