বগুড়া সংবাদ ডট কম (শিবগঞ্জ প্রতিনিধি রশিদুর রহমান রানা) : দেশের শস্যভান্ডার হিসেবে খ্যাত বগুড়ার শিবগঞ্জে আমন ধানের ফসলী জমি এখন সবুজের সমারোহ। এবারো এ উপজেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলনের উজ্জ্বল সম্ভাবনা রয়েছে। উপজেলার মাটিতে ইরি-বোরো, খরিপ-১ আউশ ও খরিপ-২ আমন ধানের চাষাবাদ করা হয়। এর পাশাপাশি রবিশস্য’র চাষাবাদ করা হয়ে থাকে। শিবগঞ্জ উপজেলার ফসলী জমির মাটিতে অনেকটা উর্বরশক্তি রয়েছে। তাই সবধরনের ফসলের ভালো ফলন হয়। সে কারণেই শিবগঞ্জ উপজেলাকে শস্যভান্ডার হিসেবে গণ্যকরা হয়। শিবগঞ্জে ইরি-বোরো ধানের সবচেয়ে বেশি ফলন হয়ে থাকে। অনেক সময় আবার আমন ধানের সমপরিমাণ ফলনও হয়। এবারো এমনটা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। শিবগঞ্জ উপজেলার ফসলী জমি পোকা-মাকড় ও বালাই দমনের জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যাপক তৎপরতা চালানো হচ্ছে। মাইকিং করে কৃষকদের দিক নির্দেশনার পাশাপাশি মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম চলছে। এখন ফসলী জমির দিকে তাকালেই দেখা যায় অপরূপ সবুজের সমারোহ।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি রোপা আমন মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় ২২ হাজার ৮শ’ হেক্টর জমিতে চাষাবাদ হয়েছে। এতে ৬০ হাজার মেট্রিকটণ ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। আবার লক্ষ্য মাত্রার চেয়ে বেশি উৎপাদনও হতে পারে। ইরি-বোরো মৌসুমে ঝড় ও শীলাবৃষ্টির কারণে শিবগঞ্জ উপজেলায় ধানের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়েছে। সে কারণে কৃষকরা অনেকটা ক্ষতিগ্রস্থ হয়। তাই এবার আমন ধান নিয়ে কৃষকরা স্বপ্ন দেখছে। আমন ধানের বাম্পার ফলন হলেই কৃষকদের স্বপ্ন বাস্তবায়ন হবে। এমনটাই প্রত্যাশা করেছে শিবগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা। উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ মাসুদ আহমেদ’র সাথে কথা বললে তিনি বলেন, আমন ধানের বাম্পার ফলন ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্য নিয়ে আমরা মাঠ পর্যায়ে বিভিন্ন ধরণের কার্যক্রম চালিয়ে আসছি। বিশেষ করে এসময় পোকা দমনে সন্ধ্যেবেল্য়া আলোর ফাঁদ দেওয়ার কাজ চলছে।
তাই আশাকরি বিগত মৌসুমের মতো এবারো আমন ধানের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা। এবং কৃষকরা অনেকটা লাভবান হবে। ধানের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে দেশের খাদ্য চাহিদা পুরণে সহায়ক হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন