বগুড়া সংবাদ ডটকম (রশিদুর রহমান রানা, শিবগঞ্জ বগুড়া প্রতিনিধিঃ বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার কাঠগাড়া জোনাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষক রিপনকে নিয়ে বিপাকে পরেছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ। একের পর এক অনিয়ম ও নিজেকে প্রভাবশালী মনে করা, অন্য শিক্ষক ও কর্মচারীদের ফোনে হুমকি দেওয়াসহ নানা অনিয়মের সাথে জড়িত থাকার প্রমান পাওয়া গিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিএড ১ম সেমিষ্টার পরীক্ষা দেওয়া নিয়ে ঘটনাটির সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গত বুধবার ১৭.১০.১৮ তারিখে ইংরেজী সহকারী শিক্ষক রিপন কোন কারণ না জানিয়ে মাদ্রাসায় অনুপস্থিত থাকেন। উল্টো নিজে অন্যায় করে মারপিটের ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে মৌখিক ভাবে জানায়যে, কাঠগাড়া জোনাবিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (ইংরেজী) রিপন মিয়া বিএড প্রশিক্ষণের ১ম সেমিষ্টার পরিক্ষায় অংশ গ্রহন করার জন্য স্ব-বেতনে ছুটি মঞ্জুরের আবেদন করে কিন্তু সুপার তার ছুটি মঞ্জুর না করে বিভিন্ন প্রকার তাল বাহনা এবং অপ্রয়োজনীয় একাডেমিক কাগজপত্র চেয়ে অযৌক্তিক ভাবে তাকে বার বার হয়রানির শিকার করেন।

সে তার অযৌক্তিক কথা-বার্তায় কোনো জবাব প্রদান না করায় সুপার কর্মস্থলে কর্মক্ষেত্রে বার বার বিঘ্ন ঘটায়। সুপার আব্দুল কুদ্দুস ও অফিস সহকারী শহিদুল ইসলামের নির্দেশে অত্র মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক (সামাজিক বিজ্ঞান) মোজাম্মেল হোসেন মুঠোফোনে শিক্ষক রিপনকে হুমকি-ধামকি দেয় এবং অযাচিতভাবে বাক-বিতান্ডার সৃষ্টি করে। উক্ত ঘটনার পরের দিন মঙ্গলবার মাদ্রাসায় যাবার পর সহকারী শিক্ষক মোজাম্মেল তার সহকর্মী মামুনুর রশিদ (সহকারী মৌলভী) শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে মাদ্রাসার অফিস রুমে মুঠোফোনে বলা কথাগুলোর জেরধরে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে। এর এক পর্যায়ে শিক্ষক মামুনুর রশিদ ও মোজাম্মেল এক হয়ে মারমুখী আচারণ করে। এতেও খ্যান্ত না হয়ে শিক্ষক রিপনের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষক মোজাম্মেল হোসেন কিল ঘুষি ও এলোপাথারিভাবে মারপিট করতে থাকে এ সময় শিক্ষক মামুনুর রশিদ লাঠি দিয়ে রিপনকে বেধরক ভাবে মারপিট করে ।

উক্ত ঘটনার সু-বিচার চেয়ে শিক্ষক রিপন বাদী হয়ে অত্র মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুস, শিক্ষক মামুনুর রশিদ, শিক্ষক মোজাম্মেল ও অফিস সহকারী শহিদুল ইসলামসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে ১৬ অক্টোবর, ২০১৮ তারিখে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সরেজমিনে গিয়ে আরে জানা যায়, উক্ত মারপিটের ঘটনা ভূয়া ও বানোয়াট। প্রকৃত সত্য হলো, রিপন নিজেই ঘটনা ঘটিয়ে উল্টো অভিযোগ দায়ের করে পারপাওয়ার চেষ্টা করছে। মাদ্রাসার সুপার আব্দুল কুদ্দুসের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ইতোপূর্বে তাকে অনেক সুযোগ দেওয়া হয়েছে কিন্তু সে তার দায়িত্বের সুবিচার করতে পারেনি। তার বিধি বর্হিঃভূত কর্মকান্ডের জন্য গভর্নিং বডির সাথে মিটিং করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরো বলেন, আমি এ ঘটনার তিব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার আলমগীর কবীর বলেন, আমি মৌখিক ভাবে বিষয়টি জেনেছি এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে বিষয়টি দেখার জন্য বলেছি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন