বগুড়া সংবাদ ডট কম *জিয়াউর রহমান, বগুড়া থেকে * মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর গণহত্যা ও নির্যাতন বন্ধের দাবীতে বগুড়ায় প্রতিবাদ ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে সুশাসনের জন্য নাগরিক সুজন’র বগুড়া জেলা কমিটি। শনিবার বেলা ১১ থেকে ১২ পর্যন্ত বগুড়া সাতমাথা এলাকায় এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।
সুজন’র বগুড়া জেলা শাখার সহ সভাপতি মাহমুদ হোসেন পিন্টু, সাধারন সম্পাদক হুমায়ন ইসলাম তুহিন, যুগ্ম সাধারন সম্পাদক সেলিম রেজা শানু, সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল লতিফ, লায়নস ক্লাব অব বগুড়া আইডিয়াল’র সভাপতি আতিকুর রহমান মিঠু, আমরা কৃষকের সন্তান বগুড়ার প্রধান সমন্বয়ক রেজাউল করিম দিপন, লিও ক্লাব অব বগুড়া আইডিয়াল’র সভাপতি লিও আসাদুজ্জামান, সাবেক সভাপতি লিও মাহবুব হোসেন অন্ডু, লিও মিজানুল হক প্রিন্স, বীর মুক্তিযোদ্ধা আনোয়ার হোসেন চৌধুরী, সুজন’র শাজাহানপুর উপজেলা শাখার প্রধান উপদেষ্টা মতিউর রহমান শিশু সরকার, সভাপতি সাংবাদিক সাজেদুর রহমান সবুজ, সহ সভাপতি সাংবাদিক শাহিন আলম, য্গ্মু সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক জিয়াউর রহমান, গাবতলী উপজেলা শাখার সাধারন সম্পাদক সাংবাদিক মুসা, জেলা শাখার সদস্য মেহেদী হাসান, শিবগঞ্জ শাখার সদস্য রফিকুল ইসলাম, গাবতলী শাখার সদস্য আল আমিন, আব্দুস সালাম, সরকারী আজিজুল হক কলেজ সুজন বন্ধুর আহবায়ক আরাফাত হোসেন সহ সুজন’র জেলা ও উপজেলা শাখার নেতৃবৃন্দ মানববন্ধন কর্মসূচিতে অংশ গ্রহন করেন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর গণহত্যা ও নির্যাতন চলছে। দেশটির রাখাইন রাজ্যে দীর্ঘদিন থেকে নিপীড়িত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির উপর নতুন করে শুরু হয়েছে এই নির্যাতন ও গণহত্যা। মূলত রাস্ট্রীয় উদ্যোগেই সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সেনা অভিযানের নামে চলছে এই হত্যাযজ্ঞ। রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ১’শ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ঘর-বাড়ি জ্বালিয়ে দেয়া হয়েছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের দেশ থেকে বিতাড়িত করতে ‘পোড়া মাটির নীতি’ অনুসরন করছে। কেননা রোহিঙ্গদের সুপরিকল্পিতভাবে ‘বাঙ্গালী’ হিসেবে নিবন্ধন করা হয়েছে এবং নাগরিকত্ব আইন এমনভাবে করা হয়েছে যেখানে রোহিঙ্গাদের নাগরিক হওয়ার সুযোগ রাখা হয়নি।
বক্তারা আরো বলেন, রোহিঙ্গা নির্যাতনের এই ঘটনা নতুন নয়। এ সমস্যা দীর্ঘদিনের। ১৯৭৭ সালে প্রথম রোহিঙ্গাদের উপর নির্যাতন শুরু করা হয়। এরপর ১৯৯২, ২০১২-১৪ ও ২০১৬ সালে একই ধরনের হত্যা ও নির্যাতন চালিয়ে লক্ষ লক্ষ রোহিঙ্গাদেরকে দেশ থেকে বিতাড়িত করা হয়েছে। ১৯৭৭ সাল থেকে ২০১৬ পর্যন্ত ৪ লক্ষাধিক এবং এবারের প্রায় ৩ লক্ষ মোট ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। যা রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির প্রায় অর্ধেক বলে জানা গেছে। কিন্তু বাংলাদেশ হাজার সমস্যায় জর্জরিত একটি উন্নয়নশীল দেশ। ৭ লক্ষাধিক শরনার্থীর চাপ সহ্য করার মত সক্ষমতা বাংলাদেশের নেই। তাই জরুরি ভিত্তিতে এই সংকট মোকাবেলায় বাংলাদেশের উচিৎ মিয়ানমারের প্রতিবেশী রাষ্ট্রসমুহ সহ বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রকে এই উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত করতে জোড়ালো কুটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাতে হবে। একই সাথে জাতিসংঘ যাতে সংকট উত্তরনে নেতৃত্বের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয় সে জন্য চাপ সৃষ্টি করতে হবে।
বর্তমানে রাখাইনে যে মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে তা থেকে পরিত্রানের জন্য এই মানববন্ধন থেকে বিশ্বের সচেতন ও মানবতাবাদীদেরকে এগিয়ে আসা সহ বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক মহলের কাছে নিম্নের দাবী গুলো তুলে ধরা হয়। ১.অবিলম্বে রাখাইনে গণহত্যা বন্ধ করা হোক। ২.রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে আন্তর্জাতিক মহলসহ জাতিসংঘকে যুক্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদার করা হোক। ৩.জাতিসংঘ কর্তৃক মিয়ানমার সরকারের উপর চাপ সৃষ্টি করে রাখাইনে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনা হোক। ৪.বাংলাদেশে আশ্রিত শরনার্থীদের দ্রুত স্বদেশে ফেরত নেয়া সহ তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও যথাযথ পুনর্বাসনের উদ্যোগ গ্রহন করা হোক। ৫.শরনার্থীদের যথাযথ ভাবে নিবন্ধন করা সহ পরিচয় পত্র প্রদান করা হোক, যতদিন পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরনার্থীরা বাংলাদেশে অবস্থান করবে ততদিন পর্যন্ত তাদের ব্যয়ভার অন্যান্য রাষ্ট্র তথা দাতাগোষ্ঠি কর্তৃক বহন করা হোক। ৬.রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠিকে মিয়ানমার সরকার কর্তৃক নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদান করা হোক। ৭.জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনানের নেতৃত্বে গঠিত ‘রাখাইন রাজ্য বিষয়ক আন্তর্জাতিক পরামর্শক কমিশন’ এর প্রতিবেদনে উল্লেখিত সুপারিশ সমুহ মিয়ানমার সরকার কর্তৃক অবিলম্বে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহন করা হোক। ৮.কোনো জঙ্গিগোষ্ঠি যাতে অস্থিতিশীল এই পরিস্থিতির সুযোগ নিতে না পারে সে জন্য সদা সতর্ক দৃষ্টি রাখা হোকে।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন