bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডট কম (সোনাতলা সংবাদদাতা মোশাররফ হোসেন)   বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের মেম্বর লুৎফর রহমান শিবলু (৩৬) একই ইউনিয়নের জনৈক নারী মেম্বরকে সোমবার দুপুরের দিকে সাথে নিয়ে মহাস্থান গড় এলাকায় এক আত্মীয়ের বাড়িতে উঠলে স্থানীয় লোকজন তাকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দিয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার রায়নগর ইউনিয়ন পরিষদের আলাউদ্দিন মেম্বর জানান,সোনাতলার শিবলু নামে এক ইউপি মেম্বর এক মহিলাকে নিয়ে মহাস্থান গড় এলাকায় এক বাড়িতে উঠে গল্প করছিল। স্থানীয় লোকজন তা টের পেয়ে ওই বাড়িতে গিয়ে তাদের পরিচয় জানতে চাইলে শিবলু মেম্বর নিজেদেরকে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয় দেন। স্বামী-স্ত্রীর প্রমান জানতে চাইলে শিবলু মেম্বর তখন উল্টাপাল্টা কথা বলতে থাকেন। এতে সেখানকার উৎসুক জনতার সন্দেহ সৃষ্টি হলে শিবলু মেম্বরকে উত্তম-মাধ্যম দিয়ে ছেড়ে দেয়। আলাউদ্দিন মেম্বর আরও জানান, উক্ত শিবলু মেম্বর আমাদের এলাকার পুটু মিয়ার আত্মীয়ের পরিচয় পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে ১২ নং রায়নগর ইউপি চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ রিজু’র কাছ থেকে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন বিষয়টি আমার জানানেই। মহাস্থান গড় এলাকায় ওই বাড়িতে থাকা মোমেনা বেগম জানান, স্বামী সন্তানদের নিয়ে আমরা এ বাসায় দীঘদিন ধরে ভাড়ায় থাকি। আমি উক্ত শিবলু মেম্বরের মাউয়াই হই। সেই সুবাদে আমার পুত্র শিবলু মেম্বর এক মহিলা নিয়ে দুপুরের দিকে আমাদের এ বাড়িতে ওঠে। ওঠার কিছুক্ষণ পর স্থানীয় গবরা মিয়া ও পুটুসহ কয়েকজন মানুষ আমাদের বাড়িতে উঠে শিবলু মেম্বরকে দাবান-শাসান করে। এক পর্যায়ে কেউকেউ শিবলু মেম্বরের কাছ থেকে পাঁচহাজার টাকা অন্যায়ভাবে দাবী করে। শেষ পর্যায়ে টাকা দিয়েছে কি-না, তবে মারপিট করে এখান থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। ঘটনাটি মহাস্থানগড় এলাকার অনেকে জানে। এ ব্যাপারে লুৎফর রহমান শিবলু মেম্বরকে মোবাইল ফোনে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি সহজেই স্বীকার করেন এবং পত্রিকায় কিংবা টিভিতে এ ঘটনা সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। তারপক্ষ থেকে দিগদাইড় ইউপির সাবেক মেম্বর উজ্জ্বল হোসেনও সংবাদ প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধ করেন। শিবলু মেম্বর ছাড়া পাওয়ার পর দিগদাইড় ইউপি চেয়ারম্যান আলী তৈয়ব শামীমের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন আমি আব্দুল মান্নান এমপি সাহেবের সাথে একটি প্রোগ্রামে ছিলাম। তাই কোনকিছু আমার জানা নেই। পরে তিনি বিষয়টি জানতে পারেন এবং মোবাইল ফোনে এ প্রতিবেদককে বলেন ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশ না করাই ভাল। কারণ আমার ইউনিয়ন পরিষদ বা ইউনিয়নের দুর্নাম হবে। এদিকে সোনাতলার জনৈক সাংবাদিক ঘটনাটি আংশিক জানতে পেরে পুরো ঘটনা জানতে এ প্রতিবেদকের কাছে মোবাইলে ফোন করেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন