বগুড়া সংবাদ ডট কম (মহাস্থান প্রতিনিধি এস আই সুমন) : বগুড়ার মহাস্থান ব্রিজ এখন দুর্ভোগের নাম। হুমকির মুখে উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। বগুড়া-রংপুর মহাসড়কে বগুড়ার মহাস্থান ব্রিজে ফাটলসহ দেবে যাওয়ায় রাজধানী ঢাকার সঙ্গে উত্তরের ৯ জেলার সড়ক যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের উপর বিকল্প বেইলি ব্রিজ নির্মাণ করা হলে বর্তমানে যানবাহন একমুখী যাতায়াত করছে। এতে রাস্তার দুপাশে লাগছে তীব্র যানজট। একপাশে গাড়ি আটকে দিয়ে অপর পাশের গাড়িগুলো যাতায়াতের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে পুলিশ। ফলে দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে মানুষকে। জরুরী রুগী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, কাচামালসহ বিভিন্ন পণ্য সরবরাহ, জরুরী ওষুধ সরবরাহ, সংবাদপত্রসহ বিভিন্ন জরুরী কাজ প্রায় থমকে দাড়িয়েছে। মাঝে-মাঝে যানজট এতটাই তীব্র হয় যে যাত্রীদের ঘন্টার পর ঘন্টা গাড়িতেই থাকতে হয়। এজন্য রাস্তার দুপাশে ভ্রাম্যমান দোকানপাট বসছে।
এদিকে, মহাস্থান ব্রিজের ফাটল ও ধ্বসে যাওয়ার অংশের নীচ থেকে পাইলিং করে সাপোর্ট দেয়ার কাজ শুরু হলেও তা ধীরগতির অভিযোগ উঠেছে। মোট ৪০ টি পাইপ পানির ভুগর্ভে বসাতে হবে। কিন্তু দীর্ঘ প্রায় এক মাস হলেও মাত্র ২৮ টি পাইপ বসানো হয়েছে। এতে স্থানীয় অনেকেই শ্রমিক সংকট ও ঠিকাদারের উদাসীনতাকে দায়ী করলেও সড়ক ও জনপথ প্রকৌশল অফিস সুত্র বলছে পানির স্রোত বেশি থাকায় এমন বিলম্ব হচ্ছে।
জাতীয় মহাসড়কে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার মহাস্থান ব্রিজটি উত্তরের ৯ জেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগের অন্যতম সংযোগ সেতু। উত্তরের সব জেলার যানবাহন এ ব্রিজের ওপর দিয়েই যাতায়াত করে থাকে। সওজ জানায়, ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে প্রতিদিন অন্তুত ১০ হাজার যানবাহন চলাচল করে। এত বিপুলসংখ্যক যানবাহন বিকল্প বেইলি ব্রিজের উপর দিয়ে চলাচল অব্যাহত থাকলে যে কোন মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিনে ব্রিজে গিয়ে কথা হয় ঠিকাদার মাহফুজুল ইসলাম রাজের সাথে। তিনি বলেন, শ্রমিক সংকট নয় বরং পানির স্রোত বেশি থাকায় কাজে দেরি হচ্ছে। এখন পানি কমছে, তাই কাজের গতি বেড়েছে।
এ বিষয়ে সওজ বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুজ্জামান জানিয়েছেন, ১৯৫৭ সালে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছিল। দেশের যে ব্রিজগুলো পুরাতন তা পুনঃনির্মাণে ওয়েস্টার্ন বাংলাদেশ নামে গঠিত একটি প্রকল্পে এটি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। কাজের ধীরগতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা পাইপ বসানোর জন্য পানি ভূগর্ভে গর্ত খুড়ছি, কিন্তু দুপাশ থেকে বালি ভরে আবারো গর্ত ভরে যাচ্ছে। এজন্য কাজ ধীরগতিতে এগুচ্ছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি, আগামী ১২ দিনের মধ্যে পুরো কাজ সম্পন্ন করার।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন