বগুড়া সংবাদ ডটকম (নামুজা প্রতিনিধি, আনোয়ার হোসেন) : বগুড়ার শিবগঞ্জের বুড়িগঞ্জে অস্থায়ী বসতি স্থাপন করেছে সুদুর ঝিনাইদহের কালিগঞ্জ পৌরসভাধীন কাশিপুর হতে আগত বোহেমিয়ানের (যাযাবর) দল। ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বুড়িগঞ্জের ছাতড়া গ্রামের উত্তরে গ্রামীণফোন টাওয়ার সংলগ্ন বাগানে ছোট ছোট দশ-বারোটি ঝুপড়ি ঘর তুলে যাযাবরেরা গড়ে নিল তাদের অস্থায়ী আবাসস্থল। আশ্রয় নেয়া দশ-বারোটি পরিবারের সদস্য সংখ্যা প্রায় ৪০ জন। ইসলাম ধর্মাবলম্বী হাস্যজ্জ্বোল বাচ্চু মিয়ার (৪২) সঙ্গে কথা বলে জানা গেল অনেক অজানা তথ্য। এলাকার উৎসুক জনতা তাদের দেখার জন্য সারাক্ষণ ভীঁড় করছে। পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ছোট্ট গুছানো সংসার আছে তাদের। ব্যবসার প্রয়োজনে আসলে এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ঘুরে বেড়ায় এরা। এদের প্রধান আয়ের উৎস খেলা দেখানো, তাবিজ-কবজ, ঔষধ বিক্রি ও চিকিৎসা। বর্তমানে সাপ না থাকলেও তাদের সঙ্গে আছে ৯টি বানর ও দুটি পাখি। ‘কালিম’ নামের অপূর্ব সৌন্দর্যের দুটি পাখি ১৮ ইঞ্চি ব্যাসার্ধের খাঁচায় চার-পাঁচ বছর বন্দী জীবন কাটাতে কাটাতে এখন ক্লান্ত। বানরদের চোখে-মুখে মেলে পরাধীনতার বিস্ময়। যাযাবর বাচ্চু মিয়া জানান, এসবকিছুই তাদের পূর্ব-পুরুষদের ঐতিহ্যের ব্যবসা। তাদের আলোর সুবিধা ও মোবাইল চার্জের জন্য রয়েছে সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা। স্থায়ী বসবাসের প্রসঙ্গ তুললে বাচ্চু মিয়া জানান, কালিগঞ্জ পৌরসভার অন্তর্ভূক্ত কাশিপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা তারা। এলাকায় এখনো শত শত ঝুপড়ি ঘর তুলে বসবাস করতে হয় তাদের মত হাজারো মানুষকে। সরকার বিভিন্ন এলাকায় গুচ্ছগ্রামের প্রকল্প চালু করলেও তাদের এলাকায় এখনো সেই সেবা পৌঁছেনি বলে একরকম আফসোসের সুর ধ্বনিত হয়ে উঠে তার কণ্ঠে -‘আমাদের দেশই কি আর বিদেশই বা কি? সব খানেই ঝুপড়ি ঘরে বাস’। এই সিস্টেমকে পরম্পরায় মেনে নিয়ে তারা পরম আনন্দেই কাটায় তাদের গন্তব্যহীন যাযাবরি জীবন। সারাদিন নারী-পুরষ গ্রামান্তরে খেলা দেখানো ও ব্যবসার কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরে আসে তাদের ছোট্ট নীড়ে। হাসি-কান্না মিশ্রিত বৈচিত্র্যময় এই জীবনে বাচ্চু মিয়ার কোন জীবন বিমুখীতার গল্প নাই বরং তিনি স্বপ্ন দেখেন সুন্দর আগামীর। সরকারের সহযোগিতা কামনা করে বাচ্চু মিয়ার সঙ্গীরা জানান, আমাদের স্থায়ী বসবাসের ব্যবস্থা হলে নিজ এলাকায় বসবাস করা সহজ হতো। প্রজন্মদের লেখা-পড়ার ব্যবস্থা করে স্বপ্ন পুরণ করা যেত। পুনর্বাসনের মাধ্যমে এসব ভাসমান স্বপ্নগুলোকে প্রস্ফুটিত হবার সুযোগ দিবে ডিজিটাল বাংলাদেশ সরকার-এটাই সকলের প্রত্যাশা।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন