বগুড়া সংবাদ ডট কম (আনোয়ার হোসেন, নামুজা প্রতিনিধি): বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্টে ইউপি সদস্য কর্তৃক তার গ্রাম্য সালিশে এক সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের নিকট থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানা অতঃপর এক মাসে তা পরিশোধের আদেশ। অনুসন্ধানে জানা যায়, মাঝিহট্ট ইউনিয়নের ৭নং ওয়ার্ড ইউপি সদস্য মোজাহার আলী গত ২রা নভেম্বর রাত ১০টায় মাঝিহট্ট হিন্দুপাড়া গ্রামে শ্রী পবন চন্দ্রের পুত্র শ্রী সহদেব কুমারের প্রতি এই আদেশ প্রদান করেন। সহদেব কুমারের অপরাধ তার শিক্ষা জীবনে বগুড়া শহরে একই মেসে থাকা বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারসি গ্রামের কামাল পাশার পুত্র আরাফাত ওরফে তমাল কর্র্তৃক বিগত দুই বছর পূর্বে মাঝিহট্ট ইউপির সুরাইল গ্রামের শ্রী বুদু চন্দ্রের পুত্র শ্রী হারানু চন্দ্রে কে পুলিশে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১১ লক্ষ টাকা নিয়ে প্রতারণা করেছে। সেই অপরাধের সূত্র ধরে ‘উদোর পিন্ডি বুদোর ঘাড়ে’ চাপিয়ে দিয়ে ঐ হিন্দু সংখ্যালঘু পরিবারকে বিভিন্ন ভাবে উক্ত টাকা আদায় করার জন্য আইনি পদক্ষেপ না নিয়ে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছে। এতে করে ঐ সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারে লোকজন সামাজিক ও মানসিক ভাবে বিধ্বস্ত’র দ্বার প্রান্তে দিনানিপাত করছে। উক্ত সালিশে উপস্থিত ছিলেন সাবেক ইউপি সদস্য আঃ জোব্বার, মোজাহার আলী মাষ্টার, মানিক মিয়া সহ অনেকে। এ ব্যাপারে গত ৩ নভেম্বর ইউপি সদস্য মোজাহার আলীর নিকট জানতে চাওয়া হলে, তিনি সালিশে পাঁচ লক্ষ টাকা জরিমানার কথা স্বীকার করেন। স্থানীয় মাতব্বর মোজাহার আলী মাষ্টার জানান, তিনি সালিশের শেষের দিকে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে বিষয়টি শুনেছেন। তিনি আরো বলেন টাকা লেনদেনের কোন কাগজপত্র ও প্রমাণাদি নেই বিধায় আইনগত কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। গত ২৪/১০/১৮ তারিখে বগুড়া থেকে প্রকাশিত কয়েকটি দৈনিক ও অনলাইন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদটি ‘শিবগঞ্জের মাঝিহট্টে চাকুরি ও বিদেশ পাঠানোর নামে টাকা নিয়ে প্রতারণা’ শিরোনামে প্রকাশিত হয়। সরকারি আইন কাননকে তোয়াক্কা না করে ইউপি সদস্য কর্তৃক গ্রাম্য সালিশে এরুপ রায় প্রদান করা নিয়ে সচেতন মহলে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রীয়া।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন