বগুড়া সংবাদ ডটকম (শেরপুর সংবাদদাতা কামাল আহমেদ) বগুড়ার শেরপুরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিংয়ে শতশত কলকারখানা অচল হয়ে পড়েছে। এছাড়া নড়বড়ে সিস্টেমে চলছে বিদ্যুত সরবরাহ। ফলে বিদ্যুতের যখন তখন আসা যাওয়ায় নাকাল হাজার হাজার গ্রাহক। এমনকি বিদ্যুতের ভেল্কিবাজীতে মানুষ বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে আজ মঙ্গলবার (১৯সেপ্টেম্বর) সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রালয়ের মন্ত্রী বরাবরে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে। উপজেলা নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে এই স্মারকলিপি দেয়া হয়। এসময় সংগঠনটির সভাপতি সাইফুল বারী ডাবলু, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থার উপজেলা কমিটির সভাপতি শফিকুল ইসলাম শফিক, নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সুজিত বসাক, যুগ্ম সম্পাদক আইয়ুব আলী, কোষাধ্যক্ষ শাহজামাল কামাল, সমাজকল্যাণ সম্পাদক রাহুল আলম লিমন, নির্বাহী সদস্য আব্দুল হালীম খোকন, সাংবাদিক নাহিদ আল মালেক, আব্দুল আলীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি থেকে জানা যায়, বর্তমান সরকার বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ঘরে ঘরে বিদ্যুত পৌঁছে দিতে কাজ করছেন। ঠিক তখন স্থানীয় বিদ্যুত অফিসের কতিপয় অসৎ কর্মকর্তাদের কারণে গ্রাহকদের সীমাহীন দুর্ভোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। পুরণো লাইন মেরামতের নামে নতুন লাইন নির্মাণ করে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। খুঁটি বাণিজ্যসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে তাদের মধ্যে অনেকেই আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছেন। আর খেসারত দিচ্ছেন বিদ্যুত গ্রাহকরা। পুরণো লাইনে বিদ্যুত সরবাহ করায় আকাশে মেঘ ডাকলেই বিদ্যুত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যুত সরবরাহের দুর্বল খুঁটি ভেঙে পড়ে এবং তার ছিড়ে যায়। ট্রান্সফরমার বিকল হয়ে পড়ে। র্দীঘ সময় মেরামত কাজ শেষে আবার তা চালু হয়। এতে করেও ঘন্টার পর ঘন্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকছে। এরপর বিদ্যুতের লোডশেডিংতো লেগেই আছে। স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, বিগত বছর দুয়েকধরে বিদ্যুতের লোডশেডিং মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। এছাড়া দিনে-রাতের অধিকাংশ সময়জুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় বাণিজ্যিক এলাকাখ্যাত এই উপজেলায় শতশত কল-কারখানা প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। ফলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হয়েছে। তাছাড়া বিদ্যুতের বিষয়ে কোন অভিযোগ দেয়ার জন্য নির্বাহী প্রকৌশলীসহ অন্যান্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা ফোন ধরেন না। তাই এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন নাগরিক স্বার্থ সংরক্ষণ কমিটির নেতারা।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শেরপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী গোপাল চন্দ্র সাহা বিদ্যুতের খারাপ অবস্থার কথা স্বীকার করে বলেন, এই কর্মস্থলে নতুন এসেছি। তাই অনেক কিছু এখনও অজানা রয়েছে। তবে অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে এই কর্মকর্তা দাবি করেন।

 

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন