বগুড়া সংবাদ ডটকম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট থেকে: মেলার নাম ‘বউ মেলা’। তবে মেলায় বউ কিনতে পাওয়া যায় না। মেলায় শুধু নারীরাই কেনাকাটা করতে পারেন। মেলার অধিকাংশ বিক্রেতাই হচ্ছে নারী। আর একারনেই মেলাটির নাম করন হয়েছে বউ মেলা।

 

বগুড়ার ধুনট পৌর এলাকার ইছামতি নদীর তীরে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও অনুষ্ঠিত হয়েছে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী বউমেলা। শুক্রবার ব্যাপক উৎসাহ উদ্দিপনা আর নানা আনন্দ আয়োজনে দেবী দূর্গার বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এক দিনের এই বউমেলার অনুষ্ঠানিকতা শেষ হয়েছে।

জানাগেছে, ধুনট পৌরসভার ছোট একটি গ্রাম সরকারপাড়া। ওই গ্রামে প্রায় শতভাগ হিন্দু সম্প্রদায়ের বসবাস। গ্রামের পূর্ব পাশ দিয়ে বহমান ইছামতি নদী। নদীতে ধুনট সদরপাড়া, সরকারপাড়া ও দাসপাড়া সহ আশপাশের প্রতিমা এক সাথে বিসর্জন দেওয়া হয়। প্রতিমা বির্সজন উপলক্ষে লোকজনের সমাগম বেশী হওয়ায় যুগযুগ ধরে ওই গ্রামে মেলা বসে। এবারও বসেছিল ঐতিহ্যবাহী বউ মেলা। মেলায় প্রবেশ করতেই দেখা যায় বৃষ্টিকে উপেক্ষা করে সড়ক জুড়ে মানুষের কোলাহল। শিশুর হাতে মেলার বাঁশি। হাওয়ায় ভাসা রঙ্গিন বেলুন। নব সাঁজে বঁধুর ঘোমটার ফাঁক দিয়ে উকি মারছে সিথির সিঁদুর। গ্রামটি যেন হঠাৎ করে জেগে ওঠে কোন এক অজানা পরশে।

বাঙ্গালী হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দূর্গা পূজাকে ঘিরে সরকারপাড়া হয়ে ওঠে এক উৎসবমুখর গ্রাম। মেলায় হিন্দু ধর্মালম্বী লোকজন আসে ভক্তি আর মানত নিয়ে। কিন্তু অন্য ধর্মের লোকজন আসে আনন্দ উৎসব করতে। মূহুর্মূহু উলুধ্বনি, সাঁকের আওয়াজ, ঢাক কাঁসরের তালে তালে চলে আরতির নাঁচ। ধূপের সুরভিত ধোঁয়া, বাতাসে নাড়–-সন্দেস-মিষ্টির গন্ধ আর সাউন্ড বক্রের হাই ভলিয়মের শব্দ মেলার উৎসবের আমেজ। সবঅপশক্তি বিনাস করে কল্যান প্রতিষ্ঠায় দেবী দূর্গা মর্তোলোক ছেড়ে এক বছরের জন্য চলে যাওয়ার দৃশ্য দেখাই এই মেলার প্রধান আকর্ষন। বিজয় দশমীতে সূর্যাস্তের সাথে সাথে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে এই মেলার সমাপ্তি হয়।

মেলায় আগত ক্রেতা পপি রানী রানী সাহা, বন্ধনা রানী, স্বরসতি রানী ও শিউলী রানী জানায়, মেলার ভিতরে পুরুষ লোক না থাকায় অনেক সাচ্ছন্দে কেনাকাটা করেছি।

মেলা কমিটির সভাপতি নিতাই চন্দ্র জানান, প্রতিবছরই মেলায় ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের ভীড় বৃদ্ধি পাচ্ছে। এবারও শান্তিপূর্ন পরিবেশে মেলা শেষ হয়েছে। মেলায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে পুলিশ মোতায়েন ছিল এবং এলাকাবাসীর অনেক সহযোগীতাও ছিল।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন