বগুড়া সংবাদ ডট কম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসনে কার হাতে থাকছে ‘ধানের শীষ’ এ নিয়েই নেতাকর্মীদের মাঝে চলছে জল্পনা কল্পনা। বুধবার মনোয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন নিয়ে দুই জন হেভিওয়েট প্রার্থীই মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। তবে দুই প্রার্থীর সমঝোতা না হলে দলীয় কোন্দন বাড়তে পারে বলে আশংকা করছে স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
নির্বাচন অফিসসূত্রে জানাগেছে, শেরপুর উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন এবং ধুনট উপজেলার একটি পৌরসভা ও ১০টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত বগুড়া-৫ আসন। তন্মধ্যে শেরপুর উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৩ হাজার ৮৪৮ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ২৩ হাজার ৭১৫ জন এবং মহিলা ভোটার ১ লাখ ৩০ হাজার ১৩৩জন।
এছাড়া ধুনট উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ২১ হাজার ১৭৯ জন। এরমধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৮ হাজার ৫৪৩ জন ও মহিলা ভোটার রয়েছে ১ লাখ ১২ হাজার ৬৩৬ জন।
স্বাধীনতার পর প্রথম ১৯৭৩ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ আসনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী সাংবাদিক আমানউল্লাহ্ খান নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৭৯ সালে বিএনপির প্রার্থী এ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান, ১৯৮৬ সালে আওয়ামীলীগের প্রার্থী ফেরদৌস জামান মুকুল, ১৯৮৮ সালে জাতীয় পার্টির প্রার্থী এ্যাডভোকেট শাহজাহান আলী তালুকদার নির্বাচিত হন। এছাড়া ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে এবং ২০০১ সালের নির্বাচনে পর পর চার দফায় বিএনপির প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ এমপি নির্বাচন হন। এরপর ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবর রহমান এমপি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও এমপি হাবিবর রহমান আওয়ামীলীগের মনোনীত হেভিওয়েট প্রার্থী নির্বাচিত হয়ে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন।
এদিকে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জন্মভূমি খ্যাত বগুড়া জেলার প্রায় সব কয়টি আসনই এক সময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিতি পেলেও পরপর দুই বার বগুড়া-৫ আসনটি আওয়ামীলীগের দখলে থাকায় দলটির ভীত আরো মজবুত হয়েছে বলে নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন। আওয়ামীলীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডগুলোই এআসনে দলটির ভীত মজবুত করেছে। তাই এই নির্বাচনে দেশের বড় দুই দল আওয়ামীলীগের ‘নৌকা’ ও বিএনপির ‘ধানের শীষের’ মধ্যে দ্বিমুখি লড়াই হবে হবে ভোটাররা মনে করছেন। তবে এ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের একজন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করলেও বিএনপির দুই জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র দাখিল করায় বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে গ্রুপিং ও দলীয় কোন্দল সৃষ্টি হয়েছে।
বিএনপির দলীয়সূত্র জানায়, ২০০৮ সালের নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংস্কার পস্থী হওয়ায় সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজকে বাদ দিয়ে দলীয় মনোনয়ন পান বগুড়া জেলা বিএনপির উপদেষ্টা ও শেরপুর উপজেলা বিএনপির আহবায়ক জানে আলম খোকা। কিন্তু তিনি নিজ দলের গ্রুপিং এর কারনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংসদ সদস্য হাবিবর রহমানের কাছে পরাজিত হন। এরপর থেকেই জানে আলম খোকা এলাকায় নির্বাচনী মাঠে সক্রীয় রয়েছেন। দলের নেতাকর্মীদেরকে আগলে রেখে তিনি দলকে সুসংগঠিত করেছেন। নেতাকর্মীদের মামলার খরচও জুগিয়েছেন তিনি।
বিএনপি নেতা জানে আলম খোকা বলেন, দলের জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছি। একারনে দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। শেষমূহুর্তে ধানের শীষ প্রতীক পাবেন বলে তিনি আশাবাদী। তাই ধানের শীষ প্রতীক পেলে এআসনটি পুনরুদ্ধারও হবে বলে তিনি জানান।
অপর প্রার্থী বিএনপির চার বারের সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। ২০০৮ সালে সংস্কারপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিতি পাওয়ার পর থেকে তিনি দীর্ঘ সময় এলাকায় আসেননি এবং রাজনীতি থেকেও দূরে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি আবারও দলে ভীরেছেন এবং নেতাকর্মীদের নিয়ে নির্বাচনী মাঠ গোছাতে ব্যস্ত রয়েছেন।
সাবেক এমপি গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বলেন, বিএনপির হারানো আসনটি পুনরুদ্ধার করতে দল তাকে মনোনয়ন দিয়েছেন। তাই শেষমূহুর্তে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ভোট যুদ্ধে মাঠে থাকবেন এবং জনগণ বিপুল ভোটে তাকে বিজয়ী করবে বলে তিনি আশাবাদী।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন