বগুড়া সংবাদ ডট কম (আদমদীঘি প্রতিনিধি সাগর খান) : বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলায় শব্দ দূষণে জন জীবন অতিষ্ট। যানবাহনের উচ্চ হর্ন, বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কারনে উচ্চ শব্দে মাইকিং, কারখানার শব্দ, আবাসিক এলাকায় ইট ভাঙার মেশিন চালানোসহ বিভিন্ন কারণে আদমদীঘিতে শব্দদূষণের মাত্রা ক্রমেই বাড়ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাব ও পৌর আইনের প্রয়োগ না থাকায় শব্দ দূষণে নাকাল হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী।
আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শহিদুল্লাহ দেওয়ান বলেন, ৩০ থেকে ৩৫ ডেসিবল শব্দ মাত্রায় বিচলিত হওয়া ও ঘুমের ব্যাঘাত, ৬৫ ডেসিবলের ওপর শব্দ মাত্রায় শ্রবন শক্তি হ্রাস এবং ১২০ ডেসিবলের ওপর শব্দ মাত্রায় স্থায়ী ভাবে শ্রবণ শক্তি লোপ পেতে পারে। শব্দ দূষণের কারণে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে শিশুরা। তিন বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের জন্য শব্দ দূষণ শিশুর মানসিক বিকাশের অন্তরায়। আদমদীঘিতে শব্দ দূষণের সব মাত্রাকে ছাড়িয়ে গেছে। সান্তাহার পৌর শহরের মধ্যে দিয়ে চলে যাওয়া সান্তাহার-বগুড়া সড়ক এবং এই সড়কের উভয় পাশে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্টান, বানিজ্যিক কার্যালয় অবস্থিত। এ ছাড়া কয়েকটি ক্লিনিক, উপস্বাস্থ্য কেন্দ্র ও আবাসিক ভবন, এনজিও কার্যালয়, মসজিদ রয়েছে রাস্তার উভয় পাশে। সান্তাহার একাডেমি উচ্চ বিদ্যালয় ও সান্তাহার বি পি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান সড়কের ৫ থেকে ১০ মিটারের মধ্যেই অবস্থিত। শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বা এ জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নীরব এলাকা ঘোষনা করা হয়। এসব এলাকার চতুর্দিকে ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় কোনো প্রকার হর্ন বাজানো যাবে না। আবাসিক এলাকার ৫০০ মিটারের মধ্যে নির্মাণ কাজের জন্য ব্যবহত ইট ভাঙার মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। কোনো উৎসব, সামাজিক বা রাজনৈতিক বা অনুষ্ঠানে লাউড স্পিকার, অ্যামপ্লিফায়ার বা শব্দের মাত্রা বর্ধণকারী অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহার করতে হলে কর্তৃপক্ষের অনুুমতি নিতে হবে। এসব কার্যক্রমে সর্বোচ্চ পাঁচ ঘন্টা এবং রাত ১০ টার পর কোনো ক্রমেই শব্দ দূষণকারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা যাবে না।
সান্তাহার বিপি উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোহসিন আলী বলেন, আমাদের বিদ্যালয়টি সড়ক সংলগ্ন। ফলে যানবাহনের এবং উচ্চমাত্রার হর্নের শব্দে পাঠদান ব্যহত হয়। সান্তাহার পৌর শহরের কয়েকজন শিক্ষক বলেন, পৌরসভার আইন অনুযায়ী বেলা দুইটা থেকে সন্ধা ছয়টা পর্যন্ত মাইকিং করার বিধান রয়েছে। কিন্তু এখানে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের, মাংস বিক্রি সহ নানা কিছুর উচ্চ শব্দে মাইকিং করা হয়। ট্রাক, ট্রাকটরের শব্দে শিশুসহ বড়দের ক্ষতি হচ্ছে। সান্তাহার নাগরিক কমিটির সভাপতি সাবেক অধ্যক্ষ মোসলেম উদ্দীন বলেন, শহরে নিদিষ্ট কোন বাস ষ্ট্যান্ড না থাকায় শহরের ওপর দিয়ে যাওয়া মহাসড়কে ইচ্ছে মতো যাত্রী ওঠানো নামানোর সময় যানবাহনগুলোর উচ্চ হর্নে শব্দ দূষন হচ্ছে। এতে শহরের শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসি ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। আমরা এর প্রতিকার চাই। সান্তাহার প্রেস ক্লাবের সিনিয়র সাংবাদিক খায়রুল ইসলাম বলেন, কর্তৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্টানে গভীর রাত পর্যন্ত উচ্চ শব্দে গানবাজনা করা হয়। হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্টান, আবাসিক এলাকাসহ যেখানে-সেখানে ইট ভাঙার যন্ত্র দিয়ে দিনরাত বিকট শব্দে ইট ভাঙা হয়। এতে উপজেলাবাসী চরম শব্দ দূষণের শিকার হচ্ছে। এসবের কোনো মনিটরিং নেই। সান্তাহার পৌরসভার মেয়র তোফাজ্জল হোসেন ভুট্টু বলেন, উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, যখন-তখন মাইকিং করা মোটেই উচিত নয়। কেউ আইন মানতে চায় না। এখন থেকে বিষয়গুলো দেখভাল করা হবে। আমার পৌর সভায় কোনো সাউন্ড মিটার নেই। আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহি অফিসার সাদেকুর রহমান বলেন, এর আগে বিষয়টি তাঁকে কেউ লিখিত বা মৌখিক ভাবে বলেন নি। এখন থেকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখা হবে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন