বগুড়া সংবাদ ডট কম (সারিয়াকান্দি প্রতিনিধি রাহেনূর ইসলাম স্বাধীন) : বাবা এক্সিডেন্ট করেছেন, তিনি টিএমএসএস মেডিকেলে ভর্তি আছেন। তার পাশে বড় ছেলে হিসেবে কিছু দায়িত্ব তো থেকেই যায়। তাকে রবিবার বিকেলে ডাক্তারদের নির্দেশে ইবনে সিনা হাসপালে একটি পরিক্ষার জন্য নিয়ে যেতে হয়। তারপর পরিক্ষা-নিরিক্ষা শেষে তাকে পুণরায় টিএমএসএস মেডিকেলে নিয়ে যাই।
ততক্ষনে রাত নয়টা বেজে গেছে। মনে মনে ভাবছিলাম বাবা তো আসার সময় ৫টা ২০টাকার নোট দিলো, এর মধ্যে কিছু টাকা বাচিয়ে ছোট ভাইটার জন্য একটা ক্যাডবেরি নিয়ে যাবো। যাই হোক টিএমএসএস থেকে চেলোপাড়া সিএনজি স্ট্যান্ডে আসলাম সিএনজি চাকলকে বললাম:-
– সারিয়াকান্দি যাবেন ভাই?
-হ্যা যাবো, কিন্তু ভাড়া দেয়ার লাগবে ৮০টাকা! কী বলেন ভাই ৩০টাকার ভাড়া, রাতের জন্য ৪০ টাকা নেন?
-না গেলে চলেন না গেলে নামেন।
আমি অন্য সিএসজির কাছে গেলাম, কিন্তু সে সিএনজি আরও বেশি বলে। কি করবো ভাবছিলাম।এর মধ্যে দেখি দূরে একটা বাস ডকতেছে ‘সারিয়াকান্দি’ ‘সারিয়াকান্দি’ বলে। একটা আশার আলো দেখলাম যে এবার কম টাকায় যামু বাসে সাধারণত ভাড়া ২০টাকা। কিন্তু বাসে উঠতেই বাস হেলপার বলে দিলো সারিয়াকান্দির ভাড়া ১০০টাকা। তখন নিজেকে খুব অসহায় লাগছিলো।
আমার মতো মধ্যেবিত্ত পরিবারের সন্তনরা এখন গাড়ি চালকদের কাছে খুব অসহায়। কথা হচ্ছিলো একজন সিনিয়র বড় ভাইয়ের সাথে। তার বগুড়া শহরে একটি কম্পিউটারের ব্যাবসা আছে। তিনি বলেন, ভাই আমার প্রতিদিন বাশায় ফিরতে রাত হয় আর রাতে ৩০টাকার ভাড়া আমি ২০০টাকা দিয়েও কোন কোন দিন এসেছি। এতে করে আমার খুব সমস্যা হয়ে পড়েছে। তারা ডাকাতের মতো করে যাত্রীদের জিম্মি করে ভাড়া আদায় করছে। এ ব্যাপারে প্রশাসন কিছ্ইু করে না। চালকরা সাধারণ জনতার মাথায় চড়ে বসেছে।
এ ব্যাপারে চালকদের রাতে ভাড়া বেশির কারণ জানতে চাইলে তারা কোন উত্তর দিতে পরে নি। এখন সাধারণ যাত্রীদের একটাই প্রশ্ন, এর শেষ কোথায়?

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন