বগুড়া সংবাদ ডট কম : জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাশ হওয়ায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ ট্রাক ট্যাংকলড়ী কাভার্ডভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটি। পাশাপাশি ঐ আইনে পরিবহন মালিক শ্রমিক স্বার্থপরিপন্থি ধারা উপধারা সংশোধনের আহবান জানিয়েছেন নেতৃবৃন্দ। শনিবার দুপুরে বগুড়া হোটেল মম-ইন কনফারেন্স রুমে সংগঠনের মতবিনিময় সভায় নেতৃবৃন্দ এ আহবান জানান।উত্তরবঙ্গ ট্রাক ট্যাংকলড়ী কাভার্ডভ্যান মালিক শ্রমিক ঐক্য পরিষদ আন্দোলন বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়ক আব্দুল মান্নান আকন্দ সভায় সভাপতিত্ব করেন। তিনি মতবিনিময় সভার শুরুতে জাতীয় সংসদে সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮ পাশ হওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এতে বক্তারা বলেন, পরিবহন খাত থেকে প্রতি বছর সারাদেশে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব প্রদান করে থাকে। তবু ট্রাক ট্যাংকলড়ী কাভার্ডভ্যান মালিক শ্রমিকরা অবহেলিত হয়ে থাকে। ৫ জানুয়ারীর নির্বাচন সময়ে ট্রাক মালিক শ্রমিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মালামাল পরিবহন করেছে। সে সময় ৯২ জন চালক ও ৪ হাজার শ্রমিক আহত হন। দেশের স্বার্থে এত বড় ঝুঁকি নিলেও আজ ট্রাক শ্রমিক মালিকদের দিকে কেউ দেখছে না। তাদের উপর শুধু নিয়মের বোঝা চাপানো হচ্ছে। আর এই বোঝা নিয়ে শ্রমিক, মালিকরা আজ পথে বসতে শুরু করেছে। তাই নিজেদের স্বার্থ সংরক্ষণে ৭ দফা দাবী জানানো হয়েছে। এতে বক্তব্য রাখেন বগুড়া জেলা ট্রাক ট্যাংকলড়ী কাভার্ডভ্যান মালিক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মতিন সরকার, রাজশাহী জেলার মোঃ সাদরুল ইসলাম, সিরাজগঞ্জ জেলার মোঃ রেজাউন খান, নামদার হোসেন, গাইবান্ধা জেলার মোঃ রোস্তম আলী, বগুড়া জেলার মোঃ খোরশেদ আলম, আব্দ;ুল মান্নান মন্ডল, পাবনা জেলার মোজাম্মেল হক কবির, রবিউন নবী, শহিদুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলার মোঃ সাদাকাতুল বারী, নাটোর জেলার মোঃ মোস্তারুল ইসলাম আলম, তপন সরকার তপো, চাপাইনবাবগঞ্জ জেলার অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সেন্টু, নওগাঁ জেলার শফিকুল ইসলাম সভায় অন্যান দাবী সমুহ হলো ট্রাক, ট্যাংকলড়ী, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ এর ট্যাক্স টোকেন, ফিটনেন্স, রুট পারমিট সহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নবায়নে জরিমানা মওকুফ করে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত সময়সীমা নির্ধারন করার অনুরোধ জানাচ্ছি। ট্রাক, ট্যাংকলড়ী, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপ এর কাগজ পত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স চেকিং এর নামে সড়ক-মহা সড়কে সকল প্রকার হয়রানী বন্ধ করতে হবে। সড়ক-মহা সড়কের যত্রতত্র পন্যবাহী গাড়ীর কাগজপত্র পরীক্ষা-নিরিক্ষার কারনে চালকের মনোসংযোগ নস্ট হওয়া সহ মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তাই প্রতি জেলায় নির্দিষ্ট স্থানে মালিক-শ্রমিক প্রতিনিধির উপস্থিতিতে কাগজ পত্র চেকিং করার ব্যবস্থা করার আহবান জানাচ্ছি। পন্যবাহী গাড়ীর জরিমানার অর্থ সরাসরি চালানে মাধ্যমের ব্যাংকে জমা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত ওজন স্কেল (ওজন নিয়ন্ত্রন কেন্দ্র) মালিক সমিতির তত্বাবধানে পরিচালনা করতে হবে।সড়ক-মহা সড়কে অবৈধ যান চলাচল বন্ধ করতে হবে। সড়ক-মহাসড়কে জেলা পুলিশ ও হাইওয়ে পুলিশ শুধু নিরাপত্তার কাজে নিয়োজিত থাকবে, গাড়ীর কাগজপত্র চেকিং করার নিদিষ্ঠ স্থানে করতে হবে।
উল্লেখিত দাবী সমুহ বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ না করা হলে আগামী ১৫ অক্টোবর থেকে উত্তরবঙ্গে ট্রাক ট্যাংকলড়ী কাভার্ডভ্যান মালিক শ্রমিক কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন