বগুড়া সংবাদ ডট কম : বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সংসদের সদস্য ও বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিন বলেছেন, আওয়ামী লীগ জনগণের দল। তাই জনগণকে কোন কথা দিলে তা আওয়ামী লীগ বাস্তবায়ন করে। মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী সভায় বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যাতে খরচ হবে ৫ হাজার ৫৭৯ কোটি ৭০ লাখ ১৫ হাজার টাকা। গত ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর বগুড়া আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে আওয়ামী লীগের জনসভায় জননেত্রী শেখ হাসিনা এ প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আরো যেসব অঙ্গিকার ব্যক্ত করেছিলেন তাও বাস্তবায়নের পথে। আওয়ামী লীগ উন্নয়নে বিশ্বাসী। গত ১০ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে তা বিশ্বের কোন দেশ এত দ্রুত করতে পারেনি। পদ্মা সেতুসহ যত বড় বড় প্রকল্প সরকার হাতে নিয়েছে তা সত্যিই আশ্চর্যের বিষয়। দেশপ্রেম থাকলেই শুধুমাত্র এ রকম উন্নয়ন করা সম্ভব। জননেত্রী শেখ হাসিনা যখন ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় আসেন তখন তিনি বলেছিলেন আমি জনগণের শাসক নই, সেবক। বঙ্গবন্ধুর কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার ন্যায় জীবনকে তুচ্ছ করে সমস্ত ষড়যন্ত্র উপেক্ষা করে দেশকে উন্নয়নের চরম শিখড়ে নিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকা মানেই বাংলাদেশের মানুষের অধিকার নিশ্চিতকরণ। বিশ্বসভায় বাংলাদেশ আজ অনুকরণীয় আদর্শ। ২০১৩ সালে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের পূর্বে বেগম খালেদা জিয়াকে টেলিফোনে সংলাপের আহ্বান জানালে দূর্ব্যাবহারের শিকার হয়েছিলেন। অথচ গত কিছু দিন হলো বিএনপি সমর্থিত ঐক্য ফ্রন্ট প্রধানমন্ত্রীর সাথে সংলাপের আহ্বান জানিয়ে আসছিল। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে ১ নভেম্বর গণভবনে সংলাপের জন্য তাদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন। গণতন্ত্রের এই নান্দনিকতা একমাত্র আওয়ামী লীগই দেখাতে পারে। আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রে বিশ্বাসী। দেশের প্রয়োজনে আওয়ামী লীগ যে কারো সাথে আলোচনায় বসতে রাজি আছে। তার প্রমাণ ইতিমধ্যেই জনগণ পাচ্ছেন। আমরা বাংলাদেশের মানুষের শান্তি এবং সমৃদ্ধি চাই। জনগণের জন্যই আমাদের রাজনীতি। ক্ষমতা মানে উপভোগ নয় বরং তা দায়িত্ব বলে মনে করেন জননেত্রী শেখ হাসিনা। কারো চাপে আওয়ামী লীগ সংলাপে বসেনি। বরং গণতন্ত্রের যাত্রাকে মসৃণ করতে সবার সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য করতে করণীয় সমস্ত পদক্ষেপ বর্তমান সরকার গ্রহণ করবে। আমরা চাই অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন। যা বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করবে। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর একবারই শান্তিপূর্ণ উপায়ে ক্ষমতা হস্তান্তর হয়েছে তা হলো ২০০১ সালে। আওয়ামী লীগ তখন ২০০১ সালের ১৩ জুলাই তত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলো। এ কথা ভুলে গেলে চলবে না। সুতরাং আওয়ামী লীগই পারে দলীয় সরকারের অধীনে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্পন্ন করতে। তিনি দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা ঘরে ঘরে যান। মানুষকে আওয়ামী লীগের উন্নয়নমূলক কর্মকান্ডের কথা বোঝান। মানুষ অতীতেও আওয়ামী লীগের সাথে ছিল, ভবিষ্যতেও থাকবে। গতকাল বুধবার বেলা সাড়ে ১১ টায় সাতমাথা দলীয় কার্যালয়ের সামনে বগুড়া-সিরাজগঞ্জ রেললাইন প্রকল্প জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভায় অনুমোদন হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে আনন্দ মিছিল পরবর্তী সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথাগুলি বলেন। সভায় আরো বক্তব্য রাখেন এ্যাড. মকবুল হোসেন মুকুল, মঞ্জুরুল আলম মোহন, প্রদীপ কুমার রায়, আসাদুর রহমান দুলু, শাহ্ আখতারুজ্জামান ডিউক, এ্যাড. জাকির হোসেন নবাব, সুলতান মাহমুদ খান রনি, মাশরাফী হিরো, আল রাজি জুয়েল, তপন চক্রবর্তী, দিলীপ কুমার চৌধুরী, এ এইচ আজম খান, রফি নেওয়াজ খান রবিন, আবু সুফিয়ান সফিক, তালেবুল ইসলাম তালেব, মাফুজুল ইসলাম রাজ, শেখ শামীম, ওবায়দুল হাসান ববি, আব্দুস সালাম, শুভাশীষ পোদ্দার লিটন, সাজেদুর রহমান সাহীন, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, নাইমুর রাজ্জাক তিতাস প্রমূখ। সভায় বক্তারা ২০১৫ সালের ১২ নভেম্বর ঐতিহাসিক আলতাফুন্নেছা খেলার মাঠে জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বগুড়াবাসীর পক্ষ থেকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ্ব মমতাজ উদ্দিনের প্রস্তাবনার প্রেক্ষিতে এই দাবী পুরণ হাওয়ায় জেলা আওয়ামী লীগ ও সর্বস্তরের জনগণের পক্ষ থেকে মমতাজ উদ্দিনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। তারা আশা করেন মমতাজ উদ্দিনের প্রস্তাবনা অনুযায়ী আরও ৮টি দাবী যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করেছেন তা অতি শীঘ্রই বাস্তবায়ন হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন