বগুড়া সংবাদ ডট কম : সেলিম ইসলাম অনিক ও রাইসুল ইসলাম আসাদ তারা দুই ভাই, এবার উচ্চ শিক্ষা গ্রহনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছিল। অনিক জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ও সি উভয় ইউনিটে উর্ত্তীণ হয়েছে, যার মেধাক্রম ১২৬ ও ৫৪০। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বি ইউনিটে উর্ত্তীণ হয়েছে আসাদ যার মেধাক্রমে ৫৪০তম। কিন্তু ভর্তি হতে যে অর্থের প্রয়োজন তার যোগান কিভাবে হবে এনিয়ে সংশয় তাদের চোখে মুখে। তারা দুই ভাই-ই দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী মির্জাপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে তারা। বাবা পেশায় একজন রঙ মিস্ত্রি। পাঁচ ভাইবোনের সংসারে বড়বোনের বিয়ে হয়ে গেছে। ছোট বোন অষ্টম আর ছোট ভাই সপ্তম শ্রেনীতে পড়ে। রঙের কাজ করে সংসারের খরচ চালিয়ে সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ কোনভাবেই চালানো সম্ভব নয় দরিদ্র শহিদুলের। আর এ কারনে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী দুই ভাইয়ের উচ্চ শিক্ষার পথ রুদ্ধ হওয়ার পথে। ঠিক সে সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি আহবান তাদেরকে আশার আলো দেখায়। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য অর্থনৈতিক সমস্যার সমাধান সাথে আগামী দিনে আরো সহযোগিতার আশ্বাস। শুধু অনিক আর আসাদ নয় ওদের সাথে আর্থিক সহযোগিতা পেয়েছে আরো ৫ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগপ্রাপ্ত দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তির জন্য আর্থিক অনুদান হিসেবে প্রত্যেককে ১৮ হাজার করে টাকা দেয়া হয়েছে। অদম্য মেধাবী দরিদ্র শিক্ষার্থীদের ভর্তি হতে আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ গ্রহন করে কালের কণ্ঠ বগুড়া শুভসংঘ। এই উদ্যোগ সফল করতে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন বগুড়ার বিশিষ্ঠ ব্যবসায়ী, সমাজসেবক ও জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ। রবিবার বেলা সাড়ে ১২ টায় শহরের নবাববাড়ী আল আমিন কমপ্লেক্সের ৩য় তলায় নগদ আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়। কালের কণ্ঠ বগুড়া শুভসংঘের সভাপতি আব্দুস সালাম বাবু’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম। তিনি শিক্ষার্থীদের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেন। দৃষ্টি প্রতিবন্ধি দুই ভাই সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বি ইউনিটে উর্ত্তীণ পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ ছত্রশিকারপুর শালডাঙার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধি রোকনুজ্জামান, রাজশাহী মেডিকেল কলেজে উর্ত্তীণ শিবগঞ্জের তমা রায়, ময়মনসিংহ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে উর্ত্তীণ দিনাজপুরের মামুন আলী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে খ ইউনিটে উর্ত্তীণ শিবগঞ্জের জেসমিন ও বগুড়া সদরের শরিফুল ইসলামকে আর্থিক সহায়তা দেয়া হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এড. মকবুল হোসেন মুকুল, জেলা ট্রাকমালিকসমিতির সভাপতি আব্দুল মান্নান আকন্দ, জেলা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ডাবলু, জেলা ট্রাক মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার, শুভসংঘের পরিচালক জাকারিয়া জামান, কালের কণ্ঠ বগুড়া ব্যুরো প্রধান লিমন বাসার। কালের কণ্ঠ বগুড়া শুভসংঘের সা: সম্পাদক শিশির মোস্তাফিজের সঞ্চালনায় এসময় সদর থানার ওসি এসএম বদিউজ্জামান, ট্রাফিক ইন্সপেক্টর খলিলুর রহমান সহ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।বগুড়া পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভুঞা বিপিএম বলেন, মানুষের সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার পথে দারিদ্রতা বাধা হতে পারে না। অদম্য মেধা আর সাহস মানুষকে সাফল্যের পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামীর কর্ণধার। আগামীতে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে শিক্ষার্থীদেরকে প্রস্তুত হতে হবে। তিনি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে সবার প্রতি আহবান জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন