বগুড়া সংবাদ ডট কম (শেরপুর প্রতিনিধি রায়হানুল ইসলাম) : প্রাকৃতিক বৈরীতার প্রভাবে পৃথিবী থেকে আজ অনেক কিছুই বিলীন হতে বসেছে। হারিয়ে গেছে চেনাজানা অনেক প্রানীও। প্রাকৃতিক বৈরীতার প্রভাবে মানুষ হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে নিরাপদ আশ্রয়, তেমনি পশুপাখিও তাদের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজতে থাকে পৃথিবীর এ প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তরে। তেমনই পাখিদের এক অভয়ারন্যের দেখা মেলে বগুড়া শেরপুরের গাড়ীদহ ইউনিয়নের রামনগর গ্রামে। এটা যেন বিনোদনের খোরাক হয়ে পড়েছে বিনোদন পিপাসু মানুষদের। শীতের শুরুতে এদেশের বিভিন্ন স্থানে অতিথি পাখিদের আনাগোনা দেখা যায়। অতিথি পাখি প্রাকৃতিক আবহাওয়ার কারনে বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় অস্থায়ী বাসা বাধে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে ১২ টি উচু জাতের গাছে প্রায় ২ হাজার সামুকখোল পাখি বাসা বেধেছে। সেখানেই তারা বাচ্চা দিচ্ছে। পাখির কিচিরমিচির শব্দে মুখরিত সারা গ্রাম। পাখিদের সেই কোলাহল দেখতে ভোর থেকে সন্ধ্যার আগ পর্যন্ত ওই গ্রামে ভীড় করে থাকে হাজার হাজার বিনোদন পিপাসু লোকজন। তারা এখানে পাখিগুলোর কোলাহল ও ঝাকবেধে উড়ে বেরানোর মনোরম দৃশ্য দেখে কিছুটা সময় আনন্দে কাটাচ্ছেন।
বিভন্ন এলাকা থেকে দেখতে আসা দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে জানাযায়, এমন প্রাকৃতিক পরিবেশ পাওয়া খুব কঠিন। এমন পরিবেশের কথা শুনতে পেরে আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রায় দিনই এখানে আসি। পাখিদের কোলাহল কে না পছন্দ করে।
এ ব্যাপারে গাড়িদহ ইউপি সদস্য আলহাজ্ব হাবিবর রহমান জানান, এখানে কোন পাখিদের যেন কেউ বিরক্ত না করে দিকে আমি সব খেয়াল রাখি। এবং গ্রামের সবাইকে সজাগ থাকতে বলি।
ইউপি চেয়ারম্যান দবিবুর রহমান জানান, প্রায় ৮ বছর হলো এই পাখিগুলো এই সময়ে এখানে আসে। এখানেই বাচ্চা দেয়। আগামী ডিসেম্বরের শেষের দিকে আবার চলে যায়। প্রত্যেক বছর এই সময়টাতে এখানে হাজার হাজার জনতা ভীর জমায়। এই সময়গুলোতে মানুষ অনেকটাই বিনোদন উপভোগ করে। এখানে কেউ পাখি শিকার করতে পারেনা। পাখিদের সুরক্ষার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সকল প্রকার পদক্ষেপ গ্রহন করা হয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন