বগুড়া সংবাদ ডট কম (কাহালু প্রতিনিধি এম এ মতিন) : শুক্রবার বিকেলে বগুড়ার কাহালু ঐতিহাসিক রেলওয়ে বটতলায় হৃদয়ে কাহালু সেফগার্ড কেজি স্কুল শাখার আয়োজনে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। জনসভায় সভাপতিত্ব করেন সেফগার্ড কেজি স্কুলের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নূরুনাহার বেগম (নাহার)। উক্ত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাহালু মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি, কাহালু ইউসিসিএলিঃ এর চেয়ারম্যান, উপজেলা নাগরিক কমিটির সভাপতি, কাহালু উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও কাহালু-নন্দীগ্রাম এলাকার আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী মোঃ কামাল উদ্দিন কবিরাজ। প্রধান অতিথি বলেন, ১৯৫৪ সাল থেকে শুরু করে ২০১৭ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬৩ বছরে বাংলাদেশে যে কয়টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয়েছে (১৯৫৪, ১৯৭০, ১৯৭৩, ১৯৭৯, ১৯৮৬, ১৯৮৮, ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১, ২০০৮, ২০১৪ সাল) কোন সংসদ নির্বাচনে কাহালু উপজেলার কোন ব্যক্তিই নৌকা প্রতীক নিয়ে পদপ্রার্থী হননি বা কোন প্রার্থীকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কাহালু উপজেলা একটি বড় উপজেলা, এখানে ভোটার সংখ্যা বেশী। কাহালু উপজেলায় ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা আছে। পক্ষান্তরে নন্দীগ্রামে ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা আছে। সেখানে ভোটার সংখ্যা কাহালু উপজেলার ভোটার সংখ্যা থেকে অনেক কম। এই দিক বিবেচনায় কাহালু-নন্দীগ্রাম সংসদীয় এলাকা থেকে আমি আওয়ামালীগের মনোনয়ন পাবো বলে মনে করি। ১৯৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে কাহালু এই জনপদে জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু বলার মতো কেউ ছিলনা। তখন আমি ছাত্রলীগে যোগদান করে জয়বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু শ্লোগানের মধ্যে দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে অনুপ্রাণিত ব্যক্তিদেরকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হই। দীর্ঘ ১০ বছরে একটানা ছাত্রলীগের দায়িত্বে থেকে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, মহিলা আওয়ামীলীগ, কৃষকলীগ, শ্রমিকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ সহ সহযোগী অঙ্গ সংগঠনকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে নিজেকে নিয়োজিত রেখেছি। আওয়ামীলীগ করাকালীন আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সহ-সভাপতি পদ থেকে স্বৈরাচার এরশাদ বিরোধী আন্দোলন, খালেদা জিয়া বিরোধী আন্দোলন এবং জামায়াত-বিএনপি তথা ৪ দলীয় জোটের বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভাবে অংশগ্রহণ করেছি এবং নেতৃত্ব প্রদান করেছি। জামায়াত-বিএনপি তথা ৪ দলীয় জোটের বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে আমাকে চরম মূল্যে দিতে হয়েছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবরে ৪ দলীয় জোটের সমর্থকেরা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অংশ হিসেবে আমার বাসায় পেট্রোল ছুঁড়ে দিয়ে অগ্নি সংযোগ করে ভুস্মীভূত করেছিল এবং আমাকে ৭টি মিথ্যা মামলার আসামী করা হয়েছিল। কাহালু উপজেলার আওয়ামীলীগের কোন নেতাই এমন ক্ষতির সম্মুখিন হয়নি। সেই দিক বিবেচনা করলে আমিই আওয়ামালীগের মনোনয়ন পাবো বলে বিশ্বাস করি। সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরোও বলেন, আমি কাহালু উপজেলার কেন্দ্রীয় সমবায় সমিতির (বিআরাডিবি) এর বর্তমান চেয়ারম্যান। এই সমিতির অধীনে কাহালু উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে ১’শ ৩১টি সমিতি রয়েছে। ঐ সমিতির সদস্যদের মধ্যে আমার নিবিড় সর্ম্পক এবং সমর্থন রয়েছে যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই। এই ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রার্থীরদের তুলনায় আমার প্রাধান্যটা বেশি। আমি দীর্ঘ ৮ বছর কাহালু উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্ব সফলতার সাথে পালন করে আসছি। দায়িত্ব পালন কালে বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড করেছি যা জনগনের চোখে পড়ার মতো। দেশের যোগ্য নাগরিক গঠনে শিক্ষা, সংস্কৃতি, ক্রীড়ার সর্বক্ষেত্রে ছাত্র-অভিভাবকদের সাথে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন সভা-সমাবেশের মাধ্যমে তাদের সাথে নিবিড় সর্ম্পক স্থাপিত হয়েছে। এই বিদ্যালয় হতে আমার সময়ে প্রায় ১ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যায়ন করছে। আমার প্রতি তাদেরও একটা সমর্থন রয়েছে যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই। স্বাধীনতার মূল্যেবোধ ও চেতনাকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার লক্ষ্যে ২০০১ সালে কাহালু সেফগার্ড কেজি স্কুল প্রতিষ্ঠিত করি। যা এই প্রজন্মের ছেলে-মেয়েদেরকে স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত করছে। প্রতিষ্ঠাকাল থেকে অধ্যবদি শত শত শিক্ষার্থী এই বিদ্যালয়ে অধ্যয়ন শেষে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছে। সেইসব শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথেও আমার নিবিড় সর্ম্পক রয়েছে যা অন্য কোন প্রার্থীর নেই। ১৯৭৫ পরবর্তী আওয়ামীলীগের দুঃসময়ে বঙ্গবন্ধুকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য বিভিন্ন মহল থেকে অপপ্রচার চালানো হয়েছিল। এমনকি স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে বঙ্গবন্ধুর অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তার নাম পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়নি। সেই চরম দুঃসময়ে আমি একটি নাটক রচনা করি এবং নিজে অভিনয়ের মাধ্যমে সমাজে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রতিষ্ঠিত করার সাহসী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করি। এই নাটকের মাধ্যমে কাহালুর এই জনপদে স্বাধীনতার মূল ইতিহাস মানুষ জানতে পারে। যা অন্য কোন প্রার্থী করেনি। সেই দিক থেকে বিবেচনা করলেও আমিই মনোনয়ন পাবো। উপরে উল্লেখিত বিষয়গুলো পর্যালোচনা পূর্বক গণতন্ত্রের মানষকন্যা, দলীয় সভানেত্রী, দেশরত্ন, জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মনোনয়ন দিবে বলে আমি গভীর ভাবে প্রত্যাশা করি। কারণ তিনি দূরদর্শী নেতৃত্বে বিচক্ষণতার সাথে দল এবং দেশ পরিচালনা করছেন। জনসভায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হৃদয়ে কাহালু সেফগার্ড কেজি স্কুল শাখার সদস্য সঞ্চিতা পাল, মৌসমী আক্তার (সিগ্ধা) প্রমূখ। অনুষ্ঠানের সঞ্চালক ছিলেন হৃদয়ে কাহালু সেফগার্ড কেজি স্কুল শাখার সদস্য মিনহাজুল ইসলাম (মাসুম)।

Facebook Comments (ফেসবুকের মাধ্যমে কমেন্ট করুন)

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
আপনার নাম লিখুন