বগুড়া সংবাদ ডটকম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনটের বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজের মাঠের ভিতর দিয়ে বালু ব্যবসায়ীদের ট্রাক চলাচলের রাস্তা না দেওয়ায় এবং কলেজের গেট নির্মান করায় শিক্ষকদের ওপর ক্ষুদ্ধ হয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আখতার। তিনি শুধু ক্ষুদ্ধই হননি বালু ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে রীতিমতো শিক্ষকদের তুলাধুনাও করেছেন। এঘটনায় কলেজের ছাত্র-ছাত্রী ও শিক্ষকবৃন্দ সহ এলাকাবাসীর মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়সূত্রে জানাযায়, উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের বিলচাপড়ী এলাকার বাঙ্গালী নদীতে ২০১৩ সালে প্রায় ১২ কোটি টাকা ব্যায়ে জোড়া আরসিসি গার্ডার ব্রীজ নির্মান করা হয়। ব্রীজের পশ্চিমপাড়ে বিলচাপড়ী দাখিল মাদ্রাসা, বিলচাপড়ী হাফিজিয়া মাদ্রাসা, বিলচাপড়ী ইউনাইটেড উচ্চ বিদ্যালয়, বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজ ও তিনটা প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। ওই সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র ছাত্রীরা দুটি ব্রীজের ওপর দিয়ে যাতায়াত করে। এছাড়া ওই ব্রীজের ওপর দিয়েই অল্প সময়ে ঢাকা মহাসড়কের মাঝিড়া এলাকায় পৌছানো যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন যাবত ওই এলাকার উৎসব ও আলিম সহ কয়েক ব্যক্তি বাঙ্গালী নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করে আসছে। অব্যাহত বালু উত্তোলনের কারনে কোটি কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত জোড়া ব্রীজটি হুমকির মুখে পড়েছে। এছাড়া বালু উত্তোলন করে পাইপের সাহায্যে ফেলা হচ্ছে বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজ মাঠে। সেখান থেকে ট্রাকে করে বালু বিক্রি করা হচ্ছে বিভিন্ন এলাকায়। বালু বিক্রির ট্রাকগুলো বিলচাপড়ী উচ্চ বিদ্যালয় ও বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজের ভিতর দিয়ে চলাচল করায় ধুলাবালিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান বিঘিœত হচ্ছে। তাছাড়া নদীর গভীর তলদেশ থেকে তিনটি ড্রেজার পাইপের সাহায্যে বালু উত্তোলনের কারনে নদীর বিভিন্নস্থানে ভাঙ্গন তীব্র আকার ধারন করেছে ্এবং শত শত বিঘা আবাদী জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। এসব বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের অভিযাগের ভিত্তিতে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবৈধবালু উত্তোলনের অভিযোগে বালু ব্যবসায়ীদের ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। কিন্তু তারপরও প্রভাবশারী বালু ব্যবসায়ীরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে আবারও বালু উত্তোলন অব্যাহত রেখেছেন। এবিষয়ে গত এক সপ্তাহ আগে বিলচাপড়ী এলাকার স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকবৃন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা রাজিয়া সুলতানার কাছে অভিযোগ করলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আখতারকে দায়িত্ব দেন। কিন্তু তিনি সরেজমিনে তদন্ত প্রতিবেদনে বালু উত্তোলনে কোন সমস্যা হচ্ছে না বলে লেখেন। আর এই তদন্ত প্রতিবেদনের কারনেই কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। তাই বাধ্য হয়ে বিলচাপড়ী আইডিয়াল কলেজ কর্তৃপক্ষ প্রধান ফটকে গেট নির্মান করেন। রবিবার কলেজের গেট নির্মানের সংবাদ শুনে সহকারী কমিশনার ভূমি (ভূমি) শারমিন আখতার আবারও সেখানে যান। কিন্তু সেখানে গিয়ে তিনি বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিয়ে কলেজের গেট নির্মান করায় তিনি ক্ষুদ্ধ হন। একপর্যায়ে অশালীন কথাবার্তা বলে শিক্ষকদের তুলাধুনাও করেন। কলেজের প্রভাষক মিন্টু মিয়া, প্রভাষক মাহবুবুর রহমান ও প্রভাষক মশিউর রহমান সহ স্থানীয় এলাকাবাসী অভিযোগ করে বলেন, ভূমি অফিসার শারমিন আখতার বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা না নিয়ে তিনি উল্টো বালু ব্যবসায়ীদের জন্য কলেজের গেট খুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন। শারমিন আখতার বালু ব্যবসায়ীদের পক্ষ নিয়ে বলেন কলেজও বাঁচুক আর বালু ব্যবসায়ীরাও বাঁচুক। কিন্তু এতে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষকবৃন্দ রাজি না হলে তিনি আমাদের ওপর ক্ষুদ্ধ হন। শিক্ষকদেরকে অশালীন কথাবর্তা বলতে থাকেন। কথায় কথায় ধমক দেন। এক পর্যায়ে তিনি রাগান্নিত হয়ে চলে যান। তবে তার এমন আচারনে স্থানীয় এলাকাবাসী ও শিক্ষকদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এবিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আখতার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি কলেজের স্বার্থের জন্য তাদের পক্ষেই কলা বলেছেন। কারো সাথে খারাপ ব্যবহার করেননি।
ধুনট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা বলেন, বালু উত্তোলন ও কলেজ মাঠের ভিতর দিয়ে ট্রাক চলাচলের বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শারমিন আখতারকে তদন্তের দায়িত্ব দিয়েছিলাম। তিনি তদন্ত করে বালু উত্তোলনে কোন সমস্যা নেই বলে প্রতিবেদন দিয়েছেন। কিন্তু এলাকাবাসীর দ্বিতীয়বার অভিযোগের ভিত্তিতে আবারও তাকে তদন্তে পাঠানো হয়েছিল। তবে শিক্ষকদের সাথে তার অশালীন আচরনের বিষয়টি জানা নাই। #

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন