বগুড়া সংবাদ ডটকম (রায়হানুল ইসলাম, শেরপুর(বগুড়া)প্রতিনিধি: আদালতের আদেশ উপেক্ষিতকারী বগুড়ার শেরপুরের পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের স্থায়ী বরখাস্তকৃত প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ জোরপূর্বক স্ব-পদে পদায়িত হয়ে গত ১১ আগস্ট লোক দেখানো ম্যানেজিং কমিটির সভা করে চাঞ্চল্যকর ঘটনার সৃষ্টি করলেন।

এতে অভিভাবক প্রতিনিধি শুন্য, পদত্যাগকারী ২ শিক্ষক প্রতিনিধির অবৈধ স্বাক্ষর, কোয়াপ্ট সদস্যের অনুপস্থিতি ও ২দফা নোটিশের জবাব হাতে না নিয়েই ২৪নং সভায় সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাময়িক ভাবে বরখাস্ত করলেন একই বিদ্যালয়ের সহকারি প্রধান শিক্ষক মোজাফ্ফর আলীকে। অপরদিকে নানা হুমকী-ধামকি অব্যাহত থাকার ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন ভুক্তভোগী ওই শিক্ষক।

জানা যায়, শেরপুর পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের তৎকালীন ট্রেড ইন্সট্রাক্টর(ড্রেসমেকিং) পদে নিয়োগে নয়ন রানী পালের কাছ থেকে প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ শেখ, সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোমিন ঘুষ গ্রহন করে চাকুরী না দেয়ায় এবং নয়ন রানী পাল তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ. দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ এনে শেরপুর থানায় ফৌজদারী মামলা নং ২০/৯৫(জি.আর ৯৫/১৪)।

ঘটনার সত্যতা প্রমানিত হওয়ায় ওই প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ(ইনডেক্স নং ২৯৯১১৭), সহকারী শিক্ষক আব্দুল মোমিন(ইনডেক্স নং ৫৫৯৬৮৭)কে স্থায়ী বরখাস্ত ও বেতন ভাতা স্থগিত করে শিক্ষা মন্ত্রনালয়। এদিকে আদালতের উপেক্ষা করে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক পেশী শক্তি ব্যবহার করে জোরপূর্বক স্ব- পদে পদায়িত হয় ওই বরখাস্ত কৃত শিক্ষকদ্বয়। বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেই আবারো শিক্ষকদের সাথে খারাপ ব্যবহার শুরু করে ওই শিক্ষক দ্বয়। এদিকে সহকারি প্রধান শিক্ষক মোজাফ্ফর আলী(ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক) তৎকালীন সময়ে শিক্ষা মন্ত্রনালয়সহ সংশ্লিষ্ট আদেশ নির্দেশ মেনে চলায় তাকে বরখাস্ত করার জন্য উঠেপড়ে লাগে।

এরই ধারাবাহিকতায় ভারপ্রাপ্তকে গত ১৯/০৭/২০১৮ইং তারিখে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় এবং তার জবাব সন্তোষজনক না হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে ০৪/০৮/২০১৮ পুনরায় ২য় দফা কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়। ২য় দফা নোটিশের জবাব হাতে না গ্রহন করলেও ঈর্শ্বান্বিত হয়ে তাকে সাময়িক বরখাস্তের জন্য গত ১১/০৮/২০১৮ইং তারিখে ২৪নং সভা করেন অবৈধ প্রধান শিক্ষকসহ ম্যানেজিং কমিটি। অথচ ম্যানেজিং কমিটির সভার পূর্বেই ৪/০৮/২০১৮ ইং তারিখে ম্যানেজিং কমিটির ২ শিক্ষক প্রতিনিধি সাবিনা সুলতানা, রোজিনা খাতুন, অভিভাবক সদস্য ছহির উদ্দিন, নিতাই সরকার পদত্যাগ করে।

এদিকে ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক প্রতিনিধি শুন্য, কোয়াপ্ট সদস্য অনুপস্থিত, ৪ আগষ্টের পদত্যাগকারী ২ শিক্ষক প্রতিনিধিকে গত ১১ আগস্টের সভায় উপস্থিতি ও তাদের স্বাক্ষর নিয়ে কোরামপূর্ণ করে ওই ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফ্ফর সাময়িক বরখাস্ত করে ১৩ আগষ্ট চিঠি দেয় প্রধান শিক্ষক।

এ প্রসঙ্গে পদত্যাগকারী শিক্ষক প্রতিনিধি রোজিনা ও সাবিনার সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তারা জানান, স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি, তবে পদত্যাগ প্রত্যাহারের কোন আবেদন করা হয়নি। মিটিংয়ের স্বাক্ষর দেয়া ঠিক না বে-ঠিক ম্যানেজিং কমিটি বুঝবে?

এ ব্যাপারে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোজাফ্ফর আলী বলেন, আমাকে অবৈধভাবে বরখাস্তের চেষ্টা স্বরূপ ২দফা কারণ দর্শানো নোটিশ দেয়। এর জবাব আমি গত ৮ আগষ্ট প্রধান শিক্ষকের হাতে দিতে গেলে তিনি গ্রহন করেননি। তাই রেজিষ্টি ডাকযোগে জবাবের চিঠি দেয়া হয়েছে ওইদিনই। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোতে তৎক্ষনাত অবগত করেছি।

এ প্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক আবু সাঈদ শেখ বলেন, শিক্ষক প্রতিনিধি ও অভিভাবক সদস্য পদত্যাগ প্রত্যাহারের কোন চিঠি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে না করলেও ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির নির্দেশে রেজুলেশন করে আমরা মিটিংয়ের কোরাম পূর্ন করে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন