বগুড়া সংবাদ ডট কম (ধুনট প্রতিনিধি ইমরান হোসেন ইমন) : বগুড়ার ধুনটের সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়ে একজনের জমি অন্যদের নামে রেকর্ড করে দেওয়ার অভিযোগ প্রমানিত হয়েছে। এঘটনায় বাংলাদেশ ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মুজিবুল হক ওই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে না মর্মে কারন ব্যাখ্যার নোটিশ প্রদান করেছেন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধুনট উপজেলার তারাকান্দি গ্রামের সাইদুর রহমান ও দিদারুল ইসলাম এলাঙ্গী মৌজার ২২ শতক পৈত্রিক সম্পত্তির উপর অধাপাকা ঘরবাড়ি নির্মান করে প্রায় ৭০ বছর যাবত বসবাস করে আসছেন। সেটেলমেন্ট জরিপ, মাঠ রেকর্ড ও তাদের নামে ডিপি খতিয়ান প্রস্তুত হওয়ার দীর্ঘ ১৭ বছর পর একই গ্রামের মৃত মজিবর রহমান, শহিদার, শামছুল ও চান মিয়াকে ওই জমির দাবীদার উল্লেখ করে ধুনট সেটেলমেন্ট অফিসে ৯৬২২/১৬ নং ভুয়া আপীল কেস সাজানো হয়।
সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমান মোটা অংকের ঘুষ নিয়ে বিবাদী সাইদুর রহমান ও দিদারুল ইসলামকে কোন প্রকার নোটিশ না দিয়েই গত বছরের ২২ নভেম্বর ওই জমি মজিবর, শহিদার, শামছুল ও চাঁনমিয়ার নামে রেকর্ড করে দেয়। বিষয়টি অবগত হওয়ার পর সাইদুর রহমান ও দিদারুল ইসলাম এবিষয়ে প্রতিকার চেয়ে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরে মহাপরিচালক বরাবর একটি অভিযোগ দেয়। অভিযোগটি আমলে নিয়ে ভূমি রেকর্ড ও জরিপ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ মজিবুল হক ধুনট সেটেলমেন্ট অফিস থেকে মৌজা রেকর্ড ও ৯৬২২/১৬ নং কেস নথি তলব করে ঢাকায় নিজ কার্যলয়ে নেন। এরপর ওই কেস নথি যাছাই বাছাই ও পরীক্ষা করে সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে বিবাদীকে কোন প্রকার নোটিশ প্রদান না করে, দখল বিবেচনা না করে, দীর্ঘ ৮ বছরের তামাদী কেস বিবেচনা না করে, সঠিক রায় না দিয়ে ইচ্ছাকৃত ভাবে অবৈধ ও অশুদ্ধ রেকর্ড প্রদানের অভিযোগ প্রমানিত হয়। ফলে ধুনট সেটেলমেন্ট অফিসের দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না মর্মে প্রত্র প্রাপ্তির ১০ দিনের মধ্যে কারন ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
ভূমি জরিপ ও রেকর্ড অধিদপ্তরের ওই কর্মকর্তা অপর এক পত্রে ৪২ এর (ক) ধারায় রেকর্ড সংশোধনের জন্য বগুড়া জোনাল সেটেলমেন্ট কর্মকর্তাকে নির্দেশও দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী সাইদুর রহমান ও দিদারুল ইসলাম জানান, এঘটনার দীর্ঘ ৫ মাস পেরিয়ে গেলেও দূর্নীতিবাজ ঘুষখোর সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে এবিষয়ে সহকারী সেটেলমেন্ট কর্মকর্তা আরিফুর রহমান বলেন, আমি কারন ব্যাখ্যার জবাব দিয়েছি। কর্তৃপক্ষ কি সিদ্ধান্ত নিবেন তা আমি জানি না।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন