bograsangbad_Logoবগুড়া সংবাদ ডট কম (শেরপুর প্রতিনিধি রায়হানুল ইসলাম) : বগুড়ার শেরপুর উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থায় শিক্ষক সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে এ উপজেলার মাদ্রাসা শিক্ষাকার্যক্রম চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এ সংকট নিরসনে যেন দেখার কেউই নেই। কোন কোন মাদ্রাসায় ৫ জন শিক্ষক দিয়ে শত শত ছাত্র ছাত্রীকে পাঠদান করানো হচ্ছে। এর ফলে এ সকল প্রতিষ্ঠান থেকে কোনক্রমেই ভাল ফলাফল আশা করছেনা অভিভাবক ও শিক্ষানুরাগীরা। প্রতিবছর নন গর্ভমেন্ট টির্চাস রেজিস্ট্রেশন এন্ড সার্টিফিকেশন অথরিটি (এনটিআরসিএ)’র মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের চাহিদা মাফিক শিক্ষক সরবরাহের কথা থাকলেও ওই প্রতিষ্ঠানটি শিক্ষক সরবরাহ করছেনা বলে অভিযোগ উঠেছে। তাই এ সংকট থেকে উত্তরণ পাওয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন উপজেলার মাদ্রাসা প্রধানরা। ফলে মফস্বলের অনেক অভিভাবকরা তাদের সন্তানদের বিভিন্ন বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে বেশি অর্থ খরচ করে পড়াশুনা করাতে বাধ্য হচ্ছেন। এমনকি অনেক শিক্ষকরাও তাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করাচ্ছেন। তাছাড়া এসকল এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানে জনগনের টাকায় প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা বেতন প্রদান করা হলেও এর ফল পাচ্ছে না জনসাধারণ।
বগুড়া জেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে জেলার শেরপুর উপজেলার ১৫ টি মাদ্রাসায় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মোট ৩২ জন শিক্ষকের চাহিদা রয়েছে এক দেড় বছর যাবৎ এ সকল প্রতিষ্ঠান প্রধানরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এনটিআরসিএ বরাবর শিক্ষকের চাহিদাপত্র পাঠালেও কোন ব্যবস্থা নিচ্ছেনা এনটিআরসিএ কর্তৃপক্ষ। প্রতিষ্ঠানগুলো হলো-দড়িহাসড়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক গণিত-১ জন, বিরইল শহীদ ফোরকানিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক গণিত-১ জন, সহকারী মৌলভী-১ জন, জুনিয়র শিক্ষক-১ জামুর ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসা- সহকারী শিক্ষক ইংরেজী-১ জন, সহকারী শিক্ষক শরীর চর্চা-১ জন, খাগা দোলং ভি.সি.সি দাখিল মাদ্রাসায় ক্বারী ১ জন, আলতাদীঘি ফাযিল স্নাতক মাদ্রাসায় প্রভাষক আরবী-১ জন, সহকারী শিক্ষক কৃষি-১ জন, কাফুরা সমবায় বালিকা দাখিল মাদ্রাসায় ক্বারী ১ জন, শালফা এস, আর চেীধুরী দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক শরীর চর্চা-১ জন, শাহানগর ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক শরীর চর্চা-১ জন, সহকারী মৌলভী-১ জন, আয়রা জামেউল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক ইংরেজী-১ জন, সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার-১ জন, বেলগাছী দাখিল মাদ্রাসায় ক্বারী-১ জন, ঘৌড়দৌড় এন, পি আলিম মাদ্রাসায় প্রভাষক সাধারণ-২ জন, সহকারী শিক্ষক শরীর চর্চা-১ জন, হাপুনিয়া দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক শরীর চর্চা-১ জন, ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক কম্পিউটার-১ জন, শেরপুর শহীদিয়া কামিল স্নাতকোত্তর মাদ্রাসায় কামিল হাদিস বিভাগ প্রভাষক-২ জন, কামিল ফিক্হ বিভাগ প্রভাষক-২ জন, সহকারী মৌলভী-২ জন, সহকারী শিক্ষক-২ জন, সহকারী শিক্ষক কৃষি-১ জন, ধনকুন্ডি আয়েশা মওলা বক্স দাখিল মাদ্রাসায় সহকারী শিক্ষক-১ জন, সহকারী শিক্ষক শরীর চর্চা-১ জন।
জামুর ইসলামিয়া আলীম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ হাফিজুর রহমান জানান, শিক্ষক সংকট প্রতিষ্ঠানের সুষ্ঠু শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে। ধার করা শিক্ষক দিয়ে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। তাছাড়া অন্য বিষয়ের শিক্ষকরা অনেক সময় ক্লাস নিতে চাননা ফলে, শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানোও সম্ভব হয় না।
ভবানীপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুর রহিম তীব্র শিক্ষক সংকটের কথা তুলে ধরে বলেন, শূন্যপদ পূরনে একাধিকবার কর্তৃপক্ষ বরাবরে চিঠি দেয়া হয়েছে। আধুনিক মানসম্মত শিক্ষা দেওয়ার ইচ্ছা থাকলেও কর্তৃপক্ষের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না এই শিক্ষক সংকটের কারণে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে, এক মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জানান, আমার প্রতিষ্ঠানে লেকচারারসহ সহকারী শিক্ষকের পদ প্রায় দেড় বছর যাবৎ শূন্য আমরা চাহিদা পত্রও দিয়েছি। এদিকে এনটিআরসিএর ১৩তম নিবন্ধনের চূড়ান্ত ফল প্রকাশ হয়েছে ৪ মাস যাবৎ তারপরও তারা শিক্ষক সরবরাহ করছেনা এভাবে চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের ফলাফল আমরা উন্নত করব কিভাবে?
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে, শেরপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ নাজমুল ইসলাম বলেন, উপজেলার প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষক চাহিদাপত্র আমরা বহু আগেই এনটিআরসিএ বরাবর প্রেরণ করেছি। শিক্ষক নিয়োগদান করা সম্পূর্ণ তাদের ব্যাপার।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন