বগুড়া সংবাদ ডট কম (দুপচাঁচিয়া প্রতিনিধি মোঃ আবু রায়হান) : দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকায় পৌসভার টোল আদায় কে কেন্দ্র করে উত্তেজনা বিরাজ করছে। পৌরসভা কর্তৃক রাজস্ব আদায়ে একটি মহল বাধাগ্রস্থ করতে গরীবের বন্ধু সেজে বিক্ষোভ সমাবেশের মাধ্যমে উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। সম্প্রতি পৌরসভার টোল আদায় কে কেন্দ্র করে বিক্ষোপ সমাবেশ করেছেন অটো ভ্যান চালকরা। এ বিক্ষোভে অটোভ্যান চালকদের সাথে সংহতি প্রকাশ করে অংশগ্রহন করেন আগামী পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী হিসাবে দোয়াপ্রার্থী বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক দুপচাঁচিয়া এলাকা পরিচালক ও বগুড়া পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সাবেক সচিব জাহেদুর রহমান। তিনি দাবী করেছেন দুপচাঁচিয়া পৌরসভা সরকারি বিধি ভঙ্গ করে গরীব অটোভ্যান চালকদের ওপর ইজারাদার দিয়ে নির্যাতন চালিয়ে জোর পূর্বক টোল আদায় করছে।
এ বিষয়ে টোল আদায়ের ইজারাদার মেসার্স মিতুল কসমেটিক্স হাউজের স্বত্বাধিকারী ফারুক আহম্মেদ চঞ্চল জানান, তিনি সরকারি বিধি মোতাবেক বৈধ টেন্ডারের সর্বচ্চ দরদাতা হিসাবে ইজারাদার নির্বাচিত হয়ে তিনি তার কার্য়ক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। বিক্ষোভকারীদের নেতা জাহেদুর রহমান আগামী পৌর নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী হিসাবে দোয়াপ্রার্থী হয়েছেন,এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান মেয়র বেলাল হোসেন ও তার পৌর পরিষদ কে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন করার লক্ষ্যেই গরীবের বন্ধু সেজেছেন।
পৌরসভা সুত্রে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকায় যানবাহন থেকে টোল আদায় শুরু হয় ২০১০ইং সালে। এরপর থেকে টোল আদায় নিয়ে বিভিন্ন সময় বিবাদ হলেও ২০১৭সালের জুলাই মাস পর্যন্ত দরিদ্র অটোভ্যান চালকদের দুর্দশা লাঘবে কোনো গরীবের বন্ধুর দেখা মিলেনি। দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম এর সময় প্রতি মাসে ১৪হাজার টাকা অর্থাৎ বছরে ১লাখ ৬৮হাজার টাকা পৌরসভার রাজস্বখাতে জমা হতো, তিনি সে সময় বৈধ টেন্ডারের মাধ্যমে টোল আদায় করেন নি । বর্তমান পৌর মেয়র বেলাল হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ২০১৫সালের মার্চ মাস থেকে ডিসেম্বর মাস পযন্ত ইজারা প্রদানের মাধ্যমে জনৈক গোলাম মোস্তফাকে ইজারাদার নিয়োগ দিয়ে ভ্যাট, আয়কর সহ ৯লাখ ৬০হাজার টাকা পৌরসভার রাজস্ব খাতে জমা দিয়েছেন। ২০১৬সালে একইভাবে হাজী আজিম উদ্দিনকে ইজারাদার নিয়োগ করে ভ্যাট, আয়কর সহ ৩৬লাখ টাকা পৌরসভার রাজস্বখাতে জমা দিয়েছেন। একইভাবে ২০১৭সালে মেসার্স মিতুল কসমেটিক্স হাউজের স্বত্বাধিকারী ফারুক আহম্মেদ চঞ্চলকে ইজারাদার নিয়োগ করে ভ্যাট, আয়কর সহ ৩০লাখ টাকা পৌরসভার রাজস্ব খাতে জমা দিয়েছেন। এদিকে টোল আদায় সংক্রান্তে ২০১৫সালের স্থানীয় সরকার পৌর-১ শাখার স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৬৩.৩১.০০২.১৩-২২৫৪ তারিখ ৩ডিসেম্বর/২০১৫ জারীকৃত ওই বিভাগের উপসচিব সরোজ কুমার নাথ স্বাক্ষরিত এক পরিপত্রে দেশের সিটি কর্পোরেশন/পৌরসভা কর্তৃক মহাসড়কে বিভিন্ন যানবাহন হতে টোল আদায় বন্ধের নির্দেশ প্রদান করেছেন। তবে আঞ্চলিক সড়ক সমূহে এ ধরনের টোল আদায় বন্ধে কোনো নির্দেশনা জারী করেন নাই। বিগত ২৯/০১/২০১৫ ইং তারিখের স্মারক নং- দুপঃ/পৌরঃ/২০১৪-২০১৫/৯৯ স্মারক মূলে স্থানীয় সরকার বিভাগে দুপচাঁচিয়া পৌরসভার ২১/০১/২০১৫ইং তারিখের সভার সিদ্ধান্ত মোতাবেক টোল জাতীয় ফিস আদায়ে (প্রতিটি সিএনজি চালিক অটোরিকশা-১০ টাকা, ভটভটি-১০ টাকা, পিক-আপ/কার-মাইক্রোবাস-১০টাকা, ট্রাক- ২০টাকা, ব্যাটারী চালিত অটোরিকশা-১০টাকা ও টেম্পু-১০টাকা) ফিস আদায়ের অনুমতির জন্য আবেদন জানিয়েছেন। তবে এ আবেদন গ্রহণ বা বাতিল করার কোনো আদেশ স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় আসেনি। পরিসংখ্যানে দেখা যায় পৌর এলাকার উন্নয়ন কল্পে বিগত পৌর পরিষদ যানবাহন থেকে গত ৫বছরে অর্থাৎ ২০১০ সাল হতে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টোল আদায় করেছে ৮লাখ ৪০হাজার। পক্ষান্তরে বর্তমান মেয়র বেলাল হোসেন নির্বাচিত হওয়ার পর তিন ৩বছরে ৭৫লাখ টাকা টোল আদায় করেছে দুপচাঁচিয়া পৌরসভা।
দুপচাঁচিয়া পৌর মেয়র বেলাল হোসেন জানান, পৌরসভার রাজস্ব বৈধভাবে বৃদ্ধির লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার বিভাগের পরিপত্র অনুযায়ী দুপচাঁচিয়া পৌরসভার কর ও টোল আদায়ের কার্যক্রম সুষ্ঠু ও শান্তি পূর্ণভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। একটি মহলের প্ররোচনায় পৌরসভার রাজস্ববৃদ্ধি সহ উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত করার লক্ষ্যেই ষড়যন্ত্রমূলক ও অবৈধভাবে বিক্ষোভ চালানো হচ্ছে। পৌর এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই আমার ও আমার সুযোগ্য পৌর পরিষদের উন্নয়ন কার্যক্রম ব্যহত করার অপপ্রয়াস চালানো হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক পৌরসভার একজন কাউন্সিলর জানান,গরীবের বন্ধু মখোঁশধারী জাহেদুর রহমান শুধু টোল আদায় নয়,পৌর এলাকার অন্নয়ন নিয়েও ষড়যন্ত্র করছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন