বগুড়া সংবাদ ডট কম (আমজাদ শোভন, বগুড়া) : বগুড়ার প্রথম আঞ্চলিক ভাষায় মুক্তিযুদ্ধ ভিত্তিক ধারাবাহিক নাটক এটিএন বাংলায় প্রচারিত “সোনাভান” নাটকটির শুটিং এখন বগুড়া সদরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল ও খরনায় ইউনিয়নের কামার পাড়ায় চলছে।

প্রতি সপ্তাহের রোববার ও সোমবার রাত সাড়ে ১১টায় প্রচার হচ্ছে এটি। ১৯৯০ সালে বগুড়া থিয়েটার মঞ্চে আনে নাটক ‘সোনাভানের পালা’। নাটকটির রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন তৌফিক হাসান ময়না। সাড়া জাগানো সেই গল্পটিকেই ধারাবাহিকে রূপান্তর করে নাম রাখা হয়েছে ‘সোনাভান”।

তৌফিক হাসান ময়নার মূল গল্প ভাবনায় নাটকটির কাহিনী বিন্যাস ও সংলাপ তৈরি করেছেন কাজী সুস্মিন আফসানা আর পরিচালনা করেছেন এসএম শাহীন ও শহীদ মিঠু।

বগুড়ায় দুটি স্পটে নাটকটির শুটিং চলছে। এতে অভিনয় করছেন বিশিষ্ট টিভি ও মঞ্চ অভিনেতা রুবল লোদী, মিল্টন সহ বগুড়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিভিন্ন সংগঠনের অভিনেতা ও অভিনত্রীরা। নাটকের মূল গল্পকার তৌফিক হাসান ময়না বলেন, বগুড়া শাজাহানপুর পুলিশ প্রশাসন ও খরনা ইউনিয়নের ভিপি শাহীন এর সহযোগিতায় গত দুই দিন ভালভাবে শুটিং শেষ হয়েছে।

গল্পটি এখন যুদ্ধ পরবর্তি বগুড়ার হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের দুঃখ-কষ্ট নিয়ে শুটিং চলছে। যার মধ্য দিয়ে বগুড়ার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস তুলে ধরা হবে। এপর্যন্ত ৫৬ টি পর্ব প্রচারিত হয়েছে। এরই মধ্যে আলোচিত ধরাবাহিক নাটকগুলোর মধ্য অন্যতম একটি জায়গা করে নিয়েছে “সোনাভান” নাটকটি।

আগের পর্ব ও নতুন পর্ব নিয়ে নাটকটি ভিন্নমাত্রার সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আগের গল্পে নাটকটিতে দেখা গেছে, সোনাভানরা দুই বোন, দুই ভাই। সোনা সবার ছোট। বড় ভাই হাতেম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে। ছোট ভাই কাশেম পড়াশুনার প্রতি অনাগ্রহী। বড় বোন তারা এস এস সি পাশ করেছে, সে পড়তে চায় কিন্তু চাচা বিয়ে দেয়ার জন্য পাত্র খুঁজছে। সোনাভানের মা-বাবা বেঁচে নেই। তারা সবাই চাচা সব্দুল এর সাথে থাকে। চাচী আয়েশা তাদের মায়ের আদরেই লালনপালন করছে। চাচা সব্দুল গ্রামের চেয়ারম্যান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান হয়। কিন্তু তার বড় ভাইয়ের ছেলে হাতেম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রামে এসে যুবকদের নিয়ে মুক্তি বাহিনীতে যোগ দেয়। অন্যদিকে কাশেমকে চাচা নিজের কাজে লাগায়। গ্রাম রক্ষা কমিটি নামে এক সংগঠন করে কাশেমকে ও তার কয়েক জন বন্ধুকে দায়িত্ব দেয় মিলিটারিদের কথা মত গ্রাম থেকে হিন্দু জনগোষ্ঠী তাড়ানো ও মুক্তি বাহিনীর বিপরীতে কাজ করার। অথচ চাচা সব্দল নিজের কলেজ পড়ুয়া ছেলে তাহেরকে সব কিছু থেকে আলাদা করে রাখে।

তাহের ভালোবাসে সোনাকে। সোনা খুব ছটফটে আদুরে টাইপের মেয়ে। সবার কাছ থেকে আদর কাড়ে। সে গাছে ওঠে, পুকুরে যায়। চাচা-চাচীও চায় সোনা তাদের ছেলের বউ হোক। এদিকে সব্দল যখন জানতে পারে হাতেম মুক্তি বাহিনীতে যোগ দিয়েছে, তখন সে পরিকল্পনা করে কাশেমকে নিজ ভাইয়ের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে দেয়। ঠিক এভাবেই গল্পটি ভিন্ন মাত্রায় এগিয়ে যেতে থাকে।

এখন নাটকটি তৎকালিন বগুড়ার নন্দীগ্রামের মুক্তিযুদ্ধের চিত্র তুলে ধরছে। মূল গল্পকার তৌফিক হাসান ময়না বলেন,” এই নাটকের মধ্য দিয়ে আমরা বগুড়ার মুক্তিযুদ্ধের নানা দিক তুলে ধরতে পারবো। মুক্তিযুদ্ধের পর পচাত্তর সাল পর্যন্ত অনেক কিছুই তুলে ধরা হবে নাটকের মধ্য দিয়ে। অন্যদিকে বগুড়ার মিথ, ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরা হবে। এছাড়া বগুড়ার নবীন ও পুরাতন সকল অভিনয় শিল্পীকে অভিনয় করার সুযোগ পর্যায়ক্রমে দেওয়া হবে। যা বগুড়া বাসীর জন্য একটা মাইলফলক হয়ে থাকবে। সোনাভান একটা সময় নুয়ে পরা মন নিয়ে বেহুলার বাসর ঘরে বেড়াতে যাবে। সেখানে বেহুলার সাথে কথা হবে সোনাভানের। কি কথা হবে তা দেখতে চোখ রাখুন এটি এন বাংলার পর্দায় পরবর্তী পর্বে। “

এদিকে এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমান নাটকটিকে একশত চার ইপিসোড পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়ায় নাটকের গল্পকার তৌফিক হাসান ময়না শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন