বগুড়া সংবাদ ডট কম (আনোয়ার হোসেন, নামুজা প্রতিনিধি): বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্টে চাকুরি ও বিদেশ পাঠানোর নামে চার জনের কাছে থেকে ১৮ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা নিয়ে প্রতারণা করার সংবাদ পাওয়া গেছে। জানা যায়, বগুড়া জেলার সারিয়াকান্দি উপজেলার নারসি গ্রামের কামাল পাশার পুত্র আরাফাত রহমান, বগুড়া সেউজগাড়ী পালপাড়া বাগানবাড়ী জনৈকা ফাতেমার ছাত্রাবাসে থাকতেন। সেই সুবাদে শিবগঞ্জ উপজেলার মাঝিহট্ট ইউনিয়নের মাঝিহট্ট পূর্বপাড়া গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল জোব্বারের পুত্র ফরিদ উদ্দিন বগুড়া পুলিশ লাইনে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবল পদে বিগত ২০১৫ সালে চাকুরি জন্য প্রার্থী বাছাই পর্বে অকৃতকার্য হয়ে বাহিরে আসার পথে উপরে উল্লেখিত আরাফাতের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং সে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে। তারা একে অপরের ঠিকানা আদান প্রদান করে ও আরাফাত তার বগুড়া সেউজগাড়ী পালপাড়া বাগানবাড়ী জনৈকা ফাতেমার ছাত্রাবাসে যোগাযোগ করতে বলে। এর পরিপ্রেক্ষিতে কয়েকদিন পর উক্ত ছাত্রাবাসে আরাফাতের পাতানো ফাঁদে চাকুরি প্রত্যাশিত ফরিদ দেখা করতে এসে তার নিজ এলাকার ছাত্র একাব্বর ও সহদেব এর সঙ্গে দেখা হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে মাঝিহট্টে এক ইসলামী জালসায় ছাত্র একাব্বর আলীর বাড়ীতে আরাফাত রহমান দাওয়াত খেতে আসে এবং রাত্রী যাপন করে। সেখানে আব্দুল জোব্বারের পুত্র ফরিদ উদ্দিনকে পুলিশে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে সু-কৌশলে তার নিকট থেকে ১ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেয়। কয়েকদিন পর আবার একই গ্রামের ছালামতের পুত্র হান্নানের নিকট থেকে মালয়েশিয়া পাঠানোর কথা বলে ১ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ও পাসপোর্ট গ্রহন করে। এর কিছু দিন পর একই ইউপির সুরাইল গ্রামের শ্রী বুদু চন্দ্রের পুত্র শ্রী হারানু চন্দ্রেকে পুলিশে চাকুরি পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ১১ লক্ষ টাকা গ্রহন করে। অপরদিকে চাকুরি প্রত্যাশিতদের সূত্রধরে এর কিছুদিন পরে একই ইউপির রাজবংশি পাড়ার শ্রী দিগেন চন্দ্রের পুত্র শ্রী স্বাধীন কুমার চন্দ্রকে বগুড়া জেলা প্রশাসক অফিসের পিয়ন পদে চাকুরি দেওয়ার কথা বলে ৫ লক্ষ টাকা গ্রহন করে। সবমিলিয়ে মাঝিহট্ট ইউপির চার টি সহজ সরল পরিবারের নিকট থেকে বিভিন্ন কৌশলে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে প্রতারক আরাফাত রহমান মোট ১৮লক্ষ ৭০হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। গত ২৩ অক্টোবর সরেজমিনে স্ব-স্ব পরিবারের নিকট প্রতারিত হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তারা প্রত্যেকে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন, এছাড়াও প্রতারক আরাফাত কর্তৃক চাকুরি ব্যাপারে কোন চুক্তিপত্র বা কাগজপত্র হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা কোন চুক্তিপত্র বা কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। প্রতারিত পরিবারের লোকজন জানান, চাকুরি প্রত্যাশিত প্রত্যেকের সঙ্গে প্রতারক আরাফাত মোবাইলফোনে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন এবং চাকুরি হবে বলে আস্থা স্থাপন করেন। দীর্ঘ দিনেও প্রতারক আরাফাত কাউকে চাকুরি দিতে না পাড়ায় টাকা ফেরতের জন্য প্রত্যেক চাকুরি প্রত্যাশিরা চাপ প্রয়োগ করলে প্রতারক আরাফাত রহমান কাউকে টাকা ফেরত না দিয়ে তার ব্যাবহিৃত তিনটি মোবাইল নম্বর বন্ধ করে আত্মগোপন করেন। উক্ত ঘটনায় গত ২০ ও ২২ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে শ্রী সহদেব কুমারের বাড়ীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য মোজহার আলী ও গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রতারিত হওয়া পরিবারের লোকজন প্রতারক আরাফাত আত্মগোপন করার পরিপ্রেক্ষিতে সৃষ্ট সমস্যা থেকে উত্তোলণে সবার সহযোগিতা কামনা করেন। এ ব্যাপারে গত ২৩ অক্টোবর প্রতারক আরাফাত রহমানের ব্যাবহিৃত তিনটি মোবাইলফোনে কয়েকবার যোগাযোগ করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন