বগুড়া সংবাদ ডট কম : সারা পৃথিবী জুড়ে প্রতি বছর সেপ্টেম্বর এর প্রথম শনিবার আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস বা International Vulture Awareness day পালন করা হয়ে থাকে। বাংলাদেশেও প্রতি বছর এই দিবস পালিত হয়ে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় আইইউসিএন, বন অধিদপ্তর ও প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশনের উদ্যেগে ৯ সেপ্টেম্বর বগুড়া সিলেটে ও খুলনায় একয়োগে আন্তজার্তিক শকুন সচেতনতা দিবস পালন করা হচ্ছে। সহযোগী আয়োজক হিসাবে বগুড়ায় শিক্ষাথীদের পরিবেশবাদী সংগঠন “তীর”, সিলেটে প্রাধিকার এবং খুলনায় পেপারব্লুস ও Environmental awareness একযোগে দিবসটি পালন করছে। এই উপলক্ষে ৯ সেপ্টেম্বর খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে সকাল ১০.০০ ঘটিকায় শকুন সংরক্ষণে সচেতনতামূলক র‌্যালী ও ১১.০০ ঘটিকায় স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু ভবনের লিয়াকত আলী মিলনায়তনে একটি আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়েছে। একই সাথে বগুড়ার সাত মাথায় সকাল ১১.০০ ঘটিকায় শকুন সচেতনতা র‌্যালি ও আলোচনা সভার করেছে। এর আগে ৮ সেপ্টেম্বর সিলেটের বালুচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বগুড়ার সাত মাথায় সকাল ১১.০০ ঘটিকায় শিক্ষাথীদের পরিবেশবাদী সংগঠন “তীর” এর আয়োজনে আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন “তীর” সম্মানিত সভাপতি মোঃ আরাফাত রহমান, সাধারন সম্পাদক মোঃ জাহিদুল ইসলাম সহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ্র। এছাড়া হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আইইউসিএন বাংলাদেশের কনসালটেন্ট ও “তীর” এর সাবেক সভাপতি মোঃ মিজানুর রহমান। র‌্যালিটি শহরের গুরুতপূর্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে সাতমাথায় এসে শেষ হয়।
তীর এর সভাপতি মোঃ আরাফাত রহমান বলেন, খাদ্যশৃঙ্খলের গুরুত্বপূর্ন এই শকুন। বিভিন্ন মরা পচা খেয়ে এরা আমাদের অনেক উপকার করতো। রোগ জীবানুর সংক্রমন ঘটতো না। কিন্তু পশুর চিকিৎসায় ডাইক্লোফেনাক এর ব্যবহার শকুনের সংখ্যা ৭৫ শতাংশ কমিয়েছে।
ড. লিন্ডলে ২০০৩ সালে গবেষনায় প্রমান করে য়ে ডাইক্লোফেনাকই শকুন মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারন। এছাড়া শতবর্ষী বৃহৎ বৃক্ষ কর্তনের ফলে এদের বাসস্থান সংকট ও নিরাপদ প্রজননক্ষেত্রের অভাবে আজ শকুল বিলুপ্তির পথে। আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাই একদিন আবার বাংলা শকুন আকাশে ডানামেলে আবার বিচরন করবে।
গবেষকদের মতে শকুন বিলুপ্তির ফলে বর্তমানে বাংলাদেশে অ্যান্থ্রাক্স, জলাতঙ্ক ও অন্যান্য ‘জুনোটিক’ (পশু হতে সংক্রমিত) রোগের ক্রমবর্ধমান সংক্রমন ঘটছে। বাংলাদেশে সাত প্রজাতির শকুন পাওয়া যেত। এদেশে স্থায়ী-বসবাসকারী শকুন, রাজ-শকুন বিলুপ্ত হয়েছে এবং এখন বাংলা-শকুনও মহাবিপন্ন। শকুনের সংখ্যা হ্রাসের ফলে প্রতিবেশী দেশ-সমূহে অ্যান্থ্রাক্স ও জলাতঙ্ক রোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। শকুন কমে যাওয়ায় এখন বাংলাদেশেও জনস্বাস্থ্য প্রভাবিত হচ্ছে। শকুনের জন্য বিষাক্ত ওষুধ ‘ডাইক্লোফেনাক’ ও ‘কিটোপ্রোফেন’ পশু-চিকিৎসায় ব্যবহার করাই শকুন মৃত্যুর প্রধান কারণ। বাংলাদেশের পশু-চিকিৎসায় সরকার সারাদেশে ২০১০ সালে‘ডাইক্লোফেনাক’ এবং শকুনের নিরাপদ এলাকায় ২০১৭ সালে ‘কিটোপ্রোফেন’ নিষিদ্ধ করেছে। বন অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সত্তরের দশকে বাংলাদেশে য়ে পরিমান শকুন দেখা য়েত বর্তমানে তার ৯৮ শতাংশই বিলুপ্ত হয়েছে। আইইউসিএন এর মতে বর্তমানে বাংলাদেশে এখন বাংলা শকুনের প্রতিনিধি হিসেবে টিকে আছে মাত্র মাত্র ২৫০টি শকুন।
শিক্ষাথীদের পরিবেশবাদী সংগঠন “তীর” এর আয়োজনে আন্তর্জাতিক শকুন সচেতনতা দিবস উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন “তীর” এর উপদেষ্ঠা জনাব মোঃ ফজলে বারী রতন, কানিজ ফাতেমা সহ তীর আঞ্চলিক কমিটির সদস্য ও অন্যান্ন ব্যক্তিবর্গ।
মিজানুর রহমান বলেন বাংলা শকুন রক্ষায় আইইউসিএন ও বন অধিদপ্তর কাজ করছে। বাংলাদেশ সরকার ডাইক্লোফেনাক ও ‘কিটোপ্রোফেন এর ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে এবং সিলেট ও খুলনা অঞ্চলকে শকুনের নিরাপদ এলাকা হিসেবে ঘোষনা করেছে।এছাড়াও শকুনের জন্য নিরাপদ খাদ্য সরবরাহ কেন্দ্র তৈরী করেছে। আহত ও অসুস্থ শকুনের চিকিৎসার জন্য সিংড়া জাতীয় উদ্যানে একটি শকুন পরিচর্য়া কেন্দ্র তৈরী করেছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন