বগুড়া সংবাদ ডটকম (জিয়াউর রহমান, শাজাহানপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি ঃ বগুড়ার শাজাহানপুরে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে বসতবাড়ি ভাংচুর ও মারপিটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। রোববার উপজেলার জালশুকা দক্ষিণপাড়ার মৃত কাজেম উদ্দিনের পুত্র বাবলু মিয়া (৫৫) খোট্টাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান বরাবর এই অভিযোগ দায়ের করেন।

বাবলু মিয়া জানান, গত বুধবার থেকে তার পৈত্রিক বসতবাড়ির উত্তরপাশে নিজ জমির সিমানা থেকে ২ ফুট ছেড়ে ইট দিয়ে গোসলখানা নির্মাণ কাজ শুরু করেন। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবেশী মৃত আজিমুদ্দিনের পুত্র মোজাফ্ফর রহমান (৬০) এবং তার দু’পুত্র সোহাগ (৩২) ও মোঃ রিপন (২৬) এসে জমি দাবী করে নির্মাণাধিন ইটের প্রাচীর ভাংচুর করে।

বিষয়টি স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজীউল হক সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গকে জানালে তারা এসে নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখে উভয় পক্ষকে জমি মাপযোগ করতে বলে। কিন্তু মোজাফ্ফর রহমান জমি মাপযোগে আগ্রহ না দেখালে আওয়ামীলীগ নেতা সহ গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গের মতানুসারে রোববার সকালে পুনরায় নির্মাণ কাজ শুরু করলে মোজাফ্ফর রহমান ও তার দু’পুত্র তাদের ইন্ধনদাতা প্রতিবেশী মৃত মফিজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল খালেক মাস্টার (৬৫) ও তার দু’পুত্র নাফিউল ইসলাম নেপচুন (২৮) ও নিয়ামুল ইসলাম নিপল (২৫) সহ ৮/১০ জন লাঠিসোটা নিয়ে আমার বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে নির্মাণাধিন গোসলখানা ভাংচুর করে। বাঁধা দিতে গেলে তার ভাগিনা এনামুল হক (৩২), মেরাজুল ইসলাম (২৬), অপর ভাগিনাবউ বিলকিছ বেগম (৩০) ও সোনিয়া বেগম (২২) কে মারপিট করে এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি সহ হত্যার হুমকি ধামকি দেয়।

তিনি আরো জানান, আব্দুল খালেক মাষ্টার একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি। তার ও তার দু’পুত্রের ভয়ে কেউ কথা বলতে সাহস পায় না। দীর্ঘদিন ধরে খালেক মাষ্টার তার কাছে জমি বিক্রি করার জন্য চাপ দিয়ে আসছিল। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় খালেক মাষ্টার ইন্ধন দিয়ে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে আসছে। মোজাফ্ফর রহমান জানান, জমি মাপযোগ না করে গোসলখানা নির্মাণ করায় তা ভাংচুর করা হয়েছে।

আব্দুল খালেক মাষ্টার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সামাজিক ভাবে সম্মানহানী করার জন্যই তার বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করা হয়েছে। বাবলু মিয়া ও মোজাফ্ফর রহমানের মধ্যে জমির সিমানা নিয়ে দ্বন্দের জের ধরে উভয় পক্ষের মধ্যে মারামারির সৃষ্টি হয়। তাদের মধ্যে মারামারি থামাতে গিয়েই তার বিরুদ্ধে এই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে।

ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি গাজীউল হক জানান, উভয় পক্ষকে জমি মাপযোগের কথা বলা হয়েছে। কিন্তু মোজাফ্ফর রহমান তাতে আগ্রহ দেখায়নি। ভাংচুরের ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিতে বলা হয়েছে। খোাট্টাপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠকে বসে তদন্ত সাপেক্ষে সমস্যার সমাধান করা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন