বগুড়া সংবাদ ডট কম : বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর আয়োজনে প্রত্ন নাটক “মহাস্থান” বগুড়ায় মঞ্চায়নের উদ্দ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৩৫০ জন শিল্পী কলাকুশলী অংশগ্রহন, সেলিম মোজাহার এর রচনায় এবং লিয়াকত আলী লাকীর দিক নির্দেশনায় প্রায় আড়াই হাজার বছরের রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক, সামাজিক আচার অনুষ্ঠানের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে এ নাটক মঞ্চায়ন হবে ২৩ ও ২৪ নভেম্বর দুইদিন ব্যাপী মহাস্থান ভাসুবিহারে।
গতকাল ২২ নভেম্বর বৃহষ্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বগুড়া জেলা প্রশাসকের সভাকক্ষে শিল্পকলা একাডেমীর মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বলেন, বাংলাদেশের বড় এই প্রত্ন নাটকটি তিন শতাধিক শিল্পী-কলাকুশলীর অংশগ্রহনে নির্মিত হচ্ছে। মহাস্থান নাটকে আমাদের জাতিসত্তার ইতিসাহকে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। মহাস্থানগড়ের প্রাচীন ইতিহাসের সাথে সময়ের পরম্পরায় বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রাম পর্যন্ত সময়কালকে একক গ্রন্থনায় ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এই নাটকে প্রাচীন শিকার যুগ থেকে শুরু করে বৈদিকযুগ, আদিবাসি পর্ব, রামায়নের গীতা, কালিদাসের কাব্য, চর্যাপদ, সুফিসামা, বৈষ্ণব পদাবলী, ব্রাক্ষ্মসংগীত, লোকগান, বৃট্রিশবিরোধী আন্দোলন, ব্রতচারীদের গান, পঞ্চকবির গান, ভাষা আন্দোলন এবং মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত ইতিহাস, কাব্য-গীত ও ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা পালাগানরুপে প্রকাশিত হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে লিয়াকত আলী লাকী আরও বলেন, নতুন প্রজন্মের সামনে ইতিহাস ঐতিহ্য উপস্থাপনের পাশাপাশি আমাদের যে সম্প্রীতি ও সহাবস্থানের আলোকিত অধ্যায় রয়েছে, সেটাই মহাস্থান নাটকের মধ্যদিয়ে প্রকাশের চেষ্টা করা হয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে লিয়াকত আলী লাকী বলেন, দুইদিন ব্যাপী এই নাটকে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা খরচা হতে পারে।
উক্ত সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহাম্মদ, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমীর জনসংযোগ কর্মকর্তা হাসান মাহমুদ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রায়হানা ইসলাম, জেলা কালচারাল অফিসার শাহাদৎ হোসেন প্রমূখ।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালে মহাস্থানগড়কে সার্কের সাংস্কৃতিক রাজধানী ষোষনা করা হয়। গত ২৪ ফেব্রুয়ারী বগুড়ায় ১০ জন চিত্র শিল্পীর অংশগ্রহনে দিনব্যাপী মহাস্থানের ১০টি স্থানে এই আর্ট ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন