বগুড়া সংবাদ ডট কম (ইমরান হোসেন ইমন, ধুনট (বগুড়া) থেকে: বগুড়ার ধুনট উপজেলায় চলতি মৌসুমে পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। তাই সোনালী পাটে সোনালী স্বপ্ন দেখছে কৃষক। ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় নতুন পাট ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে এলাকার কৃষক-কৃষাণীরা। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত এলাকার নদী-নালা, খাল-বিল ও ডোবার পানিতে জাগ দেওয়া পাট থেকে আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানোর কাজ চলছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তর সূত্রে জানাগেছে, চলতি মৌসুমে ধুনট উপজেলায় ১ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়। আর পাট চাষ হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমিতে। তবে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কম হলেও ন্যায্য মূল্য পাওয়ায় সুদিনের আশা করছে কৃষক। এলাকার কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এক বিঘা জমিতে পাট চাষে খরচ হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকা। আর ভাল ফলন হলে ৮ থেকে ১০ মন পাট পাওয়া যায়। এছাড়া পাটকাঠির চাহিদা থাকায় সেখান থেকেও কিছুটা মূল্য পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। গত বছরের তুলানায় দামও ভাল। তোষা জাতের পাট ১ হাজার ৮০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আর মেচতা জাতের পাট ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ন্যায্য মূল্য পাওয়ার আশায় বেলকুচি গ্রামের কৃষক আজিবর রহমান প্রতি বছরের ন্যায় এবছরেও ৪ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। তবে গত বছর পাটের ন্যায্যমূল্য না পেলেও এবছর সেই ক্ষতি পুষিয়ে নিতে পারবেন বলে আশা করছেন। একই গ্রামের মজিবর রহমানও ২ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন।
কৃষক মজিবর রহমান বলেন, গত বছর এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে পাট চাষ করেছিলাম। কিন্তু সে বছর পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় ঋনের বোঝা মাথায় নিয়ে বেড়াতে হয়েছে। তবে এবছর পাটের ন্যায্য মূল্য পেলে ওই ঋন শোধ করতে পারব।

উপজেলা সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুস সোবাহান জানান, ধুনট উপজেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কিছু হেক্টর জমিতে পাটের চাষ কম হলেও ফলন ভাল হয়েছে। এছাড়া এবছর পাটের দাম অনেকটা ভাল। তাই কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন। তবে চলতি মৌসুমে যদি পাটের মূল্য স্থিতিশীল থাকে তাহলে আগামী মৌসুমে পাট চাষে কৃষকের আগ্রহ বাড়বে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন