বগুড়া সংবাদ ডট কম : গণমাধ্যম ক্ষেত্রে নতুন উদ্ভাবন ক্যাটাগরিতে পিআইবি- সোহেল সামাদ স্মৃতি পুরস্কার ২০১৮ পেয়েছে এটুআই- এর মুক্তপাঠ। আজ বুধবার প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি)-এর সেমিনার কক্ষে এক অনুষ্ঠানে এ পুরস্কার প্রদান করা হয়। পিআইবি পরিচালনা বোর্ডের সদস্য অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান। সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভোরের কাগজ সম্পাদক শ্যামল দত্ত ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের চেয়ারম্যান ড. কাবেরী গায়েন। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন পিআইবি’র মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর।

এছাড়া বক্তব্য দেন এটুআই-এর পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী, সংবাদ পাঠক সমিতির সভাপতি দেওয়ান সাঈদুল হাসান ও প্রয়াত সোহেল সামাদের আত্মীয় সংবাদ পাঠক নিলুফার ইয়াসমীন করিম। মুক্তপাঠের পক্ষে পুরস্কারের চেক, ক্রেস্ট ও সার্টিফিকেট গ্রহণ করেন এটুআই প্রোগ্রামের পলিসি অ্যাডভাইজার আনীর চৌধুরী।

উল্লেখ্য, এটুআই-এর মুক্তপাঠ একটি ই-লার্নিং প্লাটফর্ম। আইসিটি বিভাগ, ইউএনডিপি এবং ইউএসএইড-এর সহায়তায় এটুআই প্রোগ্রাম ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, মুক্তপাঠ সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণে এক নতুন পদ্ধতি, যা সময় ও শ্রম কমিয়ে দিয়েছে। ই-লার্নিং-এর মাধ্যমে সফলভাবে সাংবাদিক প্রশিক্ষণের কাজ পিআইবি ও এটুআই করতে পেরেছে। তিনি বলেন, ঘরে বসে আমরা এ প্রশিক্ষণ নিতে পারছি। তথ্য যোগাযোগ প্রযুক্তি ও গণমাধ্যমের মধ্যে একটা মিল আছে।

গণমাধ্যম মানুষের সঙ্গে মানুষের এবং প্রশাসনের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগের মাধ্যম তৈরি করে দেয়। সমাজ ও রাষ্ট্রীয় জীবনে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং গণমাধ্যম হাত ধরে চলে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করে বলেন, মাত্র ১০টি বছরে তিনি দেশকে কোথায় এগিয়ে নিয়ে গেছেন। ডিজিটাল বাংলাদেশ এখন আর উপহাসের বিষয় নয়। এখন তা বাস্তবে রূপ নিয়েছে। স্বাগত বক্তব্যে পিআইবি মহাপরিচালক মো. শাহ আলমগীর সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, সাংবাদিকতা শিক্ষায় মুক্তপাঠ-এর ভ‚মিকা প্রশংসনীয়।

মুক্তপাঠের মাধ্যমে ৬ হাজারের অধিক ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। শ্যামল দত্ত বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের ফলে এখন গ্রাম ও শহরের দূরত্ব কমে গেছে। কেননা গ্রাম থেকে শহরে আসা একটা ঝামেলার কাজ। গ্রামে বসেই এখন অনলাইনে প্রয়োজনীয় কাজ করা যাচ্ছে। কাবেরী গায়েন ই-লার্নিং-এর উপযোগিতা ও মুক্তপাঠের ভ‚য়সী প্রশংসা করেন। সভাপ্রধানের বক্তব্যে অধ্যাপক ড. সাখাওয়াত আলী খান প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ ও এটুআইকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, অনেক উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমরা অনেক এগিয়ে গিয়েছি। তরুণদের ওপর আমাদের ভরসা। তারা অনেক এগিয়ে গেছে। তিনি বলেন, সাংবাদিকতার এই প্রশিক্ষণে নৈতিকতার ওপর জোর দিতে হবে।

উল্লেখ্য, ১৯৯৯ সাল থেকে প্রয়াত সাংবাদিক ও সংবাদ পাঠক সোহেল সামাদ স্মরণে একটি ট্রাস্ট ফান্ডের মাধ্যমে পিআইবি প্রতিবছর এ পুরস্কার দিয়ে আসছে। সোহেল সামাদের পরিবার এই ট্রাস্টের সিডমানি দাতা। এটুআই-এর মুক্তপাঠ অনলাইনে সাংবাদিকতা শিক্ষা দিচ্ছে। এছাড়াও এ প্লাটফর্ম ভবিষ্যতে বাংলাদেশে নানা বিষয়ে কোর্স পরিচালনা করার ব্যবস্থা নিচ্ছে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন