বগুড়া সংবাদ ডট কম : ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, রবিবার দুপুর ১টা ৩০মিনিটে বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মিলনায়তনে বগুড়া জেলা প্রশাসন এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া’র উদ্যোগে আয়োজিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিত্তিক কর্মসূচি “মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন” অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীরা মুক্তিযোদ্ধার আবেগ তাড়িত কন্ঠে শোনে মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বগাঁথা। সেইসঙ্গে অনুষ্ঠানে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে ফুল সহ বই উপহার দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রশ্নোত্তর পর্বে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ ছিলো স্বতোস্ফূর্ত এবং ক্যুইজ পর্বে প্রশ্নের উত্তর দিয়ে অর্জন করেছে মুক্তিযুদ্ধের বই পুরস্কার।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া’র উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা ডা. আরশাদ সায়ীদ। এরপর বক্তব্য প্রদান করেন বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জে এম রউফ, তিনি তার বক্তব্যে সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসকের বিভিন্ন কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন অনুষ্ঠান চলমান রাখতে ভূমিকা পালনে দৃঢ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এরপর মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনান- বীর মুক্তিযোদ্ধা কামরুল হাসান মোজাম (সাবেক কমান্ডার, বগুড়া সদর উপজেলা, বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ)। মুক্তিযোদ্ধা মোজাম তার বক্তব্যে বগুড়ায় বিভিন্ন অপারেশনের তথ্য তুলে ধরেন গল্প আকারে। তার অপারেশনের মধ্যে ছিলো বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বিকলে ট্রান্সমিটার ধ্বংস, রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্নে মাইন বিষ্ফোরণ, মাসুদ নগরের শহীদ মাসুদের সহযোদ্ধা হিসেবে অপারেশনের ঘটনা ইত্যাদি। মুক্তিযোদ্ধা তাঁর গল্পে শোনান ১৯৭১ এর বীরত্ব গাঁথার সঙ্গে মিশে থাকা আবেগ এবং জীবন বাজি রেখে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার কথা। সেই সঙ্গে কতোটা কষ্ট করে দেশ স্বাধীন করেছেন সে কথাও তাদের গল্পে উঠে এসেছে। সেইসঙ্গে ব্যক্ত করেছেন বঙ্গবন্ধুকে হারানোর গভীর মনোবেদনা এবং কুচক্রি-হত্যাকারীদের প্রতি ক্ষোভ-ধিক্কারের কথাও। মুক্তিযোদ্ধা তার বক্তব্যে শিক্ষার্থীদের প্রতি আবেদন জানিয়েছেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় নিজেদের গড়ে তুলে দেশকে এগিয়ে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলায় রূপান্তরে যথাযথ ভূমিকা পালনে। শিক্ষার্থীরা পিনপতন নিরবতায় মুক্তিযোদ্ধার কথা শোনে। আজকের এই অনুষ্ঠানে ২০০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।


অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন জনাব নূরে আলম সিদ্দিকী (জেলা প্রশাসক, বগুড়া) এবং সভাপতির ভূমিকা পালন করেন বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছাঃ রাবেয়া খাতুন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ও সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক জনাব নূরে আলম সিদ্দিকী-কে বই, ফুল ও শুভেচ্ছা স্মারক পোড়ামাটির টেরাকোটা দিয়ে বিদায়ী সংবর্ধনা প্রদান করা হয়। এছাড়াও সদ্য বিদায়ী জেলা প্রশাসক-কে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়ার “কমরেড চিত্তরঞ্জন ভট্টাচার্য্য স্মৃতি পাঠাগার”-এর সদস্য পদ প্রদান করা হয়। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সুযোগ পেলেই বগুড়া ভ্রমণের ইচ্ছা প্রকাশ করেন, সেইসঙ্গে দেশের ভবিষ্যত আগামী প্রজন্ম শিক্ষার্থীদের প্রচুর পড়ালেখার মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ সেবায় নিয়োজিত হবার কথা বলেন। তিনি বলেন- একমাত্র বাংলাদেশেই সম্ভব হয়েছে সরাসরি মুক্তিযোদ্ধাদের মুখে দেশ স্বাধীন হবার ইতিহার শোনার সৌভাগ্য অর্জন করার, কারন এভাবে দেশের জন্মকথা সরাসরি যোদ্ধাদের মুখে শোনার সৌভাগ্য অন্য কোন দেশের ভাগ্যে জোটেনি। তাই নিজেদের সমৃদ্ধ করতে হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায়।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা সহ সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন এ টি এম রাশেদুল ইসলাম (সমন্বয়কারী, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বগুড়া)। অনুষ্ঠানে দেশাত্মবোধক সঙ্গীত পরিবেশন করে সানজিদা এবং জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশন করে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রাফা’র নেতৃত্বে জাতীয় সঙ্গীত টিম। অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতায় বগুড়া সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, বগুড়া। বিশেষভাবে উল্লেখ্য, ধারাবাহিক এ অনুষ্ঠান পর্যায়ক্রমে বগুড়া জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অনুষ্ঠিত হবে। “মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোন” অনুষ্ঠানে এ পর্যন্ত বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ২৭০০জন শিক্ষার্থী অংশ নিয়েছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন