বগুড়া সংবাদ ডট কম : উদ্দেশ্য ও হয়রানীমুলক মিথ্যা মামলায় জড়ানোর প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে। রবিবার বিকাল ৪টায় বগুড়া প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন করা হয়্। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বগুড়া শহরের ঠনঠনিয়া শাহপাড়া এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের স্ত্রী মোছাঃ কোহিনুর বেগম। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন আমার জামাই মোঃ মিল্লাত হোসেন, পিতা মোঃ মোস্তা ফকির, সাং তেলকুপি, উপজেলা গাবতলী বগুড়া ও আমার মেয়ে মোছাঃ কেয়া বেগম সহ ৯ জনকে আসামী করে বগুড়ার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়রানীমূলক অপহরণ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি দায়ের করেন গাবতলী উপজেলার সাবেকপাড়া গ্রামের তথাকথিত নিখোঁজ ব্যবসায়ী আলী আজমের স্ত্রী মোছাঃ নূরজাহান বেগম শিল্পি।
এসময় তিনি আরো বলেন উক্ত আলী আজম একই উপজেলার পাঁচকাতুলী গ্রামের দুলাল মিয়া প্রামানিকের ছেলে রাজা বাজারের ব্যবসায়ী মোঃ সুলতান আলীর সাথে বন্ধুত্ব ও ব্যবসায়ীক সম্পর্ক ছিল। আমার জামাই মিল্লাতের সাথে আলী আজমের ব্যবসায়ীক অথবা আর্থিক কোন কিছুর সম্পর্ক ছিলনা । তবে আলী আজম,সুলতান,মিল্লাত,সাত্তার এরা সবাই বন্ধুত্বের খাতিরে একই সাথে চলাফেরা করতো। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে উদ্দেশ্যমূলকভাবে মিল্লাত এবং তার স্ত্রীকেও মামলায় জড়ানো হয়েছে। এদিকে সুলতান আলী তার ব্যবসায়ীক কাজে প্রায়ই ঢাকাসহ দেশের বাইরে যাবার সময় ব্যবসায়ীক বিভিন্ন দায়িত্ব আলী আজমের উপর দিয়ে যেতেন। শুধু ব্যবসায় নয় তার ব্যাংকের লেন-দেনও তার উপর দিয়ে যেতেন। এ অবস্থায় তার দায়িত্ব পালনের সময় ব্যাংকের চেক খোয়া যাওয়া সহ ব্যবসায় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হলে আলী আজমের উপর সন্দেহ হলে তাকে এব্যাপারে জিজ্ঞাবাদ করা হলে সে অস্বীকার করে। এবং এ বিষয় নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি না করতে বিভিন্ন প্রকার হুমকী প্রদর্শন করে আলী আজম। এ নিয়ে তাদের মাঝে দূরত্ব সৃষ্টি হতে থাকে। এরপর থেকে সুলতান প্রাণভয়ে আত্মগোপন করে থাকে।
ব্যবসায়ী সুলতানের ব্যবসায়ীক ক্ষতির অর্থ যাতে না দিতে হয় সেজন্য আলী আজম নিজেকে আত্মগোপনে রেখে স্ত্রীর সাথে শলাপরামর্শ করে তার স্ত্রী নূরজাহান বেগম শিল্পিকে দিয়ে গত ১৯ আগস্ট আদালতে সুলতান আলী ,মিল্লাত হোসেন তার স্ত্রী কেয়াসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা ও সাজানো অপহরণ মামলা দায়ের করে । অপরদিকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ এনে সুলতান আলীর পিতা দুলাল মিয়া আদালতে মামলা দায়ের করেন। এদিকে আলী আজমের নিখোঁজের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তার ছবি সহ প্রচার করে তাদের জনৈক আত্মীয়। সেই প্রচারের প্রেক্ষিতে আমাদের এক নিকটাত্মীয় যিনি বেনাপোল স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টে চাকুরী করেন। তিনি ছবিটা দেখে আলী আজমকে চিনতে পেরে আমাদেরকে জানান আলী আজম গত ১২ /৮/২০১৮ তারিখ সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে ঐ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে গমন করেছেন।
এ বিষয়ে পাসপোর্ট ও ইমিগ্রেশন বিভাগের সাথে যোগাযোগ করে আলী আজম ভারতে পালিয়ে গেছে কিনা এবং তাকে গুম করার অভিযোগ সত্য কি না তা যাচাই করে এবং ব্যবসায়ী আলী আজমের স্ত্রীর দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখকৃত ১০ আগষ্টে সুলতান এবং মিল্লাত ব্যবসায়ী আলী আজমকে আদৌ ফোন করে ডেকেছিল কিনা এবং সেদিন কে কোথায় অবস্থান করছিল সেটি ফোন ট্র্যাকিং এর মাধ্যমে সেই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য তিনি সাংবাদিকদের মাধ্যমে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। এর পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা প্রদানের জন প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন