বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার খাদ্য শস্য সাইলো’র আগাছা ও ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করার নামে কয়েক লাখ টাকার মাটি ও ইট বিক্রি করে পকেটস্থ করার অভিযোগ মিলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সান্তাহারে অবস্থিত খাদ্য শস্য সাইলো ও মাল্টিওয়্যার হাউজ (ঢালাভাবে গম ও বস্তায় চাল সংরক্ষন) রাস্ট্রের একটি কেপিআই প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠান পরিচ্ছন্ন রাখা সহ নানা কাজের জন্য রয়েছে দৈনিক মজুরি ভিত্তিক অনেক গুলো শ্রমিক। কিন্তু করা হয় না পরিস্কার পরিচ্ছন্নতার কাজ। ফলে এই প্রতিষ্ঠানের যত্রতত্র থাকে আগাছা ও ঝোপ-জঙ্গলে পরিপুর্ণ। এতে বাসা বাধে বিষাক্ত সাপ-বেজি ও হিংস্র শিয়ালের দল। এ অবস্থা চলে আসছে বছরের পর বছর ধরে। বর্তমান সাইলো অধিক্ষক মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ খান শিবলী এখানে যোগদান করার পর তিনি এই অবস্থাপনার প্রতি নজর দেন। তিনি পুরো সাইলো ক্যাম্পাস পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার নির্দেশ দেন। এ কাজের জন্য নিরাপত্তা ইনচার্য (ইলেক্ট্রিক বিভাগের কর্মচারী) সাইদুর রহমানকে দায়ীত্ব দেওয়া হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। তিনি কাজের দায়ীত্ব পেয়েই শুরু করেন পকেট ভারী করার ধান্দা। আগাছা ও ঝোপ-জঙ্গল পরিস্কার করার নামে সাইলো ক্যাম্পাস থেকে মাটি ও ইট বিক্রি করে দেন সাইলো সংলগ্ন সান্দিড়া গ্রামের ট্রাক্টর মালিক জনৈক পিন্টু মিয়ার নিকট। ক্রেতা পিন্টু গত এক মাসেরও বেশী সময় ধরে সেই মাটি ও ইট বিক্রি করে চলেছে অবাধে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টাক্টর মালিক পিন্টু মিয়া তার নিজস্ব টাক্টর দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় এক হাজারেরও বেশী টাক্টর মাটি ও ইট আশপাশ এলাকার ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নিকট বিক্রি করেছেন।
এ ব্যাপারে সাইলো অধিক্ষক মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ খান শিবলী’র সাথে তাঁর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা তিনি বলেন, বিক্রিত মাটি ও ইট সাইলো’র নয়। এগুলো প্রায় দুই বছর পুর্বে সমাপ্ত হওয়া চাল গুদাম (মাল্টি ওয়ার হাউজ) নির্মান প্রকল্পের ঠিকাদারের। এ কারনে আমার দায়-দায়ীতত্ব নেই। পরিচ্ছন্নতা কাজের দায়ীত্ব প্রাপ্ত কর্মচারী সাইদুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোন সদুত্তর দিতে পারেনি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন