বগুড়া সংবাদ ডট কম (মহাস্থান প্রতিনিধি এস আই সুমন) : শনিবার বেলা ২ টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের বিরুদ্ধে কোর্টে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রতিবাদে রায়নগর ইউপি কার্যালয়ে এক সংবাদ সন্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সন্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শিবগঞ্জ উপজেলা ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সভাপতি ও কিচক ইউপি চেয়ারম্যান এবিএম নাজমুল কাদির। বক্তব্যে তিনি বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যান এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও রায়নগর ইউপির পর পর দু বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু ও তার সকল ইউপি সদস্যদের সু নামে ঈর্ষান্বিত হয়ে একই ইউনিয়নের রায়নগর গ্রামের জনৈক রুহুল আমিন তার জামায় আইয়ুব হোসেনের কাছে থেকে তার স্বার্থ উদ্ধার করতে পা পেয়ে তার মেয়ে রাবেয়া খাতুনকে দিয়ে তাদের বিরুদ্ধে বগুড়া কোর্টে একটি মিথ্যা মামলা দায়ের করে। সংবাদ সন্মেলনে তিনি আরও বলেন, শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর গ্রামের মৃত আরিফ উদ্দিনের পুত্র উক্ত রুহুল আমিন একজন মামলাবাজ, ঠক, প্রতারক ও সুদ খোর শ্রেণ্রীর লোক। তার পিতা একজন দেশদ্রোহী লোক ছিলেন। জনসন্মুখে তার পিতা পাকিস্তানীদের পক্ষে কাজ করার জন্য দেশের মুক্তিযোদ্ধারা তাকে গুলি করে হত্যা করেছিল। রুহুল আমিনের কাজই হলো এলাকার সাধারণ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিভিন্ন ভাবে হয়রানী করে মিথ্যা মামলা দিয়ে স্বার্থ ও অর্থ হাছিল করা। সে ১৯৮২ সালে দিনে দুপুরে তারই গ্রামের জোব্বার সোনারের হালের গরু জবাই করে খেয়ে অপরাধ স্বীকার করে জরিমানা দিয়েছিল। একই বছরে তার গ্রামের রকিবুল্লাহ শেখের পুত্র রইচ উদ্দিন শেখকে মার্ডার করে ১ নং আসামী হয়েছিল। ঘটনা এখানেই শেষ নয়, তার ছোট মেয়ে সুমিকে দিয়ে রাজশাহী বিশ্ব বিদ্যালয়ের একজন ছাত্রকে ফাদে ফেলে অবৈধ ভাবে অর্থ আদায় করে। বর্তমানে সে মেয়েটি তার বাড়ীতে। প্রকৃত ঘটনা হলো তার বড় মেয়ে রাবেয়া খাতুনকে দিয়ে ফাদে ফেলে এলাকার লোকজন ডেকে জোরপূর্বক আইয়ুব হোসেন নামের এক ব্যক্তির কাছে থেকে অবৈধ টাকা আদায় করতে না পেয়ে তার সাথে বিবাহ দেয়। পরর্তীতে আইয়ুবকে না জানিয়ে রাবেয়া খাতুন তার বাড়ী থেকে মোটা অংকের টাকা ও অন্যান্য আসবাবপত্র নিয়ে বাবার বাড়ী রায়নগরে চলে আসায় আইয়ুব হোসেন ১৮/৮/১৬ ইং তারিখে রাবেয়া খাতুনের কাছে তালাকের নোটিশ পাঠায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রুহুল আমিন লিগ্যাল এইডের সহযোগীতা চাইলে উভয় পক্ষ আপোষ – মিমাংসা চায়। কিন্তু এটা ছিল রুহুল আমিনের ছলনা এবং অর্থ আদায়ের কৌশল। সে তার মেয়েকে দিয়ে আপেষের কথা বলে আইয়ুবের নিবট হতে ২ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে এবং সাদা ষ্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে আরো অর্থ আদায়ের লক্ষে পর পর মামলা করতে থাকে। তার এহেন অপকর্মের বিষয়ে রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদ হতে প্রত্যায়ন পত্র প্রদান করায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার বড় মেয়ে রাবেয়াকে দিয়ে রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু ও তার পরিষদের ১২ জন সদস্যের নামে তালাক জালিয়াতীর মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন মামলা দায়ের করে এবং বিভিন্ন পত্রিকায় তাদের নামে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশন করে নিয়ে তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। সে ইতি পূর্বেও টেপাগাড়ী গ্রামের একটি নারী শিশু মামলা দিয়ে চেয়ারম্যান এ একজন সদস্যকে জড়িত করে যাহা মহামান্য হাইকোর্টে স্থগিতাদেশ হয়। এভাবেই স্বার্থন্বেষী মহল রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাদের সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করছে। আমি তার জোড় প্রতিবাদ করছি এবং মিথ্যা মামলাকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে দৃষ্টান্ত মুলক শাস্তির দাবী করছি। সংবাদ সন্মেলনে উপস্থিত ছিলেন শিবগঞ্জ পৌর মেয়র তৌহিদুর রহমান মানিক, রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ রিজু, মোকামতলা ইউপি চেয়ারম্যান মোখলেছার রহমান, সৈয়দপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ হোসেন তৌফিক, দেউলি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল হাই প্রধান, শিবগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান তোফায়েল আহম্মেদ সাবু, পিরব ইউপি চেয়ারম্যান সফিকুল ইসলাম, বিহার ইউপি চেয়ারম্যান মহিদুল ইসলাম, আটমুল ইউপি চেয়ারম্যান মোজাফ্ফর হোসেন, বুড়িগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর, মাঝিহট্র ইউপি চেয়ারম্যান মির্জা গোলাম হাফিজ, ময়দানহাটা ইউপি চেয়ারম্যান এস এম রুপম সহ রায়নগর ইউপির ১২ জন সদস্য/ সদস্যা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি বর্গ।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন