বগুড়া সংবাদ ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে: বগুড়ার ধুনট সদর মন্দিরের পূজা মন্ডপে হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও মারধরের অভিযোগে যুবলীগের ৭ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। শুক্রবার ধুনট থানার এসআই শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে পৌর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী হাসান অন্তর সহ এজাহারভুক্ত ৭জন এবং অজ্ঞাত আরো ৪/৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ওই মামলায় ঘটনার সাথে জড়িত ৫ নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করেছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলো- ধুনট অফিসারপাড়া এলাকার শাহাদত হোসেনের ছেলে পৌর যুবলীগ নেতা তৌহিদুল আলম পলাশ (২৫), কাজিপুরের পাইকপাড়া গ্রামের বেলাল হোসেনের আবু রায়হান টুটুল (২৬), ধামাচামা গ্রামের চাঁন মিয়ার ছেলে কামাল হোসেন রিপন (২৫), ধুনট কলেজপাড়া এলাকার জাহাঙ্গীর আলমের ছেলে পারভেজ (২৩) ও বথুয়াবাড়ী গ্রামের গোলজার হোসেনের ছেলে পলাশ মিয়া (২৪)।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানাগেছে, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টায় ধুনট সদর মন্দিরের পূজা মন্ডপ প্রাঙ্গনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছিল। ওই অনুষ্ঠানে স্থানীয় এক হিন্দু নারী নৃত্য পরিবেশন করছিল। এসময় স্থানীয় যুবলীগের কিছু নেতাকর্মী মদ্যপান করে মঞ্চে হিন্দু নারীদের উত্ত্যাক্ত করে পূজা মন্ডপে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে থাকে। পরে পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন তাদেরকে বাধা দিতে গেলে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর কিছুক্ষন পরই আবারও তারা মোটরসাইকেল শোডাউন নিয়ে পূজামন্ডপে প্রবেশ করে হামলা চালিয়ে চেয়ার ভাংচুর করতে থাকে।

এতে বাধা দিতে গেলে যুবলীগের নেতাকর্মীরা ধুনট সদর মন্দির কমিটির সভাপতি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রনি কুমার সাহা সহ কয়েকজনকে মারধর করে। এসময় পূজা উদযাপন কমিটির লোকজন ও দর্শকদের সহযোগিতায় ডিউটিরত পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পৌর যুবলীগ নেতা তৌহিদুল আলম পলাশ ও আবু রায়হান টুটুলকে গ্রেফতার করে। এঘটনায় শুক্রবার থানায় মামলা দায়েরের পর রাতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অপর তিন আসামী রিপন মিয়া, পলাশ মিয়া ও পারভেজকে গ্রেফতার করেছে। এছাড়া ওই যুবলীগের নেতাকর্মীর তিনটি মোটরসাইকেলও জব্দ করা হয়েছে।

ধুনট সদর মন্দির কমিটির সাধারন সম্পাদক ও পৌর ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সুজন কুমার সাহা বলেন, যুবলীগের নেতাকর্মীরা মদ্যপান করে পূজা মন্ডপে হামলা চালিয়ে সদর মন্দির কমিটির সভাপতি রনি কুমার সাহা সহ কয়েকজনকে মারধর করেছে।

তবে থানা হাজতে তৌহিদুল আলম পলাশ হামলার বিষয়টি অস্বীকার করে সাংবাদিকের বলেন, পূজা মন্ডপে গান শোনার সময় কে বা কারা পিছন থেকে চেয়ার ছুড়ে মারলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। তবে যুবলীগের কেউ হামলার ঘটনার সাথে জড়িত নয় বলে সে দাবি করেছে।

ধুনট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) খান মো: এরফান বলেন, পূজা মন্ডপে ভাংচুর ও হামলার ঘটনায় থানায় মামলা দায়েরের পর ঘটনার সাথে জড়িত ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং অন্য আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন