বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : সদ্য সমাপ্ত ইরি-বোরো চাল সংগ্রহ মৌসুমে বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক ও ক্রয় কেন্দ্র কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আর্থিক বাণিজ্য করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস সুত্রে জানা গেছে, সদ্য সমাপ্ত ইরি-বোরো মৌসুমে উপজেলার এক সিএসডি এবং তিন এলএসডিতে দুই দফা বরাদ্দে মোট ২৫ হাজার ১শত ৭১ টন চাল সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে সান্তাহার এলএসডির সাড়ে ১০ হাজার টনের বিপরিতে ১৬ হাজার ৩শত ৯০ টন, আদমদীঘি সদর এলএসডির ৫শত টনের বিপরিতে এক হাজার ১শত ১১ টন, নসরতপুর এলএসডির দেড় হাজার টনের বিপরিতে দুই হাজার ৪ শত ৭০ টান এবং বৃহৎ আকারের সান্তাহার সিএসডিতে পাঁচ হাজার ২শত টন।
এদিকে চালকল মালিকদের সুত্রে জানা গেছে, চাল সংগ্রহ কালে চুক্তি বদ্ধ চালকল মালিকগনের নিকট থেকে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি মুল্যের আড়াই ভাগ টাকা এবং প্রতিটি বস্তার জন্য ৩০টাকা হারে জামানত নিয়ে থাকেন খাদ্য বিভাগ। সংগ্রহ শেষে সেই জামানতের টাকা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে ফেরত নিতে হয় মালিকদের। জামানতের টাকা ফেরত নেয়ার সময়, চুক্তি মোতাবেক বরাদ্দ সব চাল ক্রয় কেন্দ্রে দেওয়া হয়েছে মর্মে সংশ্লিষ্ট ক্রয় কেন্দ্র কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক অফিস থেকে প্রত্যয়ন পত্র নেয়া বাধ্যতামুলক। আর এই প্রত্যয়ন পত্র আদান-প্রদানের সময় হয় টাকা লেন-দেনের শেষ পর্ব। এবারো প্রত্যায়ন পত্র প্রদানের সময় ক্রয় কেন্দ্র প্রধানকে প্রতি টনের জন্য ৩শত থেকে ৫শত টাকা করে দিতে হয়েছে বলে নাম অভিযোগ প্রকাশে অনিচ্ছুক মিল মালিকদের। এছাড়াও মিল মালিকদের অভিযোগ যে, সংগ্রহের সময় মিলাররা ট্রাক যোগে চাল নিয়ে ক্রয় কেন্দ্রে আসার পর সেই চাল সরকারী নির্দেশ মোতাবেক আছে কি না তা যাচাইয়ের সময় কিছু হেরফের হলেই প্রতি ট্রাক চালের জন্য ২থেকে ৩হাজার টাকা না দিলে চাল গ্রহন করেন না। এদিকে, খাদ্য বিভাগের সাথে চুক্তিবদ্ধ আদমদীঘি উপজেলায় হাসকিং চালকলের সংখ্যা ২১৫টি।
এ ব্যাপারে আদমদীঘি উপজেলায় সব চেয়ে বেশী চাল সংগ্রহকারী সান্তাহার এলএসডি’র ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হুমায়ন কবিরের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি মিলারদের নিকট থেকে কোন প্রকার আর্থিক লেনদেন করেননি বলে দাবী করলেও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোঃ শাহেন শাহ হোসেন প্রত্যয়ন পত্র দেওয়ার সময় টাকা করে গ্রহনের কথা স্বীকার করে জানান, ভাল মুনাফা হবার কারনে মিলাররা খুশী হয়েই ’বখশিস’ দিয়ে থাকেন। এ বিষয়ে আদমদীঘি চালকল মালিক সমিতির সভাপতি ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম খান রাজু বলেন, সরকারী গুদামে চাল বিক্রি করতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা কর্মকর্তাদের দ্বারা ব্যাপক হয়রানীর শিকার হয়। তবে আমার নিকট থেকে কর্মকর্তারা কোন টাকা দাবী করেননি বলে জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন