bograsangbad_Logoবগুড়ায় দিন দিন লোডশেডিং মারাত্মক আকারে বেড়েই চলেছে। বিনা নোটিশে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না। বিদ্যুতের লুকোচুরিতে জনগণ অতিষ্ঠ। লোডশেডিংয়ের জন্য স্থানীয়রা অবৈধভাবে চলাচলকারী অটোরিকশা ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জ দেওয়াকে দায়ী করছে। এসব যানবাহন শুধু বিদ্যুৎ নয়, যানজটেরও সৃষ্টি করছে। স্থানীয়রা এসব যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বগুড়া শহর ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত ৩০ হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ভ্যান এবং প্রায় ৫ হাজার ইজিবাইক চলাচল করে। এছাড়া প্রতিদিনই প্রায় ৮-১০টি নুতন রিকশা-ভ্যান রাস্তায় নামছে। এর কোনোটিই পৌরসভা বা ইউনিয়ন পরিষদ থেকে রেজিস্ট্রেশন করা নেই। এসব ইজিবাইক ও রিকশা-ভ্যানের ব্যাটারি চার্জ এবং রাখার জন্য দুই শতাধিক গ্যারেজ গড়ে উঠেছে। গ্যারেজে চার্জসহ একটি রিকশা রাখতে ৬০ টাকা ও চার্জসহ একটি ইজিবাইক রাখতে ১৪০ টাকা দিতে হয়। তবে অধিকাংশ গ্যারেজে বিদ্যুতের ব্যবহার ঠিকমতো করা হচ্ছে না। মিটার টেম্পারিংয়ের মাধ্যমে তারা বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কম বিল দিচ্ছে।

বগুড়া বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ-১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু হেনা জানান, জেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ১৪০ মেগাওয়াট। বর্তমানে চাহিদার ৭০ শতাংশ সরবরাহ মিলছে। তাই বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং করতে হয়।

তিনি বলেন,‘একটা অটোরিকশা বা ভ্যানে একবার চার্জ দিতে ৩ ইউনিট ও ইজিবাইক ১২ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়। প্রতিদিন ৩৫ হাজার রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইকের ব্যাটারি চার্জে প্রায় ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় হয়ে থাকে।’

তার দাবি,‘অধিকাংশ গ্যারেজে বিদ্যুতের মিটার আছে। তাই বিদ্যুৎ চুরির সম্ভবনা নেই। তবে এসব রিকশা ও ইজিবাইকের কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহের ওপর চাপ পড়ছে।’

বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (অপারেশন ও রক্ষণাবেক্ষণ) প্রকৌশলী আশিকুর রহমান জানান,তার সমিতিভুক্ত এলাকায় ১৪১ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে। সেখানে পিডিবি তাদের ৭৮-৭৯ মেগাওয়াট দিয়ে থাকে। তাই লোডশেডিং হচ্ছে।

তিনি বলেন,‘জেলায় ৩৫ হাজার ইজিবাইক ও অটোরিকশা-ভ্যান চলাচল করছে। রেজিস্ট্রেশন বিহীন এসব যানবাহন প্রতিদিন অন্তত সাড়ে ১৬ লাখ টাকা মূল্যের প্রায় ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ ব্যয় করছে। গ্যারেজে মিটার টেম্পারিং করে রিকশা ও ইজিবাইকে চার্জ দেওয়া হচ্ছে। এতে সরকার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।’

বগুড়া ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (অপারেশন) সুকর্ণ কুমার চৌধুরী জানান,জেলায় ৩০-৩৫ হাজার অটোরিকশা ও ইজি বাইক রয়েছে। রেজিস্ট্রেশন ছাড়া এসব যানবাহন একদিকে বিদ্যুতের অপচয় করছে। অন্যদিকে সড়ক-মহাসড়কে যানজটের সৃষ্টি করছে। এদের নিয়ন্ত্রণ করতে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বগুড়া শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও বগুড়া জেলা ইজিবাইক মালিক সমিতির (সাতমাথা) সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাপ্পী জানান,৫টি সমিতির আওতায় প্রায় ৫ হাজার ইজিবাইক এবং অন্তত ৩০ হাজার অটোরিকশা-ভ্যান চলাচল করে। অধিকাংশের মালিক দরিদ্র। মাঝে মাঝে ট্রাফিক বিভাগ ও পৌরসভা অভিযান চালিয়ে এসব গাড়ি আটক করে থাকে। তিনি চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে শোরুম মালিকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন